বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

দুর্ণীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে কাজ করছেন -ময়মনসিংহের ডিসি মফিদুল আলম

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫, ৩:৪৭ পিএম
দুর্ণীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে কাজ করছেন -ময়মনসিংহের ডিসি মফিদুল আলম

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসনকে একটি দুর্ণীতিমুক্ত,স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রশাসন হিসাবে গড়ার মাধ্যমে একটি জনকল্যাণকর প্রশাসন হিসাবে জনগণকে উপহার দিতে কাজ করে যাচ্ছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম। তিনি ময়মনসিংহে যোগদানের পর থেকেই অবহেলিত ময়মনসিংহ জেলার উন্নয়নে নিরলস কাজ করাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে জেলার প্রতিটি প্রশাসনিক কার্যালয়কে দালাল, ঘুষ, দূর্নীতি, মাদকমুক্ত করে ময়মনসিংহকে মডেল জেলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দিনরাত ছুটে চলেছেন।

ময়মনসিংহবাসী পেয়েছেন অক্লান্ত পরিশ্রমী এক অভিভাবককে । অসহায়, দারিদ্র, নিপিড়িত তথা সুবিধা বঞ্চিত লোকজন ময়মনসিংহে মফিদুল আলম এর যোগদানে তাদের আস্থার জায়গা খুঁজে পেয়েছেন। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ডিসি মফিদুল আলম এ জেলায় গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে যোগদানের পর থেকে তিনি তার দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে সর্বস্তরে সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। এলাকার যে কোন সমস্যা বা সম্ভাবনার তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি সেখানে ছুটে যান খোঁজ নিতে।

বিসিএস ব্যাচ ২৪ এ উত্তীর্ণ প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা এর আগে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের একান্ত সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা গ্রামের মরহুম মাওলানা রশিদ আহমদ ও মরহুমা লুলু মরজানের জ্যেষ্ঠ পুত্র মুফিদুল আলম কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে মেধা তালিকায় ৪র্থ স্থান অধিকার করে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পাস করেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্সসহ এম.বি.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২৪তম বিসিএস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগ দেন। চাকরিজীবনে মুফিদুল আলম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসাবে সন্দ্বীপ, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পানছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় এবং বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের একান্ত সচিব (পিএস), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দুর্নীতি মুক্ত জনপ্রশাসনকে জনকল্যাণে পৌছে দিতে কাজ করে সুনাম অর্জন করেছেন। ময়মনসিংহে যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি তিনি নিজেকে মানবসেবায় সর্বদা নিয়োজিত রেখে চলেছেন। জেলার যে কোনো সমস্যার সমাধানে বিদ্যুতের গতিতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। প্রতিটি এলাকায় শুরু করেছেন উন্নয়নের ছোয়া ও দুস্থ অসহায়দের সহযোগিতা।

এছাড়া যেখানে অনিয়ম দেখছেন সেটাকে তিনি শক্ত হাতে দমন করছেন। নিরপেক্ষ জায়গা হিসাবে সকলে খুজে নিয়েছেন ডিসি মফিদুল আলম কে। ময়মনসিংহকে জলাবদ্ধতা নিরসনে ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও যানজট মুক্ত জেলা গড়তে নিয়েছেন জরুরী পদক্ষেপ। ময়মনসিংহ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ও বিভিন্ন বাজারের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে চেম্বার কমার্স ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ব্যবস্থা করছেন। পরিবেশ সংরক্ষনের জন্যও সকলকে সচেতন করছেন। দুর্ণীতি ও মাদক নির্মূলে অভিযান করার পাশাপাশি নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।

সরকারের খাঁস জমি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে দখলমুক্ত করে সরকারি জিম্মায় আনতে কাজ করছেন। ডিসির নির্দেশে সার্টিফিকেট মামলার কেস নথিগুলো রেগুলার করা হয়েছে। ভিপি আদায় বৃদ্ধির জন্য অচল নথির পুরাতন ইজারাদারকে নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে। বিভিন্ন আইনে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কারণে একদিকে স্বভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন সাধারন জনগন। অপরদিকে জরিমানা আদায়ের ফলে সরকারী কোষাগারে অর্থ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের বরাদ্দকৃত ঘর সহ বিভিন্ন কাজ সঠিক ভাবে মনিটরিং করায় কাজের মান নিয়ে জটিলতা দুর হচ্ছে বলে জনসাধারন মনে করছেন।

জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা মোতাবেক ময়মনসিংহ জেলাকে শতভাগ দুর্ণীতিমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছি। ভূমি দস্যু, দূর্ণীতিবাজ, মাদক, সন্ত্রাস দালালদের কোন অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবেনা। তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে একটি জনকল্যাণমুখী গতিশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সহযোগিতায় মময়মনসিংহ জেলা থেকে অনিয়ম, দূর্ণীতি দূর করাসহ, মাদকমুক্ত করে জেলাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্নের মডেল জেলায় রূপান্তিত করবো ইনশাল্লাহ।

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে এসআই শাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মুক্তা, তামান্না ও রুনা নামের তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ শিবিরুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ এম
ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের একাংশে খাস হালট জমি দখল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দখল কার্যক্রমের ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা খাস জমি দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে করে খালটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। খালটি বালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি বহন করে পাশের ঢাকুয়া ইউনিয়নে পৌঁছে দেয়, যা পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাল ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পড়েছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল খালটি পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।

ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আকুয়া মড়লপাড়া এলাকায় এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বর্তমানে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা হাফিজুন নাহার তার স্বামী শফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আলীপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মাসুদ রানার সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গার্মেন্টস পণ্যের শিপমেন্ট ব্যবসায় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ৩ মে ও ৫ জুন দুই দফায় মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে মূল টাকা ও লভ্যাংশসহ মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন বলেও দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাওনা টাকা চাইতে ফোন করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একদিকে তারা অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে অভিযুক্তের হুমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কোতোয়ালী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।