মিঠামইনে কৃষক তালিকা নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত চান অভিযুক্ত কর্মকর্তাও
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলামও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গোপদিঘী ইউনিয়নের ৩৬২ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে ওই তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে অ-কৃষক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৭ জুন ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, তালিকায় অনেক প্রকৃত কৃষকের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তালিকা প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। তাদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম এবং সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী দুই ব্যক্তির নামও তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “যারা বছরের পর বছর মাঠে কাজ করে ফসল হারিয়েছেন, তাদের নাম তালিকায় নেই। অথচ যারা কখনো কৃষিকাজ করেননি, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটি স্পষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ।”
বিক্ষোভ শেষে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করে নতুন তালিকা প্রণয়ন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি এককভাবে তালিকা তৈরি করিনি। আমি মাত্র ২৫টি নাম প্রস্তাব করেছি। বাকি নামগুলো ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা ঘুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে আমিও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইউএনও কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র কৃষকদের স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। খাসাপুর গ্রামের দুদু মিয়া (৬০), মসুরিয়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন (৩৭) ও পুরান বগাদিয়া গ্রামের হোসেন আলীসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে দাবি করেছেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাজুল ইসলামকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের ভাষ্য, স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় জড়িত রয়েছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য সহায়তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।











