বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ ১৪৩২
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ ১৪৩২

ভৈরবে ছিঁচকে পকেটমার থেকে শত কোটি টাকার মালিক মূর্তিমান আতঙ্ক মিন্টু ধরাছোঁয়ার বাইরে

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫, ৮:১৬ পিএম
ভৈরবে ছিঁচকে পকেটমার থেকে শত কোটি টাকার মালিক মূর্তিমান আতঙ্ক মিন্টু ধরাছোঁয়ার বাইরে

ছিঁচকে পকেটমার ছিনতাইকারী থেকে নেতা ও ভূমিদস্যুতা করে শত কোটি টাকার মালিক মূর্তিমান আতঙ্ক মিন্টু এখনো রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন মিন্টু। জুলাই বিপ্লবের পর সহিংসতার মামলায় লাপাত্তা মিন্টু সম্পদ লুকাতে স্ত্রীকে সাজিয়েছিল ব্যবসায়ী। ভৈরব থানার কাছে তার প্রাসাদোপম জান্নাত হোটেল ছিল প্রতিপক্ষকে নিপীড়ন-নির্যাতনের ‘আয়নাঘর’।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন মিন্টু প্রথম জীবনে ছিল ছিঁচকে পকেমার-ছিনতাইকারী। পরে ভূমিদস্যুতা থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন রাজনীতির চরকি ব্যবহার করে তার শত শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার কাহিনী যেন ‘আলী বাবা চল্লিশ চোর’ উপাখ্যানকেও হার মানায়। মিন্টু ১৪ বছরে হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে কৌশলে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

তার ঘনিষ্ঠ একই গ্রামের এক নারী বলেন, মিন্টু সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে যেতেন মন্ত্রী-এমপিদের ভোগবিলাস-মনোরঞ্জনের জন্য। এসব মন্ত্রী-এমপির প্রভাব খাটিয়ে সে অনিয়ম-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, বালু, মাদক ও দখল বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধ-অনিয়মের নিয়ন্ত্রক হয়ে গড়ে তুলেছে টাকার পাহাড়। ভুক্তভোগীরা জানান, মিন্টু ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ভৈরব বাজার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারী ও পকেটমার হিসাবে পরিচিত ছিল।

ভৈরব বাজারের এক বাসিন্দা বলেন, আমি চল্লিশ বছর ধরে ভৈরব বাজারে থাকি। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তার বাপ-চাচারা দুই ভাই রাজা মিয়া ও বাদশা মিয়া। বাদশা মিয়ার ছেলে হলো মিন্টু। মিন্টু ভৈরব বাজারে রেলওয়ে স্টেশনে সারাদিন ঘুরে মদ-গাঁজা সেবন করত। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সে ভৈরব বাজারে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পকেট মারত, ছিনতাই করত। এসব কাজ করতে গিয়ে সে কয়েকবার ধরাও পড়েছে। আমি তাকে কয়েকবার পকেট মারতে গিয়ে ধরা খেয়ে গণপিটুনির শিকার হতে দেখেছি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভৈরবের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. মনির হোসেনদের পরিবারের ১৩০ শতক জমি মিন্টু জোর করে দখল করেছে। তারা ভৈরব থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ তখন মামলাও নেয়নি।

শিরিনা বেগম নামে এক নারী বলেন, তার স্বামীর কাছ থেকেও মিন্টু ৩৫ শতক জমি দখল করে রিসোর্ট তৈরি করেছেন। মিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। উলটো তার স্বামীকে জান্নাত হোটেলের আয়নাঘরে নিয়ে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে মিন্টুর সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী।

আরেক ভুক্তভোগী ভৈরবের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, জিল্লুর পুত্র পাপনের দাপট দেখিয়ে মিন্টু মানুষের ওপর জোর-জুলুম, অত্যাচার করত। সে আমার বেলাবর তেলের পাম্প দখল করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে থানায় মামলা করতে কেন গেলাম এই খবর পাওয়ার পর মিন্টু তার বাহিনী দিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। জান্নাত হোটেলের মাটির নিচে একটি অন্ধকার কক্ষে নিয়ে হাত-পা-চোখ বেঁধে আমাকে মারধর করা হয়, জোর করে দলিলে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়। রাজু আহাম্মেদ নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, তার ২০০ শতক জমি জোর করে দখল করেছেন মিন্টু। তার কথার বা ইচ্ছার বাইরে যে গেছে তার ওপরই নেমে এসেছে নিষ্ঠুর নির্যাতনের খড়গ। কেনার আশ্বাস দিয়ে ভৈরব বাজার এলাকার নিলুফা বেগমেরও ৩০ শতক জমি দখল করেছে মিন্টু। উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের কামাল হোসেন, ময়নাল হোসেন ও সফিক মিয়ার কাছ থেকেও ভৈরব বালুমহল এলাকায় প্রায় ৩০০ শতক জমি দখল করছে মিন্টু।

