শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে ইউনিয়ন হাসপাতালের বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন

খালের উপর দাঁড়িয়ে ১২ তলা ভবন! কে দিল অনুমোদন?

নিজস্ব সংবাদদাতা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩২ এম
খালের উপর দাঁড়িয়ে ১২ তলা ভবন! কে দিল অনুমোদন?

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর আওতাধীন চরপাড়া এলাকায় একটি খালের উপর ও খালের সীমানা লঙ্ঘন করে ১২ তলা ‘ইউনিয়ন হাসপাতাল’ নির্মাণের অভিযোগে নগরজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মৌলিক বিধি বিশেষ করে সেটব্যাক (ফাঁকা জায়গা) পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১২ তলা ভবনের ক্ষেত্রে চারপাশে নির্ধারিত ন্যূনতম ফাঁকা জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক। অথচ সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটি খালের একেবারে গা ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রশস্তকরণের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এতে করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সংকট ও পরিবেশগত ঝুঁকি বহুগুণে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু চরপাড়া নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও ড্রেনের উপর কিংবা সীমানা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ক্রমেই সরু হয়ে যাচ্ছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে।

এদিকে নতুন সরকার গঠনের পর ময়মনসিংহ সদর-এর সংসদ সদস্য তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে অবৈধ দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন এমন প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে খাল, রাস্তা ও ড্রেন দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, দায়ীদের জবাবদিহি এবং বেআইনিভাবে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না তা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনার, যিনি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা ও অনুমোদনের ফাইল তলব করেছেন। বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তুতিও চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, “নগর উন্নয়ন যদি আইন, পরিবেশ ও জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে হয়, তবে তার মূল্য দিতে হয় নাগরিকদের। চরপাড়া খালের উপর হাসপাতাল নির্মাণের ঘটনাটি এখন শুধু একটি ভবনের প্রশ্ন নয়, এটি ময়মনসিংহ শহরের নগর শাসন ও আইন প্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা।”

ময়মনসিংহে পিকআপের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
ময়মনসিংহে পিকআপের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের আলালপুর এলাকায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় একটি সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন হালুয়াঘাট উপজেলার নলুয়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে রুহান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শম্ভুগঞ্জের আলালপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে জাহাঙ্গীর আলম ও তার ছেলে রুহান গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের জমি ‘দখল করে’ পুকুর খননের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে!

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১২:৩৫ এম
বিদ্যালয়ের জমি ‘দখল করে’ পুকুর খননের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে!

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনকে দুই দফা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারী ও এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন নিজ গ্রাম হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হোসেনপুর গ্রামের রুহুল আমিন মাস্টারের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হোসেনপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর–১০ ও দাগ নম্বর–২০১৯ অনুযায়ী জমিটি হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশ জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করেছেন এবং কাটা মাটি নিজের বসতবাড়িতে নিয়ে গেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, পুকুর খননের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করেন এবং খনন করা পুকুর ভরাট করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরে তিনি পুকুর ভরাট না করে নানা টালবাহানা শুরু করেন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে জমিদাতা মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ সালে মিঠামইন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিকার চেয়ে প্রথম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি পরবর্তীতে গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর আবারও লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, “পুকুর খননের বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জানিয়েই করা হয়েছে। তখন তাদের কোনো আপত্তি ছিল না। এখন একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।”

এ বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ট্রফির সঙ্গে বিজয়ীদের হাতে গাছের চারা

গৌরীপুরে ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরিপুর।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
গৌরীপুরে ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা এবং গ্রামে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ইছুলিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় সামাজিক সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ি ফ্রেন্ডস ক্লাব।

খেলায় ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় অংশ নেন। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচটি উপভোগ করতে মাঠের চারপাশে ভিড় জমান স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শকরা। দুই দলের খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবল শৈলী উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। নির্ধারিত সময়ে উভয় দলই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দেয়।

খেলা শেষে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ব্যতিক্রমধর্মী পুরস্কার ব্যবস্থা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে বিজয়ী ও রানার্স-আপ দলের জন্য ট্রফির পাশাপাশি রাখা হয় বিভিন্ন গাছের চারা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আয়োজক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে জমকালো চ্যাম্পিয়ন ট্রফির পাশাপাশি সবুজ গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুবসমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ট্রফির সঙ্গে গাছের চারা পুরস্কার দেওয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক ও পরিবেশবান্ধব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।