শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ, কেন্দ্রবিন্দুতে দীপক মজুমদার

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ, কেন্দ্রবিন্দুতে দীপক মজুমদার

উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিষ্ঠানকেই ঘিরে উঠছে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ এখন নগরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে সিটি কর্পোরেশনের খাদ্য ও স্যানিটেশন কর্মকর্তা দীপক মজুমদার (কমল)। দীর্ঘদিন ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ নতুন করে সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে, সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে কি গড়ে উঠেছে কোনো প্রভাবশালী অনিয়মের বলয়?

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, দীপক মজুমদার দীর্ঘ সময় ধরে একই বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাধারণভাবে প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দক্ষতা বাড়ানোর কথা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই পদে থাকার সুযোগে একটি শক্ত প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে, যার কারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে।

একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকা মানেই সেখানে অঘোষিত একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়া। এতে অনেক সময় সিদ্ধান্ত ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা কমে যায়।”

দীপক মজুমদারকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অতীতেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।

বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় বিদেশি অনুদানে পাওয়া সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং পাচারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

সে সময় কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয় ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। তবে সেই অভিযোগের বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন বা বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে অভিযোগগুলো সময়ের সঙ্গে চাপা পড়লেও প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে অমীমাংসিত।

সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উঠা অভিযোগগুলো আরও গুরুতর। অভিযোগ রয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও স্যানিটেশন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ঘুরে দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হচ্ছে বাস্তবে কাজের মানের সঙ্গে ব্যয়ের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প আংশিক বাস্তবায়ন হলেও কাগজে পূর্ণ ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।

একজন ঠিকাদার বলেন, “কিছু প্রকল্পে যে বাজেট দেখানো হয়, বাস্তবে সেই পরিমাণ কাজ করা হয় না। কিন্তু হিসাব কাগজে ঠিকই দেখানো হয়।”

আগেও দুদকের অভিযানে মিলেছিল অনিয়মের প্রমাণ

বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযোগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান পরিচালনা করেছিল।

সেসব অভিযানে উঠে এসেছিল, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের কাজ, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম

সমস্যাটি কি কোনো একক কর্মকর্তাকে ঘিরে, নাকি পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেই রয়েছে গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা?

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কর্মকর্তা, দুর্বল তদারকি এবং সীমিত জবাবদিহিতা মিলেই তৈরি হয়েছে একটি অভ্যন্তরীণ চক্র।

একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্প অনুমোদন, ঠিকাদার নির্বাচন, অর্থ ছাড়, ব্যয়ের হিসাব এই সবগুলো পর্যায়েই অস্বচ্ছতা রয়েছে।

যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয় বরং একটি সংগঠিত প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দীপক মজুমদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তার এই নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়ায় জনমনে সন্দেহ আরও বাড়ছে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

তবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, শুধু অভ্যন্তরীণ যাচাই নয়—এই অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

তাদের দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু একজন কর্মকর্তা নয়, সংশ্লিষ্ট পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাওয়া এই সিটি কর্পোরেশনকে ঘিরে বারবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।

অভিযোগগুলো কি সত্যিই তদন্তের মুখ দেখবে, নাকি আগের মতোই সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাবে?

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ এখন শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং জনস্বার্থের একটি বড় প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

এই অভিযোগগুলোর সত্যতা কি সামনে আসবে, নাকি আবারও অন্ধকারেই থেকে যাবে পুরো ঘটনা?

(চলবে)

হত্যা মামলার আসামির হাতেই গুণীজন সংবর্ধনা, মঞ্চে ইউএনও-ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
হত্যা মামলার আসামির হাতেই গুণীজন সংবর্ধনা, মঞ্চে ইউএনও-ওসি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে আয়োজিত এক গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং সম্মাননা পদক বিতরণে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে ওই আসামি নিজেই পদক বিতরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে গৌরীপুর পৌর শহরে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন মানব কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশন আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই রাতে গৌরীপুর শহরের সতিষা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয় মানিক মিয়া (৪০)-কে একদল দুর্বৃত্ত তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. আহম্মদ আলীর ছেলে আল ইমরান খান (৩২)-সহ আটজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। আল ইমরান ওই মামলার তিন নম্বর আসামি।

মামলা দায়েরের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তারা উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন লাভ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেই জামিনে থাকা অবস্থাতেই বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আল ইমরান বিভিন্ন গুণীজনের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১১ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা, গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম শহীদ।

অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, অতিথিদের উপস্থিতিতেই আল ইমরান খান মঞ্চে অবস্থান করে সম্মাননা প্রদান কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। পরে তিনি নিজ ফেসবুক আইডিতে পদক বিতরণের ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ বিষয়ে আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মন্ডল বলেন, “আল ইমরান খান যে অনুষ্ঠানে আসবেন, তা আমাদের জানা ছিল না। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি হঠাৎ মঞ্চে উঠে পড়েন। ওই পরিস্থিতিতে তাকে বের করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। একটি সুন্দর আয়োজন একজন হত্যা মামলার আসামির উপস্থিতির কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া হাবিবুল ইসলাম শহীদ বলেন, “আমি গুণীজনের তালিকায় ছিলাম। মাইকে আমার নাম ঘোষণা করার পর আল ইমরানসহ কয়েকজন আমার হাতে পদক তুলে দেন। তিনি হত্যা মামলার আসামি-এ তথ্য আগে জানলে কখনোই তার হাত থেকে পদক গ্রহণ করতাম না।”

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে চিনিও না। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”

অন্যদিকে, বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় নিহত মানিক মিয়ার পরিবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিহতের ভাই শুক মিয়া বলেন, “এখন কিছু বলতে গেলেই আরও বিপদ হতে পারে। তাই আর কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না।”

হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির প্রকাশ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মঞ্চে উঠে সম্মাননা পদক বিতরণ এবং অনুষ্ঠান শেষে সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কি না, সেদিকে এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ এম
গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

আইন ও বিচারব্যবস্থার মুখচ্ছবি যখন অপরাধীদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সত্যকে থমকে দেওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু তাকে চিরতরে রুখে দেওয়া যায় না। গাজীপুরে প্রভাবশালীদের চোখ রাঙানি, চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব এবং পুলিশের চরম পক্ষপাতমূলক আচরণের বলির পাঁঠা হতে বসেছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে আইনের শাসন বিজয়ী হয়েছে এবং মিথ্যা, সাজানো মামলার কলঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন এই সাংবাদিক।

জানা যায়, জয়দেবপুর রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে তোলা দোকানপাট, কলাপট্টি এলাকার রাস্তা আটকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে অবাধ চাঁদাবাজির মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধকে কেন্দ্র করে। প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় যখন এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল, তখন সরেজমিনে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন। কিন্তু অপরাধের অন্ধকার জগত উন্মোচনের মাসুল তাঁকে দিতে হয় নিজের রক্ত দিয়ে। গত বছরের ৬ আগস্টে তথ্য ও স্থিরচিত্র সংগ্রহের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিক আনোয়ারের ওপর চড়াও হয় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। প্রকাশ্যে তাঁকে মারধর, ইট দিয়ে পা থেঁতলে দেওয়া এবং তথ্য সংগৃহীত মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনা সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এরপরও পুলিশের টনক নড়েনি।

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে, এই হামলাকারীরা সাধারণ কোনো দুষ্কৃতকারী নয়, তারা ইতিপূর্বে প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল উঁচিয়ে গোলাগুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টার সদর থানার ১৩(১০)২০২৪ নং মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। তবে ঘটনার আসল মোড় ঘোরে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও প্রভাবশালী মহলের গোপন আঁতাতের চিত্র সামনে আসার পর। জিএমপি কমিশনারের মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজু সাহা শিরোনামে খোলামেলা সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রশাসন ও অপরাধী চক্র। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সত্যের তোয়াক্কা না করে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ না জানিয়ে, প্রতিশোধের এক হিংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের ৩ দিনই সাংবাদিক আনোয়ারকে দমাতে সাজানো হয় এক কাল্পনিক চাঁদাবাজির নাটক। ১৮ দিন আগের পুরোনো এক মিথ্যা ঘটনা বানিয়ে চিহ্নিত সেই সন্ত্রাসীকে দিয়ে পেনাল কোডের ৩৮৫/৩৮৬ ধারায় সাংবাদিক আনোয়ারের বিরুদ্ধেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জিএমপি সদর থানার ৪৪(৮)২৫ নং মামলা। সত্য প্রকাশ করায় সংবাদকর্মীকে আইনি জালে ফাঁসিয়ে মুখ বন্ধ করার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলে।

তবে জালিয়াতি ও ক্ষমতার ক্ষমতার দাপটে বোনা মিথ্যার জাল শেষ পর্যন্ত আদালতেই ছিঁড়ে গেছে। মামলার খুঁটিনাটি ও মিথ্যা প্রসিকিউশন পর্যালোচনা শেষে গাজীপুরের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওমর হায়দার সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে এই ভিত্তিহীন মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস প্রদান করেছেন।

আদালতের এই রায় কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জয় নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সন্ত্রাসী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী চক্রের করা কুৎসিত আক্রমণের বিরুদ্ধে এক মোক্ষম চড়াও। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, সংবাদপত্রের সত্য প্রকাশকে মিথ্যা মামলা বা প্রশাসনিক পেশিশক্তি দিয়ে দমানো যায় না, সত্যের জয় অনিবার্য।

ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীর নাটকঘর লেনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুক (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১নং পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বুধবার নগরীর নাটকঘর লেন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পিসিপিআর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ফারুকের পিতা মৃত আনোয়ার হোসেন এবং মাতা নাজমা বেগম। তার বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই ও চুরিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ আরও জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পলাতক ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।