সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ ১৪৩২
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ ১৪৩২

গোপালগঞ্জে সাংবাদিক শিহাবকে ডেকে নিয়ে সংঘর্ষের মামলায় গ্রেপ্তারঃ বিএমইউজে’র নিন্দা প্রতিবাদ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ৬:২৪ পিএম
গোপালগঞ্জে সাংবাদিক শিহাবকে ডেকে নিয়ে সংঘর্ষের মামলায় গ্রেপ্তারঃ বিএমইউজে’র নিন্দা প্রতিবাদ

গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে চলমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে সাংবাদিক মো. শিহাব উদ্দিন মোল্লাকে ডেকে নিয়ে বিনা মামলায় আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তাকে এনসিপি কেন্দ্র সংঘর্ষ ও হামলা মামলায় আসামি করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) কেন্দ্রীয় সভাপতি সোহেল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান।

নেতৃবৃন্দ গভীর উৎকন্ঠা প্রকাশ করে বলেন, যে ঘটনায় সাংবাদিকের জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা নাই এরুপ ঘটনায় সন্দেহ পোষণ করে কারাগারে প্রেরণ অমানবিকতার বহির্প্রকাশ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে সাংবাদিক সিহাব এর মুক্তি দাবি করেন।

গত বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। শিহাব প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সদস্য এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমএসইউ) গোপালগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

জানা যায়, প্রেসক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অপসারণকে কেন্দ্র করে সভাপতি জুবায়ের হোসেন ও সাধারণ সম্পাদকপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ১০ আগস্ট সকালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এসএম সাব্বির বঙ্গবন্ধুর ছবি পুনরায় টাঙিয়ে দেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার ও পুলিশী হয়রানির অভিযোগ উঠতে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেসক্লাব সভাপতি জুবায়ের হোসেন বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বর্তমানে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি। অপরদিকে মহাসচিব এসএম সাব্বির আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শিহাব ওই সময় ভিডিও ধারণকারীদের মধ্যে ছিলেন বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে এসআই জুবায়েরের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল ‘পুলিশ সুপার ডেকেছেন’ বলে শিহাবকে থানায় নিয়ে যায়। পরে কোনো লিখিত মামলা ছাড়াই তাকে আটক দেখানো হয়। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর তাকে গোপালগঞ্জে এনসিপি সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মামলায় আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন, সাংবাদিক শিহাবের গ্রেফতার রাজনৈতিক প্রভাবিত পদক্ষেপ। তারা অভিযোগ করেন, কারাগারে তার সঙ্গে বৈরী আচরণ করা হচ্ছে। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকে জেল একাউন্টে ২০০০ টাকা জমা দেওয়া হলেও মাত্র ১৫০০ টাকা জমা হয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া মাইগ্রেন সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ (টাফনিল) সেবন করলেও জেলগেটে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পরও সপ্তাহব্যাপী তা হাতে পাচ্ছেন না তিনি।

এ নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—কোন প্রভাবশালী মহলের নির্দেশে একজন সাংবাদিক এভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন? সাধারণ মানুষের অভিমত, এ ধরনের ঘটনা অতীতের রাজনৈতিক সরকারের দলীয় প্রভাবিত পুলিশি কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যা পুলিশের প্রতি জনআস্থা আরও ক্ষুণ্ন করছে ।

গৌরীপুর থানায় ডিউটি অফিসার এএসআই আরমানের দায়িত্ব অবহেলা

গৌরীপুর প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
গৌরীপুর থানায় ডিউটি অফিসার এএসআই আরমানের দায়িত্ব অবহেলা

থানা হলো সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। কিন্তু ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানায় গেলে দেখা মেলে ভিন্ন এক চিত্রের। খোদ ডিউটি অফিসারের চেয়ারই খালি! জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি এএসআই আরমানকে। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে ‘দৈনিক জনবাণী’র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আনোয়ার হোসেনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে থানার এমন লেজেগোবরে দশা। বিষয়টি নিয়ে খোদ ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জানা যায়, বিকেল আনুমানিক ৫টা। একটি বিকাশ প্রতারক চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গৌরীপুর থানায় প্রবেশ করেন সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। কিন্তু থানার মূল প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘ডিউটি অফিসার’-এর ডেস্কে গিয়ে দেখা যায় সেটি জনশূন্য। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও দেখা মেলেনি দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই আরমানের। একজন সংবাদকর্মী তথ্য সংগ্রহে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হন, তবে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কী দশা হয়, তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।

থানার ভেতরে এমন দায়িত্ব অবহেলা দেখে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বিষয়টি সরাসরি মোবাইল ফোনে অবহিত করেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসানকে। পুলিশ সুপার বিষয়টি শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে ডিউটি চলাকালীন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, ডিউটি অফিসারে দায়িত্বে থেকে অবহেলা করলে পুলিশ আইনের ৭ ধারা এবং পিআরবি-এর ৮৮০ বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব অবহেলার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, পুলিশ জনগণের বন্ধু, এই স্লোগান যেন শুধু দেয়ালের লেখা হয়েই আছে। ডিউটি অফিসারের অনুপস্থিতিতে জিডি বা অভিযোগ দিতে আসা ভুক্তভোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে বাধ্য হন। এএসআই আরমানের এই দায়িত্ব অবহেলা কি ব্যক্তিগত ইচ্ছা নাকি থানার প্রশাসনের কোনো গাফিলতি, তা নিয়ে এখন এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সুপারের এই কঠোর বার্তায় গৌরীপুর থানার কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে যেন এই অনিয়মের অবসান ঘটে।

এবিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ডিউটি অফিসারের থানার বাহিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এবিষয়ে অনুসন্ধান সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রশীদ

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৫ পিএম
তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রশীদ

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে তারাকান্দা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য, অনন্তপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশীদ।

ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা। এই দিনে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাই একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।

তিনি আরও বলেন, ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো মানবতার কল্যাণে কাজ করা, সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ঈদের এই পবিত্র মুহূর্তে তিনি সকলকে ভেদাভেদ ভুলে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মোঃ আব্দুর রশীদ তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “আমি তারাকান্দা উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রিয় তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানাই। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন।”

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ঈদের আনন্দ সবার জীবনে বয়ে আনবে নতুন আশা ও সম্ভাবনা, আর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে।

সবাইকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা – ঈদ মোবারক।

মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

মাদকবিরোধী কার্যক্রমে এক কথিত মাদকসেবীর সম্পৃক্ততা ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া বাজার এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা দেওয়ার মতোই অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য ঘটনা।”

অভিযোগ রয়েছে, শান্ত (প্রায় ২৫), যিনি স্থানীয়ভাবে ওলামা লীগের একজন পদধারী নেতা হিসেবে পরিচিত, তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত। এলাকাবাসীর দাবি, নিজের ঘর ও মহল্লায় তিনি মাদকসেবী হিসেবেই বেশি পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মা আছমা খাতুন, এক প্রবীণ সাংবাদিক চাচা এবং প্রবাসী এক ফুফুর বিরুদ্ধেও একাধিকবার আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

এমন একজন ব্যক্তির মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এই কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে শান্ত মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

কিছু মহল এটিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, “এটি মূলত মাদকসংক্রান্ত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, একে সাংবাদিক নির্যাতন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না হলে এমন বিতর্ক ও অবিশ্বাস আরও বাড়বে।