শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে তরুণদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে:নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৪, ৩:১৫ পিএম
ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে তরুণদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে:নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন

তরুণদের প্রত্যাশা কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দিয়ে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। নতুন ভুল করবো না। কারণ এই জিনিসগুলো করলে মানুষ ধিক্কার দেবে। আমাদের সেই সুযোগই নেই। আমরা শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবো না, দেশে সঠিক ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) নগরীর নিউ ইস্কাটনে নিজ বাসভবনে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

 

দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দেবেন?

তরুণদের প্রত্যাশা কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো। জাতিকে যেন একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোটাধিকার উপহার দিতে পারি। সর্বশক্তি দিয়ে এ চেষ্টা করবো। সবার সহযোগিতা নিয়েই আমি নির্বাচনটা করতে চাই। আমি মনে করি নিয়ত যদি সহি থাকে মনের মধ্যে ভেজাল যদি না থাকে তবে এ ধরনের কাজ করা সম্ভব। জাতি প্রমাণ করেছে সঠিক নির্বাচন করা সম্ভব। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে মানুষ কিন্তু তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। তেমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করবো। সঠিক ভোট আয়োজনের সব সুযোগ আছে। আমরা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। রাজনৈতিক দলগুলো বছরের পর বছর এই একটা দাবিতে লড়াই করেছে। সবাই যেহেতু চাচ্ছে সবাইকে নিয়ে এ কাজটি করবো।

 

বর্তমান সময়কে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

আমি তো আগে দায়িত্ব নেইনি, সুতরাং আগের কথা বলতে পারবো না। তাদের কী ধরনের চাপ ছিল তাও বলতে পারবো না। তবে আমি বুঝতে পারছি আমার দায়িত্বটা অনেক বেশি হবে। এটা কিন্তু বঞ্চনার ব্যাকগ্রাউন্ড! মানুষ যখন বঞ্চিত থাকে তখন প্রত্যাশা অনেক বেড়ে যায়। তবে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবো।

 

ইভিএম নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

মেয়র নির্বাচনে একবার ভোটকেন্দ্রে গেলাম সালটা মনে হয় ২০১৮ হবে। তখন এক ভদ্রলোক পাশে এসে বলেছিল স্যার আমাকে একটা ভোট দিয়েন। ইভিএম একটা টেকনিক্যাল বিষয়। এটার ভালো-মন্দ দিক নিয়ে আমি চিন্তা করিনি। কোন দেশে ইভিএম আছে বা নেই এটা নিয়েও আমি কিছু দেখিনি। আগে দায়িত্বটা নেই তারপর বোঝার চেষ্টা করি। তাছাড়া সংস্কার কমিশন কাজ করছে। বদিউল আলম মজুমদার সাহেব ভালো কাজ করছেন। তারা আমাদের অনেক কাজ সহজ করে দিচ্ছেন বা এগিয়ে দিচ্ছেন।

 

আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলোর নির্বাচনে আসা না আসা নিয়ে কী বলবেন?

এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হচ্ছে, আপনারা দেখছেন। বিতর্কের আগে ফয়সালা হোক, আপনারাও দেখবেন একটা মীমাংসা তো আসবেই। তবে এই মুহূর্তে আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না।

ফ্যাসিবাদের দোসরদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হবে, না জনগণকে মূল্যায়নের ভার দেওয়া হবে?

এটা নিয়ে এই মুহূর্তে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটার একটা ফয়সালা হবে নিশ্চয়। নির্বাচন সামনে, নিশ্চয় একটা সিদ্ধান্ত হবে। তখন আপনারা দেখতে পারবেন। তখন আপনারা দেখবেন আমিও দেখবো।

 

কোন বিষয়গুলোতে আপনি বেশি গুরুত্ব দেবেন?

আগে দায়িত্ব বুঝে নেই, তারপর দেখি। স্থানীয় নির্বাচন করতে গেলেও একই প্রস্তুতি লাগবে। সঠিক ভোটার তালিকা নিয়ে কাজ করতে হয়। পাঁচ থেকে ছয়টা ভোটার তালিকা করতে হয়, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, মেয়র থেকে শুরু করে নানা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে।

 

রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

পত্র-পত্রিকায় যা দেখছি রাজনৈতিক দলগুলো তাড়াতাড়ি নির্বাচন চাচ্ছে বলে আমার মনে হয়। মনে হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচন আগে চায়।নির্বাচনের কাজটা ইসি একা পারে না। ভোটের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। ভোটার তালিকা করার একটা ব্যাপার আছে। জেন-জি আন্দোলন করলো, তাদের ভোটার করতে হবে ইত্যাদি নানা ধরনের কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের জন্য রেডি করার চেষ্টা করবো। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে তিনি যাবেন না।

আমি তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছি। সবাই একদলের সমর্থক না। কেউ এই দলে দিয়েছে কেউ ওই দলে দিয়েছে। আমি আগে বুঝে নিই তারপর দেখবো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।

 

নতুন যারা নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন তাদের আপনি কতটা জানেন?

