মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ ১৪৩২

দুর্ণীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে কাজ করছেন -ময়মনসিংহের ডিসি মফিদুল আলম

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫, ৩:৪৭ পিএম
দুর্ণীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে কাজ করছেন -ময়মনসিংহের ডিসি মফিদুল আলম

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসনকে একটি দুর্ণীতিমুক্ত,স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রশাসন হিসাবে গড়ার মাধ্যমে একটি জনকল্যাণকর প্রশাসন হিসাবে জনগণকে উপহার দিতে কাজ করে যাচ্ছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম। তিনি ময়মনসিংহে যোগদানের পর থেকেই অবহেলিত ময়মনসিংহ জেলার উন্নয়নে নিরলস কাজ করাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে জেলার প্রতিটি প্রশাসনিক কার্যালয়কে দালাল, ঘুষ, দূর্নীতি, মাদকমুক্ত করে ময়মনসিংহকে মডেল জেলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দিনরাত ছুটে চলেছেন।

ময়মনসিংহবাসী পেয়েছেন অক্লান্ত পরিশ্রমী এক অভিভাবককে । অসহায়, দারিদ্র, নিপিড়িত তথা সুবিধা বঞ্চিত লোকজন ময়মনসিংহে মফিদুল আলম এর যোগদানে তাদের আস্থার জায়গা খুঁজে পেয়েছেন। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ডিসি মফিদুল আলম এ জেলায় গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে যোগদানের পর থেকে তিনি তার দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে সর্বস্তরে সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। এলাকার যে কোন সমস্যা বা সম্ভাবনার তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি সেখানে ছুটে যান খোঁজ নিতে।

বিসিএস ব্যাচ ২৪ এ উত্তীর্ণ প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা এর আগে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের একান্ত সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা গ্রামের মরহুম মাওলানা রশিদ আহমদ ও মরহুমা লুলু মরজানের জ্যেষ্ঠ পুত্র মুফিদুল আলম কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে মেধা তালিকায় ৪র্থ স্থান অধিকার করে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পাস করেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্সসহ এম.বি.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২৪তম বিসিএস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগ দেন। চাকরিজীবনে মুফিদুল আলম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসাবে সন্দ্বীপ, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পানছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় এবং বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের একান্ত সচিব (পিএস), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দুর্নীতি মুক্ত জনপ্রশাসনকে জনকল্যাণে পৌছে দিতে কাজ করে সুনাম অর্জন করেছেন। ময়মনসিংহে যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি তিনি নিজেকে মানবসেবায় সর্বদা নিয়োজিত রেখে চলেছেন। জেলার যে কোনো সমস্যার সমাধানে বিদ্যুতের গতিতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। প্রতিটি এলাকায় শুরু করেছেন উন্নয়নের ছোয়া ও দুস্থ অসহায়দের সহযোগিতা।

এছাড়া যেখানে অনিয়ম দেখছেন সেটাকে তিনি শক্ত হাতে দমন করছেন। নিরপেক্ষ জায়গা হিসাবে সকলে খুজে নিয়েছেন ডিসি মফিদুল আলম কে। ময়মনসিংহকে জলাবদ্ধতা নিরসনে ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও যানজট মুক্ত জেলা গড়তে নিয়েছেন জরুরী পদক্ষেপ। ময়মনসিংহ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ও বিভিন্ন বাজারের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে চেম্বার কমার্স ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ব্যবস্থা করছেন। পরিবেশ সংরক্ষনের জন্যও সকলকে সচেতন করছেন। দুর্ণীতি ও মাদক নির্মূলে অভিযান করার পাশাপাশি নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।

সরকারের খাঁস জমি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে দখলমুক্ত করে সরকারি জিম্মায় আনতে কাজ করছেন। ডিসির নির্দেশে সার্টিফিকেট মামলার কেস নথিগুলো রেগুলার করা হয়েছে। ভিপি আদায় বৃদ্ধির জন্য অচল নথির পুরাতন ইজারাদারকে নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে। বিভিন্ন আইনে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কারণে একদিকে স্বভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন সাধারন জনগন। অপরদিকে জরিমানা আদায়ের ফলে সরকারী কোষাগারে অর্থ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের বরাদ্দকৃত ঘর সহ বিভিন্ন কাজ সঠিক ভাবে মনিটরিং করায় কাজের মান নিয়ে জটিলতা দুর হচ্ছে বলে জনসাধারন মনে করছেন।

জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা মোতাবেক ময়মনসিংহ জেলাকে শতভাগ দুর্ণীতিমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছি। ভূমি দস্যু, দূর্ণীতিবাজ, মাদক, সন্ত্রাস দালালদের কোন অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবেনা। তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে একটি জনকল্যাণমুখী গতিশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সহযোগিতায় মময়মনসিংহ জেলা থেকে অনিয়ম, দূর্ণীতি দূর করাসহ, মাদকমুক্ত করে জেলাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্নের মডেল জেলায় রূপান্তিত করবো ইনশাল্লাহ।

