বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫, ৩:৫০ পিএম
ময়মনসিংহে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম

রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে বিভাগীয় সদর ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য জায়গা পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে স্টেডিয়াম স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য জায়গা পরিদর্শন করেন তিনি। স্টেডিয়াম স্থাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য ময়মনসিংহ নগরীর সদর উপজেলার বাদে কল্পা মৌজায় ২০ একর জমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বলেন, ‘ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি স্থাপন নির্মিত হলে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট খেলা এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। স্টেডিয়ামকে ঘিরে এখানে পাঁচতারা মানের হোটেলসহ অন্যান্য অবকাঠাম গড়ে উঠবে সেই সঙ্গে ময়মনসিংহের চেহারাও পাল্টে যাবে। এই স্টেডিয়ামটি স্থাপনের জায়গা নির্ধারণ করার ব্যাপারে বিগত সাত বছর ধরে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের লোকজন যোগাযোগ করলেও আলোর মুখ দেখেনি ক্রিকেট স্টেডিয়াম স্থাপনের প্রকল্পটি।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের যুবসমাজকে খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক কাজে দক্ষতা অর্জনের জন্য সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি জানান, ময়মনসিংহে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি তৈরি হলে ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহের ছেলে-মেয়েরা জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আরো কৃতিত্ব বয়ে আনবে। সম্প্রতি সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪ শিরোপা অর্জনে জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে ৯ জন নারী খেলোয়াড় ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার কলসিন্দুর ও নান্দাইলের সন্তান।

জাতীয় পর্যায়ে খেলাধুলায় ময়মনসিংহের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই এ অঞ্চলে বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে আন্তর্জাাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে।

নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগের ওপর সরকারের বিশেষ দৃষ্টি থাকার কথা জানিয়ে ক্রীড়াসচিব বলেন, সরকার ময়মনসিংহকে খেলাধুলার তীর্থভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। শিগগিরই এখানে একটি ইনডোর স্টেডিয়ামও নির্মাণ করা হবে।’

স্টেডিয়ামের জন্য জায়গা পরিদর্শনকালে যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিষদের প্রকল্প প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দিন, জেলা ক্রীড়া অফিসার আল লামিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, বিএনপি নেতা এনামুল হক আকন্দ লিটনসহ আরো অন্য নেতারা।

শ্যামপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

এম. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২:২৫ পিএম
শ্যামপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রাজধানীর শ্যামপুর থানা শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শাপলা খানমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বই বিতরণ-সংক্রান্ত বরাদ্দে অনিয়ম এবং তদন্ত কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ এনে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শ্যামপুরের দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত কার্যক্রমে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতিতে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ আয়োজনেও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখার কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তিন ব্যক্তির পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের সুপারিশ করা হলেও পরবর্তী পর্যায়ে কেবল একজনের অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ছাড়া বছরের পর বছর বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তারা বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্যামপুর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শাপলা খানম। তিনি বলেন, “আমি সরকারি বিধি-বিধান মেনেই দায়িত্ব পালন করছি। প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সরকারি কোনো নির্দেশনা অমান্য করার প্রশ্নই আসে না।”

এ বিষয়ে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, “শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমার নির্বাচনী এলাকায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষা খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহে অবৈধ সিসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, কারখানা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৪:৩০ পিএম
ময়মনসিংহে অবৈধ সিসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, কারখানা উচ্ছেদ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চক শ্যামরামপুর এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি সিসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সাব্বির হুসাইনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে দেখা যায়, কারখানাটি পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এছাড়া কারখানার কার্যক্রমের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছিল।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(গ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মোবাইল কোর্টে দায়ের করা দুটি মামলায় দুই ব্যক্তিকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এ সময় নদীতীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা অস্থায়ী সিসা কারখানাটি উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি সিসা গলানোর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও জব্দ করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের অবৈধ শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের সদস্য আটক

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের স্বাক্ষর নকল করে জাল দলিল তৈরি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দলিল নিবন্ধনের সময় নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসান জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করেন। সন্দেহ হলে তিনি নথি আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করেন এবং একপর্যায়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন।

পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে জালিয়াতি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনো ধরনের জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না।”

তিনি দলিল নিবন্ধনের সময় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান।