শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ ১৪৩২
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ ১৪৩২

মসিকের কাঁচিঝুলি’তে লে-আউট নকসা ও প্লান অমান্য করে বহুতল ১০তলা ফাতিহা ভবন নির্মাণ করায় অপসারণের নির্দেশ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৪, ৫:২২ পিএম
মসিকের কাঁচিঝুলি’তে লে-আউট নকসা ও প্লান অমান্য করে বহুতল ১০তলা ফাতিহা ভবন নির্মাণ করায় অপসারণের নির্দেশ

ময়মনসিংহে কাচিঝুলি গোলাপজান রোডে সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান বাবুলের বাসার পাশে ডঃ মাহবুবুর রহমান গং শিক্ষক চাকুরিজীবী ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেট বিল্ডিং কোর্ডের নিয়ম নিতীমালার কোন তোয়াক্কা না করেই অনুমোদিত লে-আউট নকসা ও প্ল্যান অমান্য করে বহুতল ১০ (দশ তলা) ফাতিহা ভবন নির্মাণ করায় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় বর্ধিত অংশ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন ময়মনসিংহ বি. সি কমিটি ও সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ।

 

ময়মনসিংহে অপরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণ করার অনেক অভিযোগ রয়েছে ব্যক্তি মালিকানা এবং বিভিন্ন হাউজিং নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গুলির বিরুদ্ধে যাদের অনেকেই সিটি কর্পোরেশনের বিল্ডিং কোড নিয়ম নীতিমালা উপেক্ষা করে যে যার মতো অধিক মুনাফা অর্জন করার জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন কতিপয় সিন্ডিকেট করে।

 

যাহার দরুণ ভূমির পরিমান ও ভবনের তলার উচ্চতা অনুসারে অনুমোদিত লে-আউট নকসা ও লে-আউট প্লান অমান্য করে বিল্ডিং কোর্ডের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর হিরিক পরে গেছে।

 

অনুমোদিত নকশার ইনডোর, আউটডোরে ব্যাপক গরমিল করে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

 

এছাড়াও সরকারের ভিপি সম্পত্তিতে গৌরহরী বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদনের সফলতা দেখিয়েছেন এই সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্টরা, এ সকল সংবাদ প্রকাশিত হলেও দুর্নীতিগ্রস্তরাই দায়িত্বে থাকায় তদন্তের নামে চিঠি চালাচালি করলেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।

 

রবিবার (১৩ অক্টোবর) ২০২৪ তারিখে নিয়ম বহির্ভূত একটি বহুতল ভবন নির্মাণের ঘটনাস্থলে পরিদর্শন কালে সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান বাবুল ঐ ভবনের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র দেখালেন যা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ময়মনসিংহ বি.সি. কমিটি কর্তৃক ডঃ মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান গং, ১৩/ক গোলাপজান রোড, কাঁচিঝুলি, সদর, ময়মনসিংহ যার বিআরএস দাগ নং-৪৬৬, ৪৬৮, খতিয়ান নং বিআরএস -৩৪৪০, জেএল নং-৭৪, মৌজা-গোহাইলকান্দি এর নির্মানাধীন ০৯ (নয়) তলা আবাসিক ভবনের লে-আউট নকশা ও প্লান অনুমোদন দেয়া হয়।

 

নির্মাণাধীন বহুতল ভবনটির বিযয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সভাপতি বিসি কমিটি বরাবরে অভিযোগ করা হলে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগ এর মাধ্যমে ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরিমাপ করা হয়। বি.সি কমিটির তদন্তে দেখা যায় অনুমোদিত লে-আউট নকশা অনুযায়ী উক্ত ভবনের সম্মুখে ছাড়তে হবে ১.৫০ মিটার কিন্তু ছাড়া হয়েছে ০.৩০ মিটার, দুই পাশে ছাড়তে হবে ১.২৫ মিটার করে কিন্তু ছাড়া হয়েছে ০.৩০ মিটার এবং পিছনে ছাড়তে হবে ২.০০ মিটার কিন্তু ছাড়া হয়েছে ০.৩০ মিটার যাহার অনুমোদিত লে-আউট নকশা অনুযায়ী ছাড়া হয়নি। যাহাতে অনুমোদিত লে-আউটের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।

 

এছাড়াও ০৯ (নয়) তলা আবাসিক ভবনের লে-আউট প্লান অনুমোদন নিয়ে ডঃ মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান গং, ১০ (দশ তলা) নির্মাণ করেছেন। অনুমোদন বহির্ভূত নির্মিত ১০ (দশ তলা) অপসারণ এবং অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যানের সেট-ব্যাগ অনুযায়ী বর্ধিত অংশ অপসারণ করার জন্য জেলা প্রশাসক কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছেন এবং তদন্তে সন্তোষ প্রকাশ পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা ‘কে অনুরোধ ক্রমে নির্দেশ দেন।

