শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ ১৪৩২
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ ১৪৩২

তদন্তের দাবী স্থানীয়দের

আ’লীগ নেতারা আত্মগোপনে; থামছে না কর্মীদের হুংকার!

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ২:৫৬ এম
আ’লীগ নেতারা আত্মগোপনে; থামছে না কর্মীদের হুংকার!

সারাদেশের আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে ঠিক তেমনি পালিয়ে বা আত্মগোপনে রয়েছে ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের নেতারাও। তবে বীর দর্পে তৃণমূলের কর্মীরা দিয়ে যাচ্ছে হুংকার। যেন শুধু অপেক্ষার পালা এইতো চলে আসছে সৈরাচার ফ্যাসিস সরকারের শেখ হাসিনা।

আবার অনেকেই ঘাপটি মেরে থেকে আধিপত্য বিস্তার লাভের আশায় অন্যান্য দলের নেতাদের সাথে চলছে লেয়াজু ভিত্তিক রাজনীতির নামে মাঠে থাকার চেষ্টায়। সুযোগ পেলেই রাজনীতির বিষাক্ত ছোবলের শিকার হতে পারে ভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।

সুত্র মতে, পালিয়ে বা আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের ইশারায় রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার কৌশল হিসেবে নতুন নতুন সামাজিক সংগঠনের নাম আত্মপ্রকাশ পাচ্ছে। সেই সংগঠনগুলোর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতায় বিএনপি’র নেতাদের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি বা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত রাখার টার্গেট রয়েছে আওয়ামী লীগের বলিষ্ঠ শক্তিধর তৃনমুল নেতাকর্মীদের। যেমনটি হয়েছে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস সরকারের আমলে হাইব্রিড নেতাদের ক্ষেত্রে।

সরকার পতনের পর ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতারা আত্মগোপনে থাকলেও ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী হাইব্রিডরা।শেখ হাসিনার ফ্যাসিস সরকারের শাসনামলে গৃহপালিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে হাতে রেখে বিএনপি, জামায়াতের নেতাদের দমন নিপীড়ন করতে একের পর এক জ্বালাও পোড়াও নাশকতার মামলা দিয়ে ধমিয়ে রেখেছেন।

বিএনপি জামায়াতের নেতারা তখন মাঠে নামতে না পারলেও আওয়ামী লীগ তৃনমুলের নেতাকর্মীরা বিএনপি জামায়াতের ছদ্মবেশে জ্বালাও পোড়াও অগ্নিসংযোগ করে নাশকতার মামলা ঠুকে দিত বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে।

আবার অনেক সময় ধরা পড়ে নাশকতার মামলা হলে আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতেন। এক্ষেত্রে অনেক পাতি নেতারা বলির পাঠাও হয়েছে।

জমিন তদন্তে উঠে এসেছে, ময়মনসিংহ বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় আত্মপ্রকাশ করেছে “বন্ধু মহল” বন্ধু ক্লাব, জীবন গঠন, নতুন জীবন নামের সংগঠন। মুলত এই সংগঠনগুলোকে সামাজিক সংগঠন হিসেবে দাবী করলেও এরা আওয়ামী লীগের তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব নামের সংগঠনগুলোর কাজ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কেবলই আওয়ামী রাজনীতির ভিত শক্তিশালী করার কৌশল মাত্র।

ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলা চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রাজগঞ্জ বাজারে সাবেক এমপি মোহিত উর রহমান শান্ত’র অনুসারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শাহিন, গফরগাঁওয়ের সাবেক এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল’র অনুসারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এম এ কাউসার, সাবেক এমপি শরীফ আহমেদের অনুসারী সাখাওয়াত (বন্দুক সাখা) নকলায় শামিম আহম্মেদ (পিস্তল শামি) মুক্তাগাছা কে এম খালিদের অনুসারী (লেংড়া শামিম)সহ তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী কিশোর গ্যাংদের সদস্য করে “বন্ধু মহল” বন্ধু ক্লাব, জীবন গঠন নামের সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। সংগঠনে উদ্বোধনে অতিথি হিসেবে টার্গেট করা হচ্ছে বিএনপি নেতাদের। তবে বেশ কয়েকটি সংগঠনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত নাখোশ করেছে বিএনপি নেতারা।

ময়মনসিংহ সদরের চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের একাধিক সুত্র জানায়, সদর ৪ আসনের প্রভাবশালী সাবেক এমপির অনুসারী সামান্তা এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শাহিন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস সরকারের আমলে ইট, পাথর, বালি ব্যবসার আড়ালে ঘরে তুলে কিশোর গ্যাং। বিএনপি নেতাকর্মীদের নাশকতা মামলায় ফাঁসাতে নিজেই নাশকতা করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র জানায়, বিএনপি নেতাদের ফাঁসাতে মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শাহিন নাশতায় অংশ গ্রহনের কারনে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা রুজু হয়। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হাত ধরে সাবেক এমপি মোহিত উর রহমান শান্ত’র হাতে ফুল দিয়ে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিতে জোড় তদবির করেন।

