বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

গোপালগঞ্জে সাংবাদিক শিহাবকে ডেকে নিয়ে সংঘর্ষের মামলায় গ্রেপ্তারঃ বিএমইউজে’র নিন্দা প্রতিবাদ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ৬:২৪ পিএম
গোপালগঞ্জে সাংবাদিক শিহাবকে ডেকে নিয়ে সংঘর্ষের মামলায় গ্রেপ্তারঃ বিএমইউজে’র নিন্দা প্রতিবাদ

গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে চলমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে সাংবাদিক মো. শিহাব উদ্দিন মোল্লাকে ডেকে নিয়ে বিনা মামলায় আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তাকে এনসিপি কেন্দ্র সংঘর্ষ ও হামলা মামলায় আসামি করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) কেন্দ্রীয় সভাপতি সোহেল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান।

নেতৃবৃন্দ গভীর উৎকন্ঠা প্রকাশ করে বলেন, যে ঘটনায় সাংবাদিকের জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা নাই এরুপ ঘটনায় সন্দেহ পোষণ করে কারাগারে প্রেরণ অমানবিকতার বহির্প্রকাশ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে সাংবাদিক সিহাব এর মুক্তি দাবি করেন।

গত বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। শিহাব প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সদস্য এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমএসইউ) গোপালগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

জানা যায়, প্রেসক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অপসারণকে কেন্দ্র করে সভাপতি জুবায়ের হোসেন ও সাধারণ সম্পাদকপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ১০ আগস্ট সকালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এসএম সাব্বির বঙ্গবন্ধুর ছবি পুনরায় টাঙিয়ে দেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার ও পুলিশী হয়রানির অভিযোগ উঠতে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেসক্লাব সভাপতি জুবায়ের হোসেন বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বর্তমানে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি। অপরদিকে মহাসচিব এসএম সাব্বির আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শিহাব ওই সময় ভিডিও ধারণকারীদের মধ্যে ছিলেন বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে এসআই জুবায়েরের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল ‘পুলিশ সুপার ডেকেছেন’ বলে শিহাবকে থানায় নিয়ে যায়। পরে কোনো লিখিত মামলা ছাড়াই তাকে আটক দেখানো হয়। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর তাকে গোপালগঞ্জে এনসিপি সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মামলায় আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন, সাংবাদিক শিহাবের গ্রেফতার রাজনৈতিক প্রভাবিত পদক্ষেপ। তারা অভিযোগ করেন, কারাগারে তার সঙ্গে বৈরী আচরণ করা হচ্ছে। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকে জেল একাউন্টে ২০০০ টাকা জমা দেওয়া হলেও মাত্র ১৫০০ টাকা জমা হয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া মাইগ্রেন সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ (টাফনিল) সেবন করলেও জেলগেটে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পরও সপ্তাহব্যাপী তা হাতে পাচ্ছেন না তিনি।

এ নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—কোন প্রভাবশালী মহলের নির্দেশে একজন সাংবাদিক এভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন? সাধারণ মানুষের অভিমত, এ ধরনের ঘটনা অতীতের রাজনৈতিক সরকারের দলীয় প্রভাবিত পুলিশি কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যা পুলিশের প্রতি জনআস্থা আরও ক্ষুণ্ন করছে ।

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর ঘটা রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১.৭ শতাংশ ঘটনার সাথে বিএনপি যুক্ত।

আজ (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ২০.৭ শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ৭.৭ শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী এবং ১.২ শতাংশ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে।

‘স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটির ফলাফল টিআইবি-র সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ করা হয়।

টিআইবি জানায়, বিভিন্ন দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৫০টিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, আর ১২৪টি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সদস্যরা জড়িত ছিল। এই সময়ে জামায়াত ৪৬টি ঘটনায় জড়িত ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবি-র মতে, সরকার পতনের পর আগে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের দখল নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, সিলেটের পাথর কোয়ারি ও নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন এবং ব্রিজ, বাজার, ঘাট, বালু মহাল ও জলাশয়ের ইজারা দখলের লড়াই।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকাংশেই অকার্যকর ছিল এবং দলগুলো সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নিজ কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তফসিলের পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
তফসিলের পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী: টিআইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ মাসে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৭ হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫০টি ঘটনায় (৯১ দশমিক ৭ শতাংশ) বিএনপি, ১২৪টি ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ (২০ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং ৪৬টি ঘটনায় (৭ দশমিক ৭ শতাংশ) জামায়াতে ইসলামী সম্পৃক্ত ছিল।

টিআইবি জানায়, তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ৪০১ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১ হাজার ৩৩৩ অস্ত্র নিখোঁজ ছাড়াও ডিপফেক ও ভুল তথ্যের বাড়তি হুমকি, সংখ্যালঘুদের ওপর পঞ্চাশের বেশি হামলার ফলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, আন্দোলন, লুটপাট, অরাজকতা অব্যাহত রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৬৭ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৫৫ কোটি ডলারে নেমে আসে। যা ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ময়মনসিংহে অলিম্পিক ভিলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায়ের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায়ের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও ধৈর্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ সফরকালে তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট থাকে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তিনি নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এর আগে ও পরে সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ত্রিশালে প্রস্তাবিত ‘অলিম্পিক ভিলেজ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, অলিম্পিক ভিলেজ আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।