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিশ্বতানের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম
চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিশ্বতানের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিশ্বতানের উদ্যোগে আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) বন্দর নগরী চট্টগ্রামের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, সংগঠক, সংগীত শিল্পী, মানবাধিকারকর্মী ও প্রভাষক নরেন সাহার সভাপতিত্বে এবং আমিনূর রহমান নাহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী দীপক কুমার পালিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন চৌধুরী লিটন। প্রধান আলোচক ছিলেন জাসাস পাঁচলাইশ থানার সভাপতি জি.এম. সাইদুর রহমান মিন্টু। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্নীতি বিরোধী সচেতন পরিষদ বাংলাদেশের মহাসচিব, প্রবাসী নিউজ টিভির সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র উপদেষ্টা নাহিদা আক্তার নাজু এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা আফরোজ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মাইনূল হাসান অভি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চসিক ছাত্রনেত্রী পূর্ণিমা রাধে, আলহাজ্ব মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এ কিউ এম মোসলেহ উদ্দিন, প্রভাষক চন্দ্র কুমার ধর, সহকারী শিক্ষিকা অনামিকা চক্রবর্তী, মানবাধিকার কর্মী ফাতেমা বেগম হেনা (তানিয়া), রাবেয়া সুলতানা সুমী এবং আইনজীবী ও নাট্যকর্মী মোহাম্মদ ফোরকান রাসেল।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাহি, রাশেদুল আলম, আকাশ, কমল, সঞ্জয়, সন্তোষ, পৃথ্বীরাজসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীরা। আন্তর্জাতিক বিশ্বতানের নারী শক্তির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন শীলা মিত্র, অপর্ণা রায় চৌধুরী (সভাপতি), নিভু সেন (সাংগঠনিক সম্পাদক), সুপ্রিয়া দাশ (যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক), শিউলী বড়ুয়া, হৈমন্তী জুঁই, শ্রেয়া, আদি, অরুন্ধতী ও দীপা গোমেজসহ অন্যান্য সদস্যরা।

বক্তারা বলেন, পবিত্র মাহে রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে মানুষের মাঝে আসে। এই মাসে আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত ও বরকত নাজিল হয় এবং মানুষ আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেকে পাপাচার থেকে বিরত রাখার শিক্ষা পায়। রমজান মানুষকে ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।

তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্বতান চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি স্বনামধন্য সংগঠন। এই সংগঠন সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সকল ধর্ম ও মতের মানুষের অংশগ্রহণে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় সভাপতির বক্তব্যে নরেন সাহা সফল আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী নাজিম মীর গ্রেফতার, ইয়াবা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ২:২১ এম
ময়মনসিংহে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী নাজিম মীর গ্রেফতার, ইয়াবা উদ্ধার

ময়মনসিংহে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী নাজিম মীর (৪৩) কে অবশেষে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত নাজিম মীর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার খুরশিদপুর (মহব্বতপুর দরগাবাড়ি) এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম জাকির মীর ও মাতার নাম আছিয়া খাতুন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাজিম মীর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় তাকে গ্রেফতারের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; প্রতিবারই তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।

অবশেষে সোমবার (১৬ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবীরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই মুহসিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত নাজিম মীরের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক সংক্রান্ত ৭টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ভালুকায় সার্ভেয়ার ও উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ভালুকায় সার্ভেয়ার ও উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে অফিসের সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন, সার্টিফিকেট পেশকার খাইরুল ইসলাম এবং মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, খতিয়ান সৃজন, তদন্ত প্রতিবেদন, নামজারি ও অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের উৎকোচ না দিলে কাজ করা হয় না। টাকা না দিলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মনগড়া তথ্য দিয়ে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম ভালুকা ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়মের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন। কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে তিনি প্রতিবেদনে সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করে নানা কৌশলে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন।

উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, হবিরবাড়ী মৌজায় তার পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি ভুলবশত রেকর্ড হওয়ায় সংশোধনের জন্য সার্ভেয়ারের কাছে গেলে তিনি মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করেন।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব সার্ভেয়ারের ওপর পড়লে তিনি তার কাছে ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জমির কাগজপত্র সঠিকভাবে পর্যালোচনা না করেই প্রতিপক্ষের পক্ষে একতরফা প্রতিবেদন দাখিল করেন।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েও। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীর কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই সার্ভেয়ার অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে প্রকৃত জমির মালিক ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হন।

কাচিনা ইউনিয়নের এক সেবাগ্রহীতা জানান, জমির নামজারি খতিয়ান করতে গিয়ে সার্ভেয়ারের কাছে গেলে তাকে বলা হয় রেকর্ডীয় মালিকের জমি নেই। তিনি বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করলে সার্ভেয়ার বালাম খুলে দেখান যে বিক্রেতার নামে গোল চিহ্ন রয়েছে। পরে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন তাকে জানান, এক লাখ ৪০ হাজার টাকা দিলে ওই গোল চিহ্ন তুলে দেওয়া যাবে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে একজনের দখলীয় জমি অন্যজনকে পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। তার চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে চলে যায়। এতে এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ ও উত্তেজনা বাড়ছে।

কাদিনগর, পালাগাও ও তামাট এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, সার্ভেয়ার যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ভিপি সম্পত্তি নিয়েও বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, তার সহযোগীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ তৈরি করে উভয় পক্ষের কাছ থেকেই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে এলাকায় জমি নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না—এমন অভিযোগ তুলেছেন অনেক সেবাপ্রত্যাশী। জমির নামজারি, খতিয়ান দেখা, তদন্ত প্রতিবেদন বা খাজনা আদায়—প্রতিটি ধাপেই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের সময় পরিচয় গোপন রেখে কথা বললে একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করলেও সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন, সার্টিফিকেট পেশকার খাইরুল ইসলাম ও মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের মতো কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার কারণে অফিসের বদনাম কাটছে না। তাদের ঘুষ বাণিজ্যের কারণে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কোনো ফাইলই এসিল্যান্ডের টেবিলে যায় না বলে অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, একটি মিউটেশনের সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও বাস্তবে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের মাধ্যমে এসব অর্থ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কয়েকজন দালালের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অফিস খরচের অজুহাত দেখিয়ে নিজেরাই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন।

এ বিষয়ে একজন সামাজিক বিশ্লেষক বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন চালু হলেও তৃণমূল পর্যায়ে এখনও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে সংস্কারের উদ্যোগ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সেই বার্তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

ভুক্তভোগীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।