বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৯ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৯ ১৪৩২

ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ৮ প্রকল্পের ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে দুদক

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:২০ পিএম
ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ৮ প্রকল্পের ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে দুদক

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী, প্রকল্প সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এডিপি’র ৮ প্রকল্পের ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার সংবাদ প্রকাশের পর প্রকল্প গুলো পরিদর্শন করেন জেলা দুদকের কর্মকর্তারা। পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে দুদক। রবিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ দুদকের সহকারি পরিচালক বুলু মিয়া প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন।

 

সূত্র জানায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ৮টি প্রকল্প নেয়া হয়। প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ৭৫ লাখ টাকা। ৮টি প্রকল্প দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কাগজে কলমে প্রকল্প দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকল্পের কাজই হয়নি। প্রকল্পের কাজ হয়েছে তা খুঁজেই পাওয়া যায়নি। কিন্তু সব ক’টি প্রকল্পের টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদের এডিপি’র বরাদ্দের এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের এলজিইডি) মাধ্যমে।

 

প্রকল্পগুলোর হলো ইছাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য ১০ লাখ টাকা, আন্ধারিয়াপাড়া বিডিএস দাখিল মাদ্রাসা ১০ লাখ টাকা, কাচিচূড়া উচ্চ বিদ্যালয় ১০ লাখ টাকা, সলেমন নেছা এতিমখানা ও দাখিল মাদ্রাসা ১০ লাখ, অন্নেশন উচ্চ বিদ্যালয় ১০ লাখ টাকা, উপজেলা পরিষদের রাস্তা (HB) করণ ১০ লাখ, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ১০ লাখ, উপজেলা চেয়ারম্যানের কোয়ার্টার মেরামত ৫ লাখ টাকা।

 

ওই ৮টি প্রকল্পের কাজ ৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ দিয়ে কাজ না করে টাকা উত্তোলন করে ভাগ-বাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করে উপজেলা প্রকৌশলি, প্রকল্প সভাপতি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ, অর্ণব এন্টারপ্রাইজ, উড়ালাল এন্টারপ্রাইজ। গত ২৫ জুন ৭৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

 

সম্প্রতি ৮টি প্রকল্প এলাকায় সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, কোনো প্রকল্পে কাজই হয়নি। অথচ কাগজে কলমে সব ক’টি প্রকল্পই বাস্তবায়িত দেখানো হয়েছে। অন্বেষণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য যে কাজ করার কথা ছিল, তার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন খান বলেন, আমি বরাদ্দের বিষয়ে জানতাম না, গত কয়েকদিন আগে শুনেছি, আমাকে ইঞ্জিনিয়ার অফিস বলেছে পানির সাপ্লাই লাইন করে দিবে আমি না করে দিয়েছি। উপস্থিত অভিভাবকগণ বলেন, সরকারি টাকা এভাবেই কাজ না করে আরও অনেক টাকা খেয়েছেন।

 

ইচাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কারের নামে কাজ কিছুই হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. নজিবা আক্তার বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানতাম না, গত ৮ ডিসেম্বর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একজন আমাকে জানায়, পরে আমি উপজেলা প্রকৌশলি অফিসে গিয়ে দেখব পাঁচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বসে আছেন। এসময় প্রকৌশলি আমাদের জানায়, আপনাদের জন্য সরকার থেকে কিছু বরাদ্দ আছে। আমাদের চেয়ার, টেবিল, একটি ল্যাপটপ দেবেন। তবে, এসব বিষয়ে আমি কিছু না বলে আমার নামে ১০ লাখ টাকার প্রকল্প আছে, টাকা উঠিয়ে ফেলেছেন কীভাবে? আমাকে কাজ বুঝিয়ে দিলেন না কেন? কাজের বিলে সই-স্বাক্ষর নিলেন না। তাহলে কীভাবে হলো অবশ্যই আমার সই স্বাক্ষর জাল করে এসব করেছেন।

 

সলেমন নেছা এতিমখানা ও দাখিল মাদ্রাসা জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ১০ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। সেখানেও কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। কলেজ শিক্ষক নাজমুল হক বলেন, যাদের মন-মানসিকতা নোংরা তারাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করতে পারে এবং তারাই পদোন্নতি পায়। ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী জালালের সম্পৃক্ততা থাকায় আমরা কিছু বলেননি।

 

প্রসাদ এন্টারপ্রাইজের বিশ্বজিৎ বলেন, ৮ টি প্রকল্পের মাঝে ৩টি প্রকল্পের কাজ হয়েছে। বাকি প্রকল্পের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

 

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, কোনো কাজ হয়নি ঠিক, তবে টাকা আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সকল টাকা পে-অর্ডার করে রেখেছি। টাকা ফেরত দিয়ে দেবো। ৭৫ লাখ টাকার মাঝে ২৫ লাখ টাকার হিসাব ইউএনও জানেন। এবিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (বদলিকৃত) কাবেরি জালাল কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

ময়মনসিংহ দুদকের সহকারি পরিচালক বুলু মিয়া বলেন, উপজেলা ৮ টি প্রকল্পে জন্য ৭৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশনের অনুমোদন প্রাপ্ত হয়ে আমরা আজকে অভিযান পরিচালনা করি। অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ প্রকল্পে আমরা সরজমিনে যাচাইবাছাই করছি। যাচাই কালে আমরা অভিযোগে সত্যতা পেয়েছি। দেখা গেছে যে, কোন কোন জায়গায় কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়েছে এবং কোন কোন জায়গায় কাজ এখনও চলমান দেখিয়ে পূর্বেই টাকা উঠিয়ে নিছে। বিশেষ করে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির কাজ আমরা দেখেছি আপনারা ও দেখেছেন, এখনও কাজ চলমান, অথচ বিল অনেক আগে তুলে নিয়েছে। উপজেলা পরিষদের পিছনে যে এইচবিপি রাস্তাটা রয়েছে আমাদের কাছে দেখে মনে হয়েছে অনেক আগের দু-এক জায়গায় সংস্কার হয়েছে। সংস্কার হওয়া মানেই রাস্তাটা অনেক আগের তার উপর ঘাস হয়ে গেছে। প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে পায়নি। তিনি সম্প্রতি বদলী হয়ে অন্য জায়গায় চলে গেছেন। উনার দায়িত্বে বর্তমানে ভূমি কমিশনার রয়েছেন। উনার সাথে আমার কথা হয়েছে এবং উপজেলা প্রকৌশলী ময়মনসিংহে অফিসিয়াল কাজে আছেন। আমরা যা পেয়েছি। সে রেকর্ড অনুযায়ী কমিশন বরাবর দাগিল করবো কতৃপক্ষ যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৫ এম
ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ময়মনসিংহ জেলা শাখার আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) নগরীর গ্রীন পার্ক রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সুধীজনরা অংশগ্রহণ করেন। রমজানের পবিত্রতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা, সমাজের কল্যাণ ও দেশ-জাতির উন্নতির জন্য একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান জুয়েল আকন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজচিন্তক ড. ইদ্রিস খান। প্রধান অতিথি হিসেবে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ৩ ইন্সপেক্টরসহ তাজুল ইসলাম।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাপ্তি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্শেদ কামাল মিজান।

প্রধান আলোচক ড. ইদ্রিস খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই মাস আমাদেরকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজ জাতির বিবেক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইইউজে)’র সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের পেশার মানউন্নয়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, মফস্বল সাংবাদিকরা অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারষ্পরিক সম্পর্ক জোরধার করার আহবান জানিয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে এবং পেশাগত উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এ ধরনের ইফতার মাহফিল সাংবাদিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশ বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য গড়ে তোলা বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজের উন্নয়ন ও কল্যাণে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পবিত্র রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। তারা সমাজে ন্যায়, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, জনকণ্ঠ প্রতিনিধি, আলমগীর কবির উজ্জ্বল, আমার সংবাদ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল আমিন, এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি তাসলিমা রত্না সহ ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ ময়মনসিংহের কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে উপস্থিত সকলের মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়। আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

ময়মনসিংহে ৩২ নম্বর ওয়ার্ড অফিস স্থাপনের স্থান নিয়ে বিতর্ক!