তাদের আমি চিনি না। আমি আপনাদের মতোই মিডিয়ায় দেখেছি। সবার সঙ্গে পরিচয় হবো। আমরা মিটিংয়ে বসবো। কাজ শুরু করলে বুঝতে পারবো কী কী সুবিধা-অসুবিধা আছে, কোথায় কোথায় গ্যাপ আছে। ধীরে ধীরে দিন যত যাবে ততই অভিজ্ঞতা হবে। আমার একটা বিশাল সুবিধা আছে সেটা হলো নির্বাচন সংস্কার কমিশন অনেক কাজ এগিয়ে দিয়েছে। ওনারাই সব কিছু রেডি করছেন আমাদের কোথায় কোথায় কাজ করতে হবে। কোথায় কোথায় গলদ আছে আমার আর গবেষণা করার দরকার হবে না।

 

নতুন এ দায়িত্ব কী চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করছেন?

এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। সাম্প্রতিককালে অনেক মানুষ শহীদ হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হয়েছেন। কারও চোখ চলে গেছে, কারও হাত কারও পা চলে গেছে। গত ১৫-১৬ বছরে কত লোক জান দিয়েছেন তা আমরা দেখেছি। অনেক মানুষ খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, আমরা সবাই জানি। অনেকগুলো দাবির মধ্যে একটা মূল দাবি ছিল মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। মানুষ মুক্ত পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চেয়েছে।

 

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে মানুষ ভোটের অধিকার থেকে দূরে ছিল। যাদের বয়স ২০১৪ সালে ১৮ বছর ছিল তাদের বয়স এখন ২৮ বছর হয়ে গেছে। তারা কিন্তু ভোট দেওয়ার সুযোগটা পায়নি। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিরাট একটা ক্ষোভ আছে। তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগের অন্যতম লক্ষ্য কিন্তু ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দায়িত্বটা অনেক বেশি। মানুষ অনেক রক্ত দিয়েছে। আমরা যদি ব্যর্থ হই তরুণদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। এদের রক্তের সঙ্গে মোনাফেকি করা হবে। এই বেইমানি আমরা করতে পারবো না। এই বয়সে এসে এই বেইমানি করার মতো মন-মানসিকতা আমাদের নেই।

 

আপনার সিইসি হওয়ার প্রস্তাবটা বিএনপি দিয়েছে এমন কথা শোনা যাচ্ছে?

কে প্রস্তাব দিয়েছে বা দেয়নি এটা আমার জানা নেই। এমনকি আমার কবে শপথ তাও জানি না। শুধু মিডিয়ায় দেখলাম খবরটি।

‎ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
‎ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৫

‎ময়মনসিংহে ডিজিএফআই, ওয়ারেন্ট অফিসার, ডিবি পুলিশের এসআই, পুলিশ কর্মকর্তা ও যৌথবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

‎শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলাকালে তাদের আটক করা হয়। কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

‎পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও প্রাথমিকভাবে অভিযোগ ওঠে।

‎বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। পরে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের ব্যবহৃত পরিচয়, কথিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ের সত্যতা এবং ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাই করছে পুলিশ।

‎পুলিশ সূত্র জানায়, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের ডিজিএফআই, ওয়ারেন্ট অফিসার, ডিবি পুলিশের এসআই, পুলিশ কর্মকর্তা ও যৌথবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে এসেছে। তবে তারা সত্যিই কোনো বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, নাকি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছিলেন তা যাচাই করা হচ্ছে।

‎এ ছাড়া ওই ব্যক্তিকে কেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, এর পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কার কী ভূমিকা ছিল, সেসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।

‎পুলিশ আরও জানায়, আটকদের প্রকৃত পরিচয়, পারস্পরিক সম্পর্ক, ব্যবহৃত পরিচয়ের সত্যতা এবং কথিত অপহরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সরঞ্জাম বা আলামত উদ্ধার হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।

‎কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাটি শনাক্ত করে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

‎পুলিশ সূত্র আরও জানায়, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

‎আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি দেখানো, জোরপূর্বক তুলে নেওয়া বা অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করা হলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অষ্টগ্রামে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ নিয়ে মতবিনিময়

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
অষ্টগ্রামে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ নিয়ে মতবিনিময়

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হাওরাঞ্চলের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়ন ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় হাওরাঞ্চলে ভাসমান নৌ-পাঠাগার স্থাপন, স্থানীয় পর্যায়ে পাঠক তৈরি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে বই ও তথ্য-জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অষ্টগ্রাম জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহযোগিতা এবং সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বর্মনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপপরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন সরকার। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোবারক হোসেন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপগ্রন্থাগারিক রাসেল রানা, অষ্টগ্রামের স্বপ্নীল গণগ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, মিঠামইনের হাওর পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ওমর ফারুকসহ অন্যরা।

সভায় বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রন্থাগারগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্গম হাওর এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে বই ও তথ্য-জ্ঞান পৌঁছে দিতে ভাসমান নৌ-পাঠাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

হাওরাঞ্চলের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাঠক তৈরির উদ্যোগ, বই পড়ার সংস্কৃতি বিস্তৃত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।

মিঠামইনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
মিঠামইনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে আঘাত ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরদিন বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় তারা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ নিয়ে আলোচনা হলেও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক আঘাত বন্ধ করা, বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

তবে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিদ্যালয়ের পাশের ব্রিজে গিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। তখন তিনি তাদের ‘শুধু শাসন করেছেন’।

বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।