রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

গণ–অভ্যুত্থানে আহতদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আনবে সরকার: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১২:৪৯ এম
গণ–অভ্যুত্থানে আহতদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আনবে সরকার: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জুলাই–আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা চূড়ান্ত মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও এই সংকটে আছেন। তাই গণ–অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনবে সরকার।

 

বৃহস্পতিবার বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মেন্টাল হেলথ ক্রাইসিস: ডিলিং উইথ পোস্ট জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যাসপেক্টস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ফরিদা আখতার। ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এ সভার প্রসঙ্গ ছিল ‘বিপ্লব–পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ’।

 

 

এ সময় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, আন্দোলনের পর থেকে অনেক মা–বাবাও আতঙ্কে আছেন। আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত হওয়া অনেক মেয়ের পরিবার ভয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন না। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কেবিনেট মিটিংয়ে আহত ও শহীদ পরিবারে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গণ–অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনবে সরকার।

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি সেমিনার আয়োজনের প্রেক্ষাপট, মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন রিসোর্স ও তার সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আটটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

 

 

অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অভ্যুত্থান–পরবর্তী পরিস্থিতিতে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় মানসিক স্বাস্থ্যের অন্যতম ও জটিল একটি রোগ পোস্ট–ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার, যেটাকে সংক্ষেপে ‘পিটিএসডি’ বলা হয়। তীব্র শোক বা মানসিক আঘাত থেকে এ সমস্যা দেখা দেয়। এ থেকে স্বাভাবিক জীবনের সবকিছু ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আত্মহত্যার ঝোঁক পর্যন্ত দেখা দেয়।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা যে পক্ষেরই হোক, তাঁরা চিকিৎসা পাবেন। তবে গণ–অভ্যুত্থানের পক্ষে আহত ব্যক্তিদের অর্ধেককে এখনো সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা নিশ্চিত করছি, তাঁদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও সার্বিক প্রয়োজনে পাশে থাকব।’

 

জুলাই–আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে দুই দফায় পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী সালমান হোসেন বলেন, ‘দেশের জন্য এভাবে কতশত মানুষ নিজের ক্ষতি মেনে নিয়েছে। কিন্তু এখন যদি সেই দেশটারই ভালোভাবে পুনর্গঠন না হয়, এই কষ্ট রাখার কোনো জায়গা থাকবে না। তখন আমরা নিজের ক্ষতির সঙ্গে এই আফসোস নিয়ে আরও বেশি মানসিক সংকটে পড়ব।’

 

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের ৭৫ ভাগ মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছেন।

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক ও পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম. মুজাহেরুল হক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চরকির সিইও রেদওয়ান রনি এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চাইল্ড হেল্পলাইনের পরিচালক মো. মোহাইমিন চৌধুরী।

শুধু নথিতে নয়, উন্নয়ন দেখতে চাই বাস্তবে: সমন্বয় সভায় ফরিদা খানম

এম. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম
শুধু নথিতে নয়, উন্নয়ন দেখতে চাই বাস্তবে: সমন্বয় সভায় ফরিদা খানম

রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমে ধীরগতি, ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব এবং ফাইলবন্দি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এ প্রেক্ষাপটে রোববার (২১ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির জুন ২০২৬ মাসের সভা।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম ও চলমান প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং বাস্তবমুখী উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি এবং হামের সংক্রমণের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত একদিন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মশার লার্ভা ধ্বংসে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুততর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত অর্থ যথাসময়ে ও কার্যকরভাবে ব্যয় নিশ্চিত করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা রোধে খাদ্য বিভাগের কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিবেশ সংরক্ষণে কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক।

সভায় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “উন্নয়ন বা জনসেবার নামে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। মাঠপর্যায়ের কাজের অগ্রগতি শুধু নথিপত্রে নয়, বাস্তবেও দৃশ্যমান হতে হবে।”

সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন তারাকান্দার মেহেদী হাসান তালুকদার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন তারাকান্দার মেহেদী হাসান তালুকদার

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তারাকান্দা উপজেলার কৃতি সন্তান এস. এম. মেহেদী হাসান তালুকদার।

তিনি তারাকান্দা উপজেলার ৭ নম্বর রামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। মেহেদী হাসান তালুকদার রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা মোঃ উছমান গনি তালুকদার রামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তাঁর দাদা ছিলেন ওই ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি।

পারিবারিকভাবে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শ ও চেতনার পরিবেশে বেড়ে ওঠা মেহেদী হাসান তালুকদার ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন।

দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলের প্রতি নিষ্ঠা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

তাঁর এ পদপ্রাপ্তিতে তারাকান্দা উপজেলার বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মেহেদী হাসান তালুকদার সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রানার্সআপ মেডেল নিল ফুলবাড়িয়ার খুদে ফুটবলার মিতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:১৯ এম
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রানার্সআপ মেডেল নিল ফুলবাড়িয়ার খুদে ফুটবলার মিতুল

রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। এ প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী খুদে ফুটবলার মিতুল হাসান।

মিতুল হাসান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ২ নম্বর পুটিজানা ইউনিয়নের মৌহাতলা এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হাসানের ১৩ বছর বয়সী ছেলে। বর্তমানে সে ত্রিশাল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তার অদম্য আগ্রহ। প্রতিবেশী রিফাত আহমেদ রিজভীর হাত ধরে শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবলের সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে নিজের দক্ষতা আরও বিকশিত করতে ফুলবাড়িয়ার কেশরগঞ্জ বাজারে অবস্থিত কেএনবিএস যুব স্পোর্টিং একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করে মিতুল।

পড়ালেখার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নিষ্ঠার কারণে দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর দ্রুতই সে স্কুল দলের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়। তার অসাধারণ নৈপুণ্যের সুবাদে দলটি বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত চূড়ান্ত পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মেডেল গ্রহণ করতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত মিতুল। সে জানায়, এই স্বীকৃতি তার ভবিষ্যৎ ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মিতুলের এই সাফল্যে ফুলবাড়িয়া, ত্রিশালসহ সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, মিতুলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম হবে।