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১০:১১ পিএম
ময়মনসিংহে ৩২ নম্বর ওয়ার্ড অফিস স্থাপনের স্থান নিয়ে বিতর্ক!

ময়মনসিংহ নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ড অফিস স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ওয়ার্ডবাসীর অভিযোগ, প্রস্তাবিত স্থানটি অধিকাংশ মানুষের জন্য দূরবর্তী হওয়ায় নাগরিক সেবা গ্রহণে ভোগান্তি বাড়তে পারে।

স্থানীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, Mymensingh City Corporation-এর ৩২ নম্বর ওয়ার্ড অফিসের জন্য নির্ধারিত বর্তমান স্থানটি ওয়ার্ডের অনেক বাসিন্দার জন্য সুবিধাজনক নয়। এতে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষকে নাগরিক সেবা গ্রহণের জন্য দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হতে পারে।

নাগরিকদের মতে, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও সাধারণ মানুষের জন্য এত দূরত্ব অতিক্রম করা কষ্টসাধ্য হবে। এতে সরকারের ঘোষিত নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মূল লক্ষ্যও ব্যাহত হতে পারে।

আবেদনকারীরা উল্লেখ করেছেন, Constitution of Bangladesh-এর অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) এবং অনুচ্ছেদ ৩১ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক সমানভাবে প্রশাসনিক সেবা পাওয়ার অধিকারী।

এছাড়া Local Government (City Corporation) Act, 2009 অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য, স্বচ্ছ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা।

সরকারের Digital Bangladesh ও Smart Bangladesh বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নাগরিক সেবা সহজলভ্য করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে Local Government Division এবং a2i Programme-এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

নাগরিকদের মতে, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডেও আধুনিক নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হলে মানুষ দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা পেতে পারবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়ার্ড অফিস স্থাপনের জন্য যে জমি নির্বাচন করা হয়েছে সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ে বা বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের মালিকানাধীন হতে পারে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এসব জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করলে ভবিষ্যতে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সচেতন নাগরিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ওয়ার্ডবাসীর দাবি, নাগরিকদের মতামত বিবেচনা করে অধিকাংশ মানুষের জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য চায়না মোড় এলাকায় ৩২ নম্বর ওয়ার্ড অফিস স্থাপন করা হলে হাজারো মানুষ উপকৃত হবে।

ওয়ার্ডবাসীর পক্ষে উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা বিপ্লব নিভ বলেন, “নাগরিকদের সুবিধা বিবেচনা করেই ওয়ার্ড অফিসের স্থান নির্ধারণ করা উচিত। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে এমন স্থানে অফিস স্থাপন করুক, যেখানে অধিকাংশ মানুষ সহজে সেবা নিতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ময়মনসিংহের চর নিলক্ষীয়ায় বিএনপি’র আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম
ময়মনসিংহের চর নিলক্ষীয়ায় বিএনপি’র আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

ময়মনসিংহ সদরে ৭নং চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে রাজগঞ্জ সাহেব কাচারি বাজারে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) মহানগর যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহমুদুল হাসান রাসেলের সভাপতিত্বে ও মহসিন আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালী বিএনপি’র আহ্বায়ক হেলাল আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াহিয়া হোসেন শাহীন, সদস্য সচিব, মোঃ আজহারুল ইসলাম বুলবুল সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ সদস্য, আব্দুস ছালাম।

ইফতার পূর্ব মিলাদ ও মোনাজাত পাঠ করা হয়।