বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিয়োগ বাণিজ্য ও জমি দখল- সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যুবলীগ সভাপতি সেলিম!

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিয়োগ বাণিজ্য ও জমি দখল- সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যুবলীগ সভাপতি সেলিম!

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্য, কৃষিজমি দখলের চেষ্টা, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভাবখালী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন সেলিম। ওই সময় মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী, ঝাড়ুদারসহ একাধিক পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই মাদ্রাসায় জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রায় ৭ লাখ টাকা এবং নারায়নপুর তোরার মোড় জামে মসজিদের ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ভাবখালী মৌজায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ভাসমান কিছু জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন ফসলি জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপনে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে ভাবখালী গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাশে কৃষিজমিতে পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নামে জমি কেনার উদ্যোগ নেন সেলিম। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই জমিগুলোতে গম, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, ধান ও পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ফসল চাষ হয়। প্রতিবছর এসব জমি থেকে কয়েক হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৯ সাল থেকে এলাকায় পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও সাবেক যুবলীগ নেতা ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর নেতৃত্বে কিছু দালালের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে জমি কেনার চেষ্টা শুরু হয়। তবে অধিকাংশ কৃষক জমি বিক্রি করতে অনিচ্ছুক থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়াই কিছু জমিতে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড বসানো হলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা তা ভেঙে ফেলেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বারের ছেলে মকবুল হোসেন বলেন, “গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা এই কৃষিজমি। কিন্তু প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা করে সেলিম কৃষকদের মতামত ছাড়াই শিল্পকারখানা নির্মাণের পায়তারা করছেন। ইতোমধ্যে অনেকের জমি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জমি ছেড়ে দিতে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকিও দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “জমি রক্ষা ও জনজীবন নিরাপদ রাখতে আমরা বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ময়মনসিংহ ও আশপাশের এলাকায় জমি কেনাবেচা, দালালি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যেও তিনি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ময়মনসিংহ ও নিজ এলাকায় হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী ময়নার মোড় এলাকায় জমিসহ একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের ভাবখালী গ্রামের মাথালিয়া বাড়ি এলাকায়। স্কুলজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ভাবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী মীরের হাত ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। পরে ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ভাবখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক যোগাযোগের সূত্র ধরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। পরবর্তীতে বিশেষ সুপারিশে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে কাগজে-কলমে দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিস করতেন না এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় থেকেই জমি কেনাবেচা, দালালি, ঘুষ ও মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেলিম। বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার জন্য জমি কেনার ব্যবস্থা করে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকরা আপত্তি জানালে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে তা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর জাল করা বা নকল সিলমোহর ব্যবহার করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়।

তবে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আইনের আওতায় এলেও সেলিম এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলছেন, সেলিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।