 

সিটি কর্পোরেশন নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস ও গণপূর্ত বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ জিলুর রহমান সিদ্দিকী সদস্য সচিব বি.সি কমিটি ময়মনসিংহ সংশ্লিষ্টদের পত্র প্রেরণের মাধ্যমে একাধিক বার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রকৃয়া অব্যাহত থাকলেও সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বাদী ‘কে অজ্ঞাত কারণে ৩ মাস অপেক্ষা করতে সময় নেওয়ার পরেও অজ্ঞাত কারণে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অবশেষে এই বিষয়ে বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বরাবরে উপরোক্ত সমস্ত কাগজ পত্র দাখিল করলে তিনি এই ফাতিহা ভবনটি নির্মাণে বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং মানস বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক পত্রে মাহবুবুর রহমান গং বিবাদী পক্ষ’কে উক্ত ফাতিহা ভবন এর সকল বর্ধিত অংশ ১৫ দিনের মধ্যে ভেঙ্গে অপসারণ করে সিটি কর্পোরেশন’কে অবহিত করা সহ ব্যাবস্থা নিতে অনুরোধ ক্রমে নির্দেশ দিয়েছেন ।

 

এছাড়াও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহের দুর্নীতিগ্রস্থদের চিহ্নিত করা সহ অভিলম্ভে অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যান নকশা অনুযায়ি বর্ধিত অংশ অপসারণ ও বিল্ডিং কোর্ড আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নগরবাসী কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

ময়মনসিংহে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত: থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত: থানায় মামলা

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বেগুনবাড়ী এলাকায় বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুছ (৬৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অটোরিকশায় থাকা আরও দুই যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ–টাঙ্গাইল মহাসড়কের ৯নং খাগডহর ইউনিয়নের ৩নং মাইজবাড়ী ওয়ার্ডের বেগুনবাড়ী এলাকায় হারটি রাস্তার মোড়ে।

নিহত আব্দুল কদ্দুছ দেওখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দুইজন যাত্রী নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-২০৬৫) বেপরোয়া গতিতে এসে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুছ মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের মৃত্যুসনদে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা (RTA) উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত অপর দুই যাত্রী হলেন, তৌহিদ (৩৮) ও নজরুল মিয়া (৬০)। তাদের মধ্যে তৌহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদের তৌহিদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন এবং নজরুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মমেক হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে।

ঘটনার পর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মর্জিনা (৫৮) কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, বাসটির অজ্ঞাতনামা চালক বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে তার স্বামীর অটোরিকশায় ধাক্কা দিয়ে মৃত্যু ঘটিয়েছে।

পুলিশ জানায়, বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, সিএনজি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, সিএনজি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ আরিফ হাসান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানাধীন মাইজহাটি এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ বাদল মিয়া (৩৯) কে গ্রেফতার করেন। অভিযানের সময় সিএনজিটির পিছনের ইঞ্জিনের ডালার উপর বিশেষভাবে তৈরিকৃত একটি বাক্সের ভেতর থেকে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত বাদল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানার চিনাইর (পূর্বপাড়া চৌধুরীবাড়ী) এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

অপরদিকে, একই দিন বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ মুকিত হাসান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী দেওয়ান মোহাম্মদ আলী (৫৪) কে গ্রেফতার করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কেরাব দেওয়ান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধেও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

উদ্ধারকৃত ৮ কেজি গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে গফরগাঁও ও কোতোয়ালী মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল। এদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের এমন তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ: আহত-১০

নিজস্ব প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৭ এম
বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ: আহত-১০

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা-১০ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলীয় বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় গফরগাঁও পৌর শহরের ইসলামিয়া স্কুলের সামনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

আহতদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সোহাগ, রবিন, জসিম, মোঃ ফরহাদ, দেলোয়ার হোসেন, মহসিন, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ আরও অনেক নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকেরা ধানেরশীষ প্রতিকের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে ঘটনাস্থল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একই সময় দলীয় বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহ ওই এলাকায় প্রবেশ করলে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় অতপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও ছাত্রদলের অফিসে অগ্নিসংযোগ করাসহ আরো কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়েছে। এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়ে বলেনএই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “প্রতীক পাওয়ার পর আমার সমর্থকেরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছে। আমি নিজে গাড়িতে ছিলাম। আমরা কোনো হামলায় জড়িত নই।

এ ঘটনায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে দলীয় অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তিনি শিল্প ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলার আসামি হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পাননি। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে দুদকের মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “মামলা রাজনৈতিক বাস্তবতায় হতেই পারে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার।

এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।