বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ১৪৩২
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ১৪৩২

ময়মনসিংহে ইউনিয়ন হাসপাতালের বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন

খালের উপর দাঁড়িয়ে ১২ তলা ভবন! কে দিল অনুমোদন?

নিজস্ব সংবাদদাতা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩২ এম
খালের উপর দাঁড়িয়ে ১২ তলা ভবন! কে দিল অনুমোদন?

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর আওতাধীন চরপাড়া এলাকায় একটি খালের উপর ও খালের সীমানা লঙ্ঘন করে ১২ তলা ‘ইউনিয়ন হাসপাতাল’ নির্মাণের অভিযোগে নগরজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মৌলিক বিধি বিশেষ করে সেটব্যাক (ফাঁকা জায়গা) পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১২ তলা ভবনের ক্ষেত্রে চারপাশে নির্ধারিত ন্যূনতম ফাঁকা জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক। অথচ সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটি খালের একেবারে গা ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রশস্তকরণের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এতে করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সংকট ও পরিবেশগত ঝুঁকি বহুগুণে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু চরপাড়া নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও ড্রেনের উপর কিংবা সীমানা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ক্রমেই সরু হয়ে যাচ্ছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে।

এদিকে নতুন সরকার গঠনের পর ময়মনসিংহ সদর-এর সংসদ সদস্য তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে অবৈধ দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন এমন প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে খাল, রাস্তা ও ড্রেন দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, দায়ীদের জবাবদিহি এবং বেআইনিভাবে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না তা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনার, যিনি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা ও অনুমোদনের ফাইল তলব করেছেন। বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তুতিও চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, “নগর উন্নয়ন যদি আইন, পরিবেশ ও জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে হয়, তবে তার মূল্য দিতে হয় নাগরিকদের। চরপাড়া খালের উপর হাসপাতাল নির্মাণের ঘটনাটি এখন শুধু একটি ভবনের প্রশ্ন নয়, এটি ময়মনসিংহ শহরের নগর শাসন ও আইন প্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা।”

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দর্শন “দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো”, বাস্তবে বেড়েছে ৩০ লাখ দারিদ্র্য মানুষ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩২ পিএম
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দর্শন “দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো”, বাস্তবে বেড়েছে ৩০ লাখ দারিদ্র্য মানুষ

দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্য বিমোচনের প্রতীকী এক দর্শনের কথা বলে আসছেন, “দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো।” ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তিনি দারিদ্র্যবিরোধী আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। ফলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণের সময় জনগণের প্রত্যাশাও ছিল স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ড. ইউনূস দারিদ্র্য বিমোচনের দর্শন বাস্তবায়নের এক বিরল সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সে সময়কালে দেশে দারিদ্র্য কমার পরিবর্তে নতুন করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন, যা উদ্বেগজনক এবং হতাশাজনক।

অবশ্য এ বাস্তবতার পেছনে কেবল একজন ব্যক্তিকে দায়ী করা কতটা যুক্তিসংগত, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে। অন্তর্বর্তী সরকার মূলত একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বড় ধরনের সম্প্রসারণ এসব উদ্যোগ নেওয়ার মতো রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তাদের থাকে না। উপরন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং পূর্ববর্তী সময়ের কাঠামোগত দুর্বলতাও দারিদ্র্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়, নৈতিক উচ্চতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে কি আরও দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক ছিল? দারিদ্র্য বিমোচন কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাহসী সিদ্ধান্তের সমন্বিত ফল। এ জায়গায় ড. ইউনূসের দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতার মধ্যে এক ধরনের ফাঁক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন একদিকে যেমন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ ছিল, অন্যদিকে তেমনি জনগণের উচ্চ প্রত্যাশার ভারও বহন করছিল। এই অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানোর স্বপ্ন যতই মহৎ হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় বাস্তবতায় তা বাস্তবায়নের পথ অনেক বেশি জটিল ও কঠিন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জাকির হোসেন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫২ পিএম
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জাকির হোসেন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মমেক) এর নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জাকির হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে হাসপাতালের উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, চিকিৎসক ও কর্মচারীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত পরিচালক হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি রোগীদের সেবার মানোন্নয়ন, হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ও সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন পরিচালকের নেতৃত্বে হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত হবে। তারা আশা করেন, রোগীরা আরও উন্নত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং প্রতিষ্ঠানটি একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান এই চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। নতুন পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠন: ২৫ পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪৮ পিএম
নতুন মন্ত্রিসভা গঠন: ২৫ পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার সকালে শপথ গ্রহণ করেছেন। একই দিন বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। এতে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

পূর্ণমন্ত্রী (২৫ জন)

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম (রিতা), শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন (বকুল), ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন) এবং শেখ রবিউল আলম।

প্রতিমন্ত্রী (২৪ জন)

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৌধুরী, এক ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।