মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

ফুলবাড়ীয়ায় অভিযানে ৮টি করাতকল সিলগালা হলেও অভিযোগের করাতকলের কিছুই হয়নি

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
ফুলবাড়ীয়ায় অভিযানে ৮টি করাতকল সিলগালা হলেও অভিযোগের করাতকলের কিছুই হয়নি

সম্প্রতি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আট করাতকল সিলগালা করা হয়েছে। উপজেলার কালাদহ ও আছিম বাজার এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ তাকী তাজওয়ার ভ্রাম্যমাণ অভিযান করেন। অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযুক্ত করাতকলকে কিছুই করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কল মালিকগণ।

জানাযায়, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহ এলাকায় নতুন একটি করাতকল স্থাপনকে ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি আইন ও বিধি-বিধান উপেক্ষা করে প্রভাবশালী একটি মহল বন কর্মকর্তাদের হাত করে করাতকলের লাইসেন্স আদায়ের চেষ্টা করছে।

এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, কালাদহ মৌজার বি.আর.এস খতিয়ান নং ৪২২, দাগ নং ১১৭০৬–এর মালিক মো. জিন্নাহ করাতকল স্থাপনের জন্য আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উথুরা রেঞ্জ কর্মকর্তার নির্দেশে এনায়েতপুর বিট কর্মকর্তা মো. সেলিম সরেজমিন পরিদর্শন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আবেদনকারীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে অনৈতিকভাবে লাইসেন্সের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত করাতকলের স্থানটি মধুপুর গড়ের সরকারি বনাঞ্চল থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা সরকারের পরিপত্রে উল্লিখিত ১০ কিলোমিটার সীমার স্পষ্ট লঙ্ঘন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মো. জিন্নাহ দীর্ঘদিন ধরে মধুপুর গড় ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে সরকারি কাঠ সংগ্রহ করে চোরাই পথে ব্যবসা করে আসছেন। স্থানীয় বৈধ করাতকল মালিকগণ এ কাজে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নতুন করাতকল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, “বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে অনৈতিক প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। এতে বন সম্পদ হুমকির মুখে পড়বে।”

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় জিন্নাহ ও তার সহযোগীরা এলাকাবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করে করাতকল স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ নং কালাদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক নজরুল, প্রচার সম্পাদক মহাজ্জল এবং আওয়ামী লীগের সাপোর্টার জিন্নাহ সহ ৩ জন একত্রে মোস্তাফিজুর রহমান বুলবুল।

রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। এটা আমার আন্ডারে না উথুরা রেঞ্জে। অভিযানের দিন ঐ করাতকলটি এসিলেন্ড স্যারের চোখে পরেনি। তবে এসিলেন্ড স্যারকে বুঝিয়ে বলেন অবশ্যই তা বন্ধ করে দিবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ারের সাথে কথা বললে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উথুরা রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি ব্যস্ত আছেন রাতে কথা হবে বলে ফোন রেখে দেন।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।