সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরগঞ্জে দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন শিপনের মৃত্যু

ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম
ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরগঞ্জে দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন শিপনের মৃত্যু

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর ও চরআলগী গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঈদের দিন শুরু হওয়া তর্কবিতর্কের জেরে ঈদের তৃতীয় দিনে দুই গ্রামের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একটি বিয়ে বাড়ির আয়োজন পণ্ড হয়ে যায়। পাশাপাশি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। আগুনে পুড়ে গেছে শতাধিক খড়ের গাদা।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা মো. শিপন মিয়া (১৮) মারা গেছেন। তিনি মরিচারচর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি পরে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরোধে রূপ নেয়। ঈদের তৃতীয় দিনে সেই বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি বিয়ে বাড়ির আয়োজন ভেস্তে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। একই সঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় শতাধিক খড়ের গাদায়, ফলে বহু পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

শিপন মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা চালায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

মিঠামইনে জেলে সাইদুর হত্যা

মামলা তুলে নিতে বিধবা মাকে হুমকির অভিযোগ, দ্রুত বিচার চায় নিঃস্ব পরিবার

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৩:৪৩ পিএম
মামলা তুলে নিতে বিধবা মাকে হুমকির অভিযোগ, দ্রুত বিচার চায় নিঃস্ব পরিবার

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে জেলে সাইদুর রহমান (২৮) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে নিহতের পরিবার। মামলার এক আসামি গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। উল্টো মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের মা ও মামলার বাদী মোছা. সামছুন্নেহার।

গত ২৭ মে রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের ধলাই গ্রামের সাইদুর রহমান তার দুই ভাই আনিসুর রহমান ও আতাবুর রহমানকে নিয়ে মুশুরিয়া গ্রামের ডেওয়ারখালির হাওরে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বকুল মিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের পূর্ব বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই সময় মো. নওয়াব আলী (৫২), রাজন মিয়া (৩৭), সিয়াম মিয়া (১৯), বকুল মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়াসহ ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দুই ভাইকে মারধর করার পর সাইদুর রহমানের হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে বল্লম দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন ২৮ মে নিহতের মা মোছা. সামছুন্নেহার বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-২১।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে প্রধান আসামি নওয়াব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

তবে বাদী সামছুন্নেহার অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষের লোকজন নিয়মিত মামলা তুলে নিতে তাকে হুমকি দিচ্ছে।

সরেজমিনে ধলাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত সাইদুরের পরিবার একেবারেই নিঃস্ব। দুই ভাইকে নিয়ে মাছ ধরে সংসার চালাতেন তিনি। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

নিহতের স্ত্রী উর্মি আক্তার এক বছরের শিশু সন্তান আবির হাসানকে কোলে নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী প্রতিদিন মাছ ধরে বাড়ি ফিরত। সেদিন আর ফিরল না। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই। আমার ছেলেটার দিকে তাকিয়ে হলেও যেন দ্রুত বিচার হয়।”

নিহতের মা সামছুন্নেহার, শাশুড়ি আঙ্গুরা বেগম, ছোট দুই ভাই ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারটি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তাও চেয়েছে।

ঈদ-পরবর্তী যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহে বিআরটিএর ব্যাপক তৎপরতা

সুমন ভট্টাচার্য, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম
ঈদ-পরবর্তী যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহে বিআরটিএর ব্যাপক তৎপরতা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং পরিবহন খাতে অনিয়ম রোধে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ভিজিলেন্স টিম গঠন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

শনিবার (৩১ মে) সারাদিন ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ টার্মিনাল, মাসকান্দা বাস টার্মিনাল এবং ঢাকা বাইপাস এলাকায় বিআরটিএ ময়মনসিংহ সার্কেলের উদ্যোগে যাত্রী সচেতনতামূলক মাইকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া প্রদান না করা, নির্ধারিত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, নিরাপদে সড়ক পারাপার এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর বিষয়ে সচেতন করা হয়।

ঈদ-পরবর্তী যাত্রীসেবার মান বজায় রাখতে মোটর মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং জেলা ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। টার্মিনাল থেকে প্রতিটি যানবাহন ছাড়ার আগে ভিজিলেন্স টিম যানবাহনের কাগজপত্র, যাত্রীসংখ্যা ও ভাড়া সংক্রান্ত বিষয় যাচাই-বাছাই করছে।

বিআরটিএ ময়মনসিংহ সার্কেলের পক্ষ থেকে প্রতিটি গাড়ি ছাড়ার আগে চালকদের সচেতনতামূলক ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং ট্রাফিক সাইন ও সিগন্যাল মেনে সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে সড়কে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত-১৯ এবং ঈদ উপলক্ষে গঠিত স্পেশাল মোবাইল কোর্ট টিম। এসব টিম অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রী হয়রানির অভিযোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ রাখতে যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে পরিচালিত ন্যাশনাল হেল্পলাইন সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে। যাত্রীরা সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা তথ্য হেল্পলাইনের মাধ্যমে জানাতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ, নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও হয়রানিমুক্ত।

ময়মনসিংহে পিকআপের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
ময়মনসিংহে পিকআপের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের আলালপুর এলাকায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় একটি সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন হালুয়াঘাট উপজেলার নলুয়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে রুহান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শম্ভুগঞ্জের আলালপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে জাহাঙ্গীর আলম ও তার ছেলে রুহান গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।