মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ৫

ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাহিন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকাল ৫টার দিকে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের গাঙ্গের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রানা মিয়া একই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। স্বজনদের দাবি, তিনি বিএনপির কর্মী ছিলেন।

আহতরা হলেন:- আশাদ (৩৬), মোফাজ্জল (৩৫), শাহান (৪৫), মুনসুর আলী (৫০), শাকিল (৩০) ও দিনি মিয়া (৩৫)।

অভিযুক্ত মাহিন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও শম্ভুগঞ্জ সাংগঠনিক থানার আমীর মো. মফিদুল ইসলাম (মাস্টার)-এর ছেলে। অপর ছেলে ফাহিমের নামও এ ঘটনায় আলোচনায় এসেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

নিহত রানার স্বজন মাহাবুল বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিএনপির পক্ষে কাজ করেছি ও ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। এরপর থেকে জামায়াত নেতা মফিদুল মাস্টারের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছিল। গত সোমবার মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা ফুটবল খেলা শেষে আমাদের বাড়ির সামনে দোকানে তরল পানীয় কিনতে আসে। এসময় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে তরল পানীয় খাচ্ছে বলে আমাদের পক্ষের লোকজন হেয় করে কথা বলে। এতে তারা ভোটের জেদ মেটাতে মারধরের হুমকি দিয়ে চলে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর রাতে আবারও মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। পরে মফিদুল মাস্টার নিজে এসে বিষয়টি মিমাংসা করে চলে যান। কিন্তু মঙ্গলবার বিকালে তিনি অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে এসে হামলা চালান। হামলার সময় তার ছেলে মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকের পাশে আঘাত করে। এতে রানা গুরুতর আহত হন এবং আরও ৫ জন আহত হন।”

পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানা মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাই তোফাজ্জল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ভাইকে বিনা কারণে মফিদুল মাস্টারের ছেলে ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করেছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ময়মনসিংহে পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চর হাসাদিয়া খাঁপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে আব্দুল বাসেত (৩৫) নামে এক যুবককে লাঠিপেটা করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত আপন ছোট ভাই রাসেদুল ইসলাম (৩০)।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত সোমবার সন্ধ্যায়ও কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত বাসেতকে অভিযুক্ত রাসেদুল ইসলাম মারধর করেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় আবারও কোনো বিষয় নিয়ে বাসেত ও রাসেদুলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা একটি লাঠি দিয়ে বড় ভাই বাসেতের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন রাসেদুল। বাসেতের চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরগঞ্জে দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন শিপনের মৃত্যু

ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম
ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরগঞ্জে দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন শিপনের মৃত্যু

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর ও চরআলগী গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঈদের দিন শুরু হওয়া তর্কবিতর্কের জেরে ঈদের তৃতীয় দিনে দুই গ্রামের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একটি বিয়ে বাড়ির আয়োজন পণ্ড হয়ে যায়। পাশাপাশি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। আগুনে পুড়ে গেছে শতাধিক খড়ের গাদা।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা মো. শিপন মিয়া (১৮) মারা গেছেন। তিনি মরিচারচর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি পরে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরোধে রূপ নেয়। ঈদের তৃতীয় দিনে সেই বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি বিয়ে বাড়ির আয়োজন ভেস্তে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। একই সঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় শতাধিক খড়ের গাদায়, ফলে বহু পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

শিপন মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা চালায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

মিঠামইনে জেলে সাইদুর হত্যা

মামলা তুলে নিতে বিধবা মাকে হুমকির অভিযোগ, দ্রুত বিচার চায় নিঃস্ব পরিবার

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৩:৪৩ পিএম
মামলা তুলে নিতে বিধবা মাকে হুমকির অভিযোগ, দ্রুত বিচার চায় নিঃস্ব পরিবার

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে জেলে সাইদুর রহমান (২৮) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে নিহতের পরিবার। মামলার এক আসামি গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। উল্টো মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের মা ও মামলার বাদী মোছা. সামছুন্নেহার।

গত ২৭ মে রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের ধলাই গ্রামের সাইদুর রহমান তার দুই ভাই আনিসুর রহমান ও আতাবুর রহমানকে নিয়ে মুশুরিয়া গ্রামের ডেওয়ারখালির হাওরে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বকুল মিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের পূর্ব বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই সময় মো. নওয়াব আলী (৫২), রাজন মিয়া (৩৭), সিয়াম মিয়া (১৯), বকুল মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়াসহ ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দুই ভাইকে মারধর করার পর সাইদুর রহমানের হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে বল্লম দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন ২৮ মে নিহতের মা মোছা. সামছুন্নেহার বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-২১।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে প্রধান আসামি নওয়াব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

তবে বাদী সামছুন্নেহার অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষের লোকজন নিয়মিত মামলা তুলে নিতে তাকে হুমকি দিচ্ছে।

সরেজমিনে ধলাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত সাইদুরের পরিবার একেবারেই নিঃস্ব। দুই ভাইকে নিয়ে মাছ ধরে সংসার চালাতেন তিনি। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

নিহতের স্ত্রী উর্মি আক্তার এক বছরের শিশু সন্তান আবির হাসানকে কোলে নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী প্রতিদিন মাছ ধরে বাড়ি ফিরত। সেদিন আর ফিরল না। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই। আমার ছেলেটার দিকে তাকিয়ে হলেও যেন দ্রুত বিচার হয়।”

নিহতের মা সামছুন্নেহার, শাশুড়ি আঙ্গুরা বেগম, ছোট দুই ভাই ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারটি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তাও চেয়েছে।