এলাকায় মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ২০০৫ সাল থেকে মিন্টুর উত্থানের পাখা মেলতে শুরু করে। তখন সে কিশোর গ্যাং তৈরি করে। কিশোর গ্যাং দিয়েই সে চুরি-ছিনতাই ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগে একজন কর্মী হিসাবে যোগদানের পরই যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যায় মিন্টু।

মিন্টু আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত চার মেয়াদে ভৈরব থেকে কাউন্সিল নির্বাচিত হয়েছে। পৌর কাউন্সিলর হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে মিন্টু নিজে দখল করেছে শত শত একর জমি। গড়ে তুলেছে পর্যটনকেন্দ্রসহ নানা বিলাসী প্রকল্প। দখলের ক্ষেত্রে সে নিজের ভাইদেরও ব্যবহার করেছে। স্ত্রীর নামে নিয়েছে গার্মেন্ট ও হোটেল-রেস্তোরাঁর লাইসেন্স। ২০২৩ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে সদরঘাট কেরানীগঞ্জে একটি ডকইয়ার্ড দখলের অভিযোগ ওঠে। স্ত্রী লাভলী ফাতেমার নামে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে অভিনব কৌশলে ব্যাংক ঋণের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় ব্যাংকের ওপর। এর পাশাপাশি সে হয়েছে বালুর ট্রলার-বাল্কহেডের মালিক। এরই মধ্যে এক ডকইয়ার্ড মালিক তার বিরুদ্ধে ৮০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশও পাঠিয়েছেন। মিন্টু সর্বসাকুল্যে প্রায় ২০০ একর জমি দখল করেছে। এসব জমিতে সে গড়ে তুলেছে মহিষের খামার, পুকুর, বাগান, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মিন্টু অনেক মানুষ মেরে মেঘনা নদীতে ফেলে লাশ গুম করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভৈরব বাজারের এক চা দোকানদার বলেন, সন্ত্রাসী এরশাদ সিকদারের চেয়েও ভয়ংকর ছিল ছিনতাইকারী-পকেটমার থেকে আওয়ামী লীগের লেবাস নিয়ে রাতারাতি বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া মিন্টু। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস পেত না।

পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরদিন জান্নাত হোটেলে মিন্টুর আয়নাঘর পুড়িয়ে দেয় বৈষম্যবিরোধী বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনত। তখন সেখানে ৩ জনের লাশ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আত্মগোপন করে ভৈরবের মূর্তিমান আতঙ্ক মিন্টু এখনো রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ, কেন্দ্রবিন্দুতে দীপক মজুমদার

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ, কেন্দ্রবিন্দুতে দীপক মজুমদার

উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিষ্ঠানকেই ঘিরে উঠছে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ এখন নগরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে সিটি কর্পোরেশনের খাদ্য ও স্যানিটেশন কর্মকর্তা দীপক মজুমদার (কমল)। দীর্ঘদিন ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ নতুন করে সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে, সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে কি গড়ে উঠেছে কোনো প্রভাবশালী অনিয়মের বলয়?

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, দীপক মজুমদার দীর্ঘ সময় ধরে একই বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাধারণভাবে প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দক্ষতা বাড়ানোর কথা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই পদে থাকার সুযোগে একটি শক্ত প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে, যার কারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে।

একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকা মানেই সেখানে অঘোষিত একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়া। এতে অনেক সময় সিদ্ধান্ত ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা কমে যায়।”

দীপক মজুমদারকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অতীতেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।

বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় বিদেশি অনুদানে পাওয়া সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং পাচারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

সে সময় কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয় ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। তবে সেই অভিযোগের বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন বা বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে অভিযোগগুলো সময়ের সঙ্গে চাপা পড়লেও প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে অমীমাংসিত।

সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উঠা অভিযোগগুলো আরও গুরুতর। অভিযোগ রয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও স্যানিটেশন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ঘুরে দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হচ্ছে বাস্তবে কাজের মানের সঙ্গে ব্যয়ের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প আংশিক বাস্তবায়ন হলেও কাগজে পূর্ণ ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।

একজন ঠিকাদার বলেন, “কিছু প্রকল্পে যে বাজেট দেখানো হয়, বাস্তবে সেই পরিমাণ কাজ করা হয় না। কিন্তু হিসাব কাগজে ঠিকই দেখানো হয়।”

আগেও দুদকের অভিযানে মিলেছিল অনিয়মের প্রমাণ

বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযোগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান পরিচালনা করেছিল।

সেসব অভিযানে উঠে এসেছিল, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের কাজ, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম

সমস্যাটি কি কোনো একক কর্মকর্তাকে ঘিরে, নাকি পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেই রয়েছে গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা?

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কর্মকর্তা, দুর্বল তদারকি এবং সীমিত জবাবদিহিতা মিলেই তৈরি হয়েছে একটি অভ্যন্তরীণ চক্র।

একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্প অনুমোদন, ঠিকাদার নির্বাচন, অর্থ ছাড়, ব্যয়ের হিসাব এই সবগুলো পর্যায়েই অস্বচ্ছতা রয়েছে।

যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয় বরং একটি সংগঠিত প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দীপক মজুমদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তার এই নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়ায় জনমনে সন্দেহ আরও বাড়ছে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

তবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, শুধু অভ্যন্তরীণ যাচাই নয়—এই অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

তাদের দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু একজন কর্মকর্তা নয়, সংশ্লিষ্ট পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাওয়া এই সিটি কর্পোরেশনকে ঘিরে বারবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।

অভিযোগগুলো কি সত্যিই তদন্তের মুখ দেখবে, নাকি আগের মতোই সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাবে?

