শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিয়োগ বাণিজ্য ও জমি দখল- সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যুবলীগ সভাপতি সেলিম!

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিয়োগ বাণিজ্য ও জমি দখল- সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যুবলীগ সভাপতি সেলিম!

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্য, কৃষিজমি দখলের চেষ্টা, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভাবখালী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন সেলিম। ওই সময় মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী, ঝাড়ুদারসহ একাধিক পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই মাদ্রাসায় জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রায় ৭ লাখ টাকা এবং নারায়নপুর তোরার মোড় জামে মসজিদের ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ভাবখালী মৌজায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ভাসমান কিছু জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন ফসলি জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপনে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে ভাবখালী গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাশে কৃষিজমিতে পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নামে জমি কেনার উদ্যোগ নেন সেলিম। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই জমিগুলোতে গম, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, ধান ও পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ফসল চাষ হয়। প্রতিবছর এসব জমি থেকে কয়েক হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৯ সাল থেকে এলাকায় পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও সাবেক যুবলীগ নেতা ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর নেতৃত্বে কিছু দালালের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে জমি কেনার চেষ্টা শুরু হয়। তবে অধিকাংশ কৃষক জমি বিক্রি করতে অনিচ্ছুক থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়াই কিছু জমিতে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড বসানো হলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা তা ভেঙে ফেলেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বারের ছেলে মকবুল হোসেন বলেন, “গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা এই কৃষিজমি। কিন্তু প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা করে সেলিম কৃষকদের মতামত ছাড়াই শিল্পকারখানা নির্মাণের পায়তারা করছেন। ইতোমধ্যে অনেকের জমি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জমি ছেড়ে দিতে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকিও দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “জমি রক্ষা ও জনজীবন নিরাপদ রাখতে আমরা বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ময়মনসিংহ ও আশপাশের এলাকায় জমি কেনাবেচা, দালালি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যেও তিনি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ময়মনসিংহ ও নিজ এলাকায় হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী ময়নার মোড় এলাকায় জমিসহ একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের ভাবখালী গ্রামের মাথালিয়া বাড়ি এলাকায়। স্কুলজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ভাবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী মীরের হাত ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। পরে ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ভাবখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক যোগাযোগের সূত্র ধরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। পরবর্তীতে বিশেষ সুপারিশে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে কাগজে-কলমে দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিস করতেন না এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় থেকেই জমি কেনাবেচা, দালালি, ঘুষ ও মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেলিম। বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার জন্য জমি কেনার ব্যবস্থা করে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকরা আপত্তি জানালে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে তা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর জাল করা বা নকল সিলমোহর ব্যবহার করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়।

তবে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আইনের আওতায় এলেও সেলিম এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলছেন, সেলিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। একই দিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ জেলা সার্কেলের যৌথ আয়োজনে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আজকের এই আয়োজন মানবিক হলেও এটি আনন্দের নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলেও তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এর হার উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও জনগণের সচেতনতার বিকল্প নেই। রাস্তা পারাপারে সতর্কতা অবলম্বন, ফুটপাত ও মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং সড়ক আইন মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সড়ক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। যানবাহন চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে হবে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে গাড়ি চালানো কিংবা রাস্তা পার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধি, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী সরকারের ঘোষিত “পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি”-এর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলা লেডিস ক্লাব প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

মিঠামইনে ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণায় ছাত্রদল নেতা খোকা

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:৩৯ এম
মিঠামইনে ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণায় ছাত্রদল নেতা খোকা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ৪ নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে আগাম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা। হাওরবেষ্টিত ঘাগড়া ইউনিয়নের সিহারা গ্রামে জন্ম নেওয়া খোকা ছাত্রজীবন থেকেই এলাকার মানুষের সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় স্থানীয়দের কাছে একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।

নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন। তাঁর লক্ষ্য নির্বাচনের আগেই জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জন করা।

মোকাররম হোসেন খোকা বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে পুরো মেয়াদজুড়ে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করব। বিশেষ করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বর্ষাকালে হাওর অঞ্চলের যোগাযোগ সমস্যা দূরীকরণ, রাস্তা-কালভার্ট সংস্কার ও নতুন সড়ক নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে আধুনিক কৃষি উপকরণ সরবরাহ, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ধোবাজোড়া ও সিহারা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, খোকা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করছেন। এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান তারা।

গত কয়েক দিনে সিহারা, ধোবাজোড়া এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে ধারাবাহিক উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেছেন খোকা। এসব বৈঠকে তিনি স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথা শুনছেন এবং নির্বাচিত হলে সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। তাঁর এই তৃণমূলভিত্তিক প্রচারণা ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাওরাঞ্চলে জনসম্পৃক্ত ও মাঠমুখী নেতাদের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। সে বিবেচনায় মোকাররম হোসেন খোকার আগাম প্রচারণা তাঁকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে রাখতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে তাঁর এই প্রচারণা কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ময়মনসিংহে ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ময়মনসিংহে ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আটক

ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকায় জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাইফুল ওরফে সাইফুল মিয়াকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করে সাইফুল ও তার সহযোগীরা। চাঁদার দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়ে তারা নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি আহত হন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সাইফুল ওরফে সাইফুল মিয়াকে আটক করে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।