বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নওগাঁ বেসরকারি সাহিন স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম দেখার কেহ নেই!

খোরশেদ আলম, নওগাঁ ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৪, ২:০০ পিএম
নওগাঁ বেসরকারি সাহিন স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম দেখার কেহ নেই!

নওগাঁ বেসরকারি সাহিন স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম দেখার মত কেহ আছে বলে মনে হয় না। স্কুল কর্তৃপক্ষ সরকারি কোন নিয়মের ধার ধারেন না। তাদের মনে যা চায় সেটাই নিয়ম বলে, ছাত্র / ছাত্রীদের উপরে চাপিয়ে দেন।

নওগাঁ উকিল পাড়ায় একটা ভাড়া বাসায় দীর্ঘ দিন থেকে তারা স্কুলের নামে এই রমরমা ব্যাবসা পরিচালনা করে আসিতেছে। এখানে প্রধান শিক্ষক আছেন ২ জন, প্রধান শিক্ষক মোঃরেজাউল করিম এবং প্রধান শিক্ষক মোঃরেজাউল করিম রেজা। একই রাজ্যে দুই রাজার শাসন চলছে বলে মনে হয়।

সাহিন স্কুলের মোট ছাত্র ও ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৭০০ সাতশত জন। বাসার আয়তন দেখে মনে হয় এত ছাত্র /ছাত্রী কিভাবে এই স্হানে কিভাবে এক সাথে লেখা পড়া করে?এই ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম রেজা নিজেই প্রতিবেদকের কাছে প্রকাশ করেন। প্লে হতে ২য় শ্রেনী সকাল ৮ টা হতে ১১ টা পর্যন্ত ক্লাস করে এবং তৃতীয় শ্রেনী হতে ১০ শ্রেনী পর্যন্ত সকাল ৮ টা হতে বৈকাল ২ টা পর্যন্ত টানা ক্লাস করতে হয়। মাঝখানে ১১ টার পরে ৩০ মিনিট টিফিন খেতে বিরতি হয়।

প্লে হতে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত মাসিক বেতন দিতে হয়,৭০০ শত টাকা এবং ৬ ষষ্ঠ শেনী হতে ১০ ম শ্রেনী পর্যন্ত,মাসিক বেতন দিতে হয়, ১০০০ এক হাজার টাকা। ড্রেস সহ আনুষাঙ্গিক সব কিছু ছাত্র / ছাত্রীদের বহন করতে হয়।বিভিন্ন ছাত্র ও ছাত্রীদের গার্জিয়ানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষীতে স্কুলে গিয়ে আরও জানা যায়, ছাত্র/ছাত্রীদের গার্জেন যদি কোন অভিযোগ করেন তাহলে, প্রধান শিক্ষক সহ বেশ কিছু শিক্ষক গার্জেনদের সাথে খুব খারাপ ব্যাবহার করেন। সেই গার্জেনকে হুমকি দেন বেশি বাড়াবাড়ি করলে আপনার সন্তানকে স্কুল থেকে বের করে দিব। কয়েকজন গার্জেন কে স্কুল ও শিক্ষক সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করলে ভয়ে মূখ খুলতে রাজি হন না। বলেন আমার সন্তান এই স্কুলে লেখা পড়া করে কেহ জানতে পারলে আমার সন্তানকে মারধর করবে এবং পরীক্ষায় ফেল করে দিবে। তাদের দাবি এই ছোট ছোট বাচ্চাদের এত সময় ধরে ক্লাসে থাকা খুব কষ্টকর।

এই বিষয় গুলো নিয়ে প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম রেজার সাথে কথা বললে তিনি টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অনিচ্ছুক তাই টেলিভিশনে সাক্ষাৎ নেওয়া সম্ভব হয় নাই। ২য় প্রধান শিক্ষক নওগাঁর বাহিরে থাকায় তার সাক্ষাৎ নেওয়া সম্ভব হয় নাই তবে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে।

এই বিষয় গুলো নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি জানান, এসব প্রাইভেট স্কুলের বিষয়ে আমাদের করনীয় কিছু নাই। তাদের ব্যাক্তিগত নিয়মে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। শেষে এডিসি জেনারেল শিক্ষা (আইসিটি) সাহেবের সাথে মোবাইল ফোনে বিস্তারিত বললে তিনি বলেন আমি বিষয়টি জানি না তবে কেহ আমাকে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি প্রয়জনীয় ব্যাবস্হা গ্রহন করবো।

এখন জনমনে প্রশ্ন তাহলে কোন আইনের উপর ভিত্তি করে বেসরকারি বিভিন্ন প্রাইভেট স্কুল চলছে? যা নাকি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কোন কিছু বলতে পারবেন না। আমরা চাই সকল শিক্ষা প্রতিষ্টানের ছাত্র / ছাত্রীদের বেতন সহ বিভিন্ন নিয়ম সরকারি ভাবে পরিচালিত হউক এবং একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুন্দর পরিবেশ ও খোলা মেলা আবহাওয়ার মধ্যে গড়ে উঠুক এবং আগামী প্রজন্ম যেন সুন্দর হয় এই কামনা করে সকল ছাত্র /ছাত্রীদের গার্জিয়ান গন।

শ্যামপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

এম. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২:২৫ পিএম
শ্যামপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রাজধানীর শ্যামপুর থানা শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শাপলা খানমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বই বিতরণ-সংক্রান্ত বরাদ্দে অনিয়ম এবং তদন্ত কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ এনে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শ্যামপুরের দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত কার্যক্রমে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতিতে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ আয়োজনেও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখার কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তিন ব্যক্তির পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের সুপারিশ করা হলেও পরবর্তী পর্যায়ে কেবল একজনের অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ছাড়া বছরের পর বছর বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তারা বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্যামপুর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শাপলা খানম। তিনি বলেন, “আমি সরকারি বিধি-বিধান মেনেই দায়িত্ব পালন করছি। প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সরকারি কোনো নির্দেশনা অমান্য করার প্রশ্নই আসে না।”

এ বিষয়ে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, “শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমার নির্বাচনী এলাকায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষা খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহে অবৈধ সিসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, কারখানা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৪:৩০ পিএম
ময়মনসিংহে অবৈধ সিসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, কারখানা উচ্ছেদ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চক শ্যামরামপুর এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি সিসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সাব্বির হুসাইনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে দেখা যায়, কারখানাটি পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এছাড়া কারখানার কার্যক্রমের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছিল।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(গ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মোবাইল কোর্টে দায়ের করা দুটি মামলায় দুই ব্যক্তিকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এ সময় নদীতীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা অস্থায়ী সিসা কারখানাটি উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি সিসা গলানোর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও জব্দ করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের অবৈধ শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের সদস্য আটক

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের স্বাক্ষর নকল করে জাল দলিল তৈরি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দলিল নিবন্ধনের সময় নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসান জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করেন। সন্দেহ হলে তিনি নথি আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করেন এবং একপর্যায়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন।

পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে জালিয়াতি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনো ধরনের জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না।”

তিনি দলিল নিবন্ধনের সময় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান।