বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে ভোক্তার অভিযানে গোমাংস বিনষ্ট করে দশ হাজার টাকা জরিমানার অন্তরালে রহস্য

জাহাঙ্গীর আলম, ভ্রাম্যমান প্রতিদিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫, ৪:৫০ এম
ময়মনসিংহে ভোক্তার অভিযানে গোমাংস বিনষ্ট করে দশ হাজার টাকা জরিমানার অন্তরালে রহস্য

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ বাজারে কুকুর গরু কামড়েছে অভিযোগে “রহিমের গোস্তের দোকান” নামক এক দোকানে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১শত ২০ কেজি গোমাংস বিনষ্ট করাসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভোক্তা অধিকার। এ সময়ে মূল অভিযোগকারী বীরদর্পে সবুজ কসাই মাংস বিক্রেতাকে বলেন “কেমন দেখাইলাম”!

মঙ্গলবার(৪ মার্চ) দুপুরে প্রানী সম্পদ, ভোক্তা অধিকার ও কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কুকুরে কামরানো গরুর মাংসের কোন আলামত জব্দ বা ল্যাব টেষ্ট অথবা ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠিয়ে জীবাণু আছে কি না কোনো রকম পদক্ষেপ গ্রহণ না করেই ঐ দোকানের প্রতিপক্ষ কয়েকজনের মতামতের ভিত্তিতে গোমাংস বিনষ্ট ও জরিমানা আদায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

“রহিমের গোস্তের দোকান” এর সত্ত্বাধিকারী মোঃ আব্দুর রহিম জানান, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ৫/৭ জন তার দোকানে গিয়ে চাঁদাদাবী করে, সে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বলে তুই কুকুরে কামরানো গরুর মাংস বিক্রি করছিস মজা দেখাচ্ছি। একথা বলে ফোন করে ভোক্তা অধিকারকে তাদের দোকানে নিয়ে আসে।

রহিম বলে, তার অনুপস্থিতিতেই প্রভাবশালী কয়েকজনের কথায় প্রায় ১শত ২০ কেজি গোস্ত বিনষ্ট এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে আদায় করা হয়। ঠুনকো তথ্য বিভ্রাট অজুহাতে আমারমত নিরীহ মানুষদের জন্য হাট বাজারে সুনামের সাথে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে গেছে।

স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম জানান, ভোক্তা অধিকারের লোকজন এসে গোস্ত বিনষ্ট করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করলে রহিম ও তার লোকজন দোকানে না থাকায় তার পক্ষে আমি স্বাক্ষর করে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছি।

এবিষয়ে প্রানী সম্পদের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ সোলাইমানের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গোস্ত জব্দ করার সুযোগ নাই, ল্যাব টেস্ট করা হয়নি, উপস্থিত স্থানীয়দের মতামতের উপর ভিত্তি করে খাওয়ার অনুপযোগী হিসেবে গোস্ত মাটিতে পুতে ফেলা হয়েছে।

ভোক্তা অধিকারের এডি জানান, যথাযথ নিয়ম মেনেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি দোষ স্বীকার করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের ব্যবসায়ী একাধিক সুত্র জানায়, সবুজ কসাইয়ের ব্যবসায়ী প্রতিহিংসা ও তার ইন্ধনে একটি প্রভাবশালী মহল ভুল তথ্য দিয়ে ভোক্তা অধিকারকে ব্যবহার করেছে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, ভোক্তা অধিকার অভিযান খুবই প্রয়োজনীয় তবে ভোক্তা অধিকার যেন যথাযথ নিয়ম মেনে অভিযান পরিচালনা করে এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করেন। এক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকারের আরও সচেতন হতে হবে যেন তাদের ভুল তথ্য দিয়ে ব্যক্তি স্বার্থে কোন এজেন্ডার বাস্তবায়ন না হয়।

ময়মনসিংহে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ পেস্টিং খোকন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২০ এম
ময়মনসিংহে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ পেস্টিং খোকন গ্রেফতার

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার আওতায় বিশেষ অভিযানে ২৪ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১ নং পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) মোঃ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় “পেস্টিং খোকন” নামে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে ২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি-সম্পাদকসহ সব পদে বিএনপিপন্থিদের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি-সম্পাদকসহ সব পদে বিএনপিপন্থিদের জয়

ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সবকটি পদেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। ‘সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে অংশ নিয়ে তারা এ বিজয় অর্জন করেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট আবু রেজা মো. ফজলুল হক বাবলু আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল হক ৫৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’-এর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে এম আমান উল্লাহ বাদল পেয়েছেন ২১১ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে একই প্যানেলের অ্যাডভোকেট মমরুজুল হাসান জুয়েল ৭৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম পেয়েছেন ৬০ ভোট।

অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন— সহসভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মীর এমরান আলী পাপেল ও অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব একেএম মইনুল হোসেন মিলন; সহ-সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সজীব সরকার রোকন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান (জামান) ও অ্যাডভোকেট রাইসুল ইসলাম; অডিটর পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম সোহাগ; এবং কার্যকরী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার লিপি, অ্যাডভোকেট রিয়াদ মো. সাঈদ, অ্যাডভোকেট রেজাউল কিবরিয়া (সোহাগ মন্ডল), অ্যাডভোকেট মো. শাহীন আলম, অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন খলিল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট সামির আল রশিদ বিপ্লব।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সমিতি ভবনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। নির্বাচনে মোট ১,০৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ৮৪০ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে গণনা সম্পন্ন হয় এবং শুক্রবার সকালে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম কর্মদক্ষতায় অনন্য এক প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব

মোঃ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম কর্মদক্ষতায় অনন্য এক প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব

রাজধানী ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে নবনিযুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদা খানম। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসনে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ফরিদা খানম ইতিপূর্বেও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফরিদা খানম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন চৌকস কর্মকর্তা। কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি মেধা ও সাহসিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি ডিজিটাল পদ্ধতির সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বদা আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছেন।নারী শিক্ষা এবং বাল্যবিবাহ রোধে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও সংকটকালীন সময়ে তাঁর ধৈর্যশীল এবং কার্যকর নেতৃত্ব প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে

ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফরিদা খানমের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে তাঁর অতীত রেকর্ড বলছে, তিনি ঢাকার মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ জেলার উন্নয়ন এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় সফল হবেন। বিশেষ করে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ঢাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ফরিদা খানমের নেতৃত্বে ঢাকা জেলা প্রশাসন আরও বেশি মানবিক ও কর্মতৎপর হয়ে উঠবে। তাঁর এই নতুন পথচলা ঢাকার সামগ্রিক উন্নয়নে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।