বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে পিবিআই এর অভিযানে ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:৪৭ এম
ময়মনসিংহে পিবিআই এর অভিযানে ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতার

অদ্য ১৯/০২/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০২.০০ ঘটিকায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার ভটেরকান্দি এলাকা থেকে ডাকাতি মামলার পলাতক আসামি শফিউল্লাহ (৩২), পিতা-মৃত আক্কেল আলী, গ্রাম-ভটেরকান্দি (ওলিপুর বাজার), থানা-সোনারগাঁও, জেলা-নারায়নগঞ্জ। এ/পি গ্রাম-আইলপাড়া দক্ষিণ (শিমুলপাড়া), ৬নং ওয়ার্ড, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়নগঞ্জ কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা।

পিবিআই জানায়, ঈশ্বরগঞ্জ থানার মামলা নং-২৫, তারিখ-২৪/০৯/২০২২ খ্রিঃ ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড-১৮৬০ এর পলাতক আসামি শফিউল্লাহ। এতোদিন সে আত্মগোপনে ছিলো। এর আগে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা অ্যাডিশনাল আইজিপি, পিবিআই জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর তত্ত্বাবধানে পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার এর দিক নির্দেশনা ও তদারকিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ বিল্লাল মিয়া তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাতির সময় নিয়ে যাওয়া ট্রাক চালকের ফোনের সূত্র ধরে গত ০৩/০৪/২৩ তারিখ হতে এ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতারসহ ডাকাতিতে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ও লুষ্ঠিত মোবাইল উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছয়জন আসামি নিজেদের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি প্রদান করে।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জানায় গত ২২/০৯/২০২২ তারিখ রাত ০১.০০ ঘটিকায় ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার হারুয়া বাজার এলাকা হতে ১৫ টন টাঁটি সুপারি ভর্তি একটি ট্রাক ডাকাতি হয়। ট্রাকটি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানা এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ মনির এর নিকট হতে ৪৭,১০,০০০/- (সাতচল্লিশ লক্ষ দশ হাজার) টাকায় ৩০০ বস্তা (১৫ টন) টাটী সুপারি নিয়ে নেত্রকোণা জেলার দূর্গাপুর থানা এলাকার ব্যবসায়ী অনুকূল পালের কাছে যাচ্ছিলো। ডাকাত দল একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার নিয়ে ট্রাকটির পিছন থেকে এসে ট্রাকটিকে ব্যারিকেড দেয়। ট্রাকটি থামানোর সাথে সাথে প্রাইভেটকার থেকে ৪ জন ডাকাত ট্রাকে উঠে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রশি দিয়ে ট্রাক চালকের হাত-পা বাধে এবং গামছা দিয়ে মুখ চোখ বেঁধে ফেলে। ডাকাতরা সম্পূর্ণ ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ট্রাক ঘুরিয়ে পুনরায় কিশোরগঞ্জের দিকে রওনা করে। অন্য ডাকাতরা প্রাইভেটকার নিয়ে ট্রাকের পিছনে আসতে থাকে। রাত অনুমান ০৩.৩০ ঘটিকার সময় ডাকাত দল ভৈরব হাজী হাসমত আলী কলেজের কাছে রাস্তায় ড্রাইভার বাবুলকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে দিয়ে ট্রাক নিয়ে চলে যায়।

এ বিষয়ে পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার আরো বলেন, এটি বেশ চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা। অজ্ঞাতনামা ডাকাত দল সাতচল্লিশ লক্ষ টাকার সুপারি ভর্তি ট্রাক ডাকাতি করে নিয়ে যায়। যা প্রিন্ট মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হতে থাকে।

ইতোমধ্যে আমরা ডাকাত দলের অন্যান্য সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছি। এই ডাকাত দলের অন্যতম সক্রিয় পলাতক সদস্য শফিউল্লাহকে আমরা গ্রেফতার করে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেছে।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।