বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে ত্রিমুখী স্নায়ুযুদ্ধ

সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোন এজিএম নির্বাচন নয় -সংস্কার কমিটি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৯:২৯ পিএম
সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোন এজিএম নির্বাচন নয় -সংস্কার কমিটি

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে ত্রিমুখী স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। প্রেসক্লাব অভ্যন্তরে দুটি গ্রুপ নির্বাচনী প্রস্তুতি নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার বৈধ অবৈধ কর্মকান্ডে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অপর পক্ষ প্রেসক্লাবের সংস্কার করে অধিকার মর্যাদা ফিরে পেতে লড়াই করে যাচ্ছেন। চলছে ত্রিমুখী স্নায়ু যুদ্ধ, যে কোন সময় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা। শান্তিপূর্ন সমাধানের পথে সংস্কার কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোন এজিএম (সাধারণ সভা) নির্বাচন নয়

প্রাচীন নগরীতে অবস্থিত দুটি বহুতল ভবন বিশিষ্ট ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পেশাদার সাংবাদিকদের কর্মযজ্ঞে পরিণত করার জন্য প্রাণবন্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য অধিকার বঞ্চিত সাংবাদিকগণ সংস্কারের দাবি নিয়ে দীর্ঘ বছর আন্দোলন সংগ্রামে ঘেরাও, মানববন্ধন, স্বারকলিপি সহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির ১৫১ সদস্যের সভয় সিদ্ধান্ত অনুসারে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক বরাবরে শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থানে সাংবাদিকদের সৃষ্ট সমস্যা সংকট নিরসনের জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়।

সোমবার ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সংস্কার কমিটির আহবায়ক মোঃ শামসুল আলম খান সদস্য সচিব আজগর হোসেন রবিন স্বাক্ষরিত প্রেরিত পত্রে বলা হয় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে অপেশাদার সাংবাদিকদের সদস্য পদ বাতিল করতে হবে, পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে “প্রেসক্লাব ফর প্রেসম্যান” করার জন্য গঠনতন্ত্র খসড়া প্রনয়ণ করতে হবে, উভয় পক্ষের সাংবাদিকদের নামের তালিকা করে নিয়ম নীতিমালা অনুসারে খসড়া ভোটার তালিকা নির্নয় করতে হবে, পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আলোচনা করে সমন্বয়ের ভিত্তিতে একটি এডহক কমিটি গঠন করে সম্মিলিত ভাবে সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের দাবী বাস্তবায়ন করার আহবান জানানো হয়।

সেখানে আরো উল্লেখ করা হয় যে, পেশাদার সাংবাদিকগণ যে কোন ধরনের অপ্রিতিকর সহিংস ঘটনা প্রত্যাখ্যান করে শান্তিপূর্ন সমাধান প্রত্যাশা করেন, উত্থাপিত দাবী সমূহ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য অনুরোধ করা হয়।

বর্ণিত দাবী সমূহ বাস্তবায়নের আলোচনা না করে যে কোন ধরনের এজিএম, নির্বাচনী কার্যক্রমের পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানানো হয়।

এবিষয়ে প্রশাসনিক দৃষ্টি আকর্ষণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ, রেঞ্জ ডিআইজি, ময়মনসিংহ, জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ, পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ, জেলা পুলিশ সুপার বিশেষ শাখা, ময়মনসিংহ বরাবরে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।

এসময় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক পৃথক ভাবে বলেন সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবের সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে আমরা সকল পক্ষকে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।