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ এখন শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং জনস্বার্থের একটি বড় প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

এই অভিযোগগুলোর সত্যতা কি সামনে আসবে, নাকি আবারও অন্ধকারেই থেকে যাবে পুরো ঘটনা?

(চলবে)

ময়মনসিংহ নগরীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য: কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে ৩ শীর্ষ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
ময়মনসিংহ নগরীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য: কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে ৩ শীর্ষ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য রোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজন শীর্ষ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ধারালো খুর ও সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের নির্দেশনায় এসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নগরীর পাট গুদাম আদর্শ কলোনী, আকুয়া ভাঙ্গাপুল ও মালগুদাম এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হলে তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো – রোমান (৩৬), পিতা: মৃত আরশাদ মিয়া, সাং মালগুদাম; রাজিব (২৮), পিতা: আব্দুর রহিম, সাং পাট গুদাম আদর্শ কলোনী; আশিক (২০), পিতা: সুমন মিয়া, সাং আকুয়া ভাঙ্গাপুল। তাদের সবার ঠিকানা কোতোয়ালী থানা, জেলা ময়মনসিংহ।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের গতিরোধ করে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, নগরীতে অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে ছিনতাই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় স্বস্তিতে ঈদ কাটাল ময়মনসিংহবাসী

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম
পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় স্বস্তিতে ঈদ কাটাল ময়মনসিংহবাসী

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন ময়মনসিংহের জেলা পুলিশ। বিশেষ করে শহরসহ ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, অজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মাঠে একাধিক টিম নামানোর হয়েছিল। শহরের কোতোয়ালী থানা তথা বিভাগীয় শহরে ১১ টি টিম ছাড়াও ছিল মোটরসাইকেল টিম, অটো রিক্সায় টিম ছাড়াও অফিসার ইনচার্য শিবিরুল ইসলাম ঈদ আগমনীর কয়েক দিন দিবা-রাত্র মাঠে ছিলেন। ফলে নগরবাসী কাটিয়েছেন এবার স্বস্থির ঈদ।

একই সঙ্গে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যাংক অফিস-আদালত, শপিংমলসহ ব্যাপক লোকসমাগম হয় এমন স্থানে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ সময় সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে তৎপর থাকার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া নারী ক্রেতা সমাগম বেশি এমন মার্কেট গুলোতে নারী পকেটমার, নারীদের হয়রানি ও ইভটিজিং রোধে বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ মোতায়েনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সূত্রে, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরমধ্যে মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার প্রবেশ মুখে শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা শম্ভুগঞ্জে তিনটি মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এদিকে টাঙ্গাইল থেকে রহমতপুর বাইপাস ঢাকা বাইপাসের বিভান্ন জায়গায়ও বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। পবিত্র রমজান ও ঈদ উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে ঈদ পূর্ববর্তী ও ঈদ পরবর্তী নিরাপত্তার ব্যাপারে সকল স্তরের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার কামরুল হাসান।

জেলা পুলিশের একাধিক সুত্র জানান, রমজানে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণই নয়, একই সঙ্গে রেল স্টেশন, বাস টার্মিনালে ও যানবাহনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা, ঈদ জামায়াতের নিরাপত্তা ও জাল টাকার অপব্যবহার রোধ চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনালে পকেটমার ও অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত রাখা হবে।’

সুত্র আরো জানায়, ‘জনসাধারণের কেনাকাটার সুবিধার্থে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যাপ্ত নৈশটহলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।এ ছাড়াও যাত্রী সুবিধায় সড়কে রাখা হয়েছে স্ব স্ব থানার একাধিক টিম।

শপিংমলগুলোর সামনে অবৈধভাবে কোনো গাড়ি পার্কিং করা যাবে না এবং সেখানে কোনো গাড়ি দাঁড়াতে বা অবস্থান করতে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।’

সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে কাজী জেলা পুলিশের অতিঃ পুলিশ সুপার আব্দুল্লহ আল মামুন জানান, ‘রমজানে শহরবাসী যেন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফের, ঘরে ফিরতে পারেন, নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন সে লক্ষ্যে পুলিশ শহরবাসীর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও শপিংমলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রাখা ছিল। যে সকল মানুষ গ্রামে ঈদ উদযাপন করতে যাবে তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান ও মলমপার্টির সদস্যদের অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা ছিলে।

পরিশেষে বলাই যায়, ময়মনসিংহে ঈদ আগমনী ও ঈদের পরবর্তী দিন পর্যন্ত আইন শৃংখলা ছিলো জনগনের সহনীয় পর্যায়ে ও পুলিশী নিরাপত্তার বলয়ে মধ্যে।