ফ্যাসিস সরকার পতনের সাথে সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিজেকে আবারও বিএনপি মতাদর্শী হিসেবে দাবী করেন। এতে স্থান না পেয়ে সামান্তা এন্টারপ্রাইজ এবং বন্ধু ক্লাবের আত্মপ্রকাশ করে ব্যাপক জাঁকযমক আয়োজনে তা উদ্বোধন করে।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকর্মীরা সাড়া না দেওয়ায় প্রধান অতিথি চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব ফারুকুল ইসলাম রতনের উপস্থিতিতে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. ফয়সাল আহমেদ উদ্বোধন করেন। রাতে আয়োজন করা হয় বাউল গানের নামে কনসার্ট।

স্থানীয়রা জাতীয় সেবা ৯৯৯ এবং কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে অবগত করলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। এসময় পুলিশ কনসার্ট বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শাহিন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস সরকারের পতনের পর ময়মনসিংহে ভয়ংকর খলনায়ক “আ”লীগ নেতা আব্দুল মজিদ” শিরোনামে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে স্থানীয় এক সাংবাদিককে সাহেব কাচারি বাজারে দেখামাত্র প্রকাশ্য উঠিয়ে নিয়ে মারধরের হুমকি প্রদান করে। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নং-৩৯১ তারিখ ০৩/০৯/২০২৪ইং।

এর আগে “নিজের চরকায় তৈল দাও” শিরোনামে একটি স্কুল, মাজারের অনিয়ম দুর্নীতি ও এলাকায় চুরি ছিনতাই চাঁদাবাজি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকের পথরোধ করে তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে হামলা করে হাত পা গুড়িয়ে দেয়। কোতোয়ালি মডেল থানা মামলা নং-৯৮(৩)২০২১ইং।

চলমান…।

ময়মনসিংহে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত: থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত: থানায় মামলা

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বেগুনবাড়ী এলাকায় বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুছ (৬৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অটোরিকশায় থাকা আরও দুই যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ–টাঙ্গাইল মহাসড়কের ৯নং খাগডহর ইউনিয়নের ৩নং মাইজবাড়ী ওয়ার্ডের বেগুনবাড়ী এলাকায় হারটি রাস্তার মোড়ে।

নিহত আব্দুল কদ্দুছ দেওখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দুইজন যাত্রী নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-২০৬৫) বেপরোয়া গতিতে এসে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুছ মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের মৃত্যুসনদে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা (RTA) উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত অপর দুই যাত্রী হলেন, তৌহিদ (৩৮) ও নজরুল মিয়া (৬০)। তাদের মধ্যে তৌহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদের তৌহিদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন এবং নজরুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মমেক হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে।

ঘটনার পর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মর্জিনা (৫৮) কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, বাসটির অজ্ঞাতনামা চালক বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে তার স্বামীর অটোরিকশায় ধাক্কা দিয়ে মৃত্যু ঘটিয়েছে।

পুলিশ জানায়, বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, সিএনজি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, সিএনজি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ আরিফ হাসান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানাধীন মাইজহাটি এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ বাদল মিয়া (৩৯) কে গ্রেফতার করেন। অভিযানের সময় সিএনজিটির পিছনের ইঞ্জিনের ডালার উপর বিশেষভাবে তৈরিকৃত একটি বাক্সের ভেতর থেকে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত বাদল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানার চিনাইর (পূর্বপাড়া চৌধুরীবাড়ী) এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

অপরদিকে, একই দিন বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ মুকিত হাসান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী দেওয়ান মোহাম্মদ আলী (৫৪) কে গ্রেফতার করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কেরাব দেওয়ান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধেও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

উদ্ধারকৃত ৮ কেজি গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে গফরগাঁও ও কোতোয়ালী মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল। এদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের এমন তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ: আহত-১০

নিজস্ব প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৭ এম
বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ: আহত-১০

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা-১০ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলীয় বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় গফরগাঁও পৌর শহরের ইসলামিয়া স্কুলের সামনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

আহতদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সোহাগ, রবিন, জসিম, মোঃ ফরহাদ, দেলোয়ার হোসেন, মহসিন, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ আরও অনেক নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকেরা ধানেরশীষ প্রতিকের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে ঘটনাস্থল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একই সময় দলীয় বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহ ওই এলাকায় প্রবেশ করলে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় অতপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও ছাত্রদলের অফিসে অগ্নিসংযোগ করাসহ আরো কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়েছে। এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়ে বলেনএই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “প্রতীক পাওয়ার পর আমার সমর্থকেরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছে। আমি নিজে গাড়িতে ছিলাম। আমরা কোনো হামলায় জড়িত নই।

এ ঘটনায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে দলীয় অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তিনি শিল্প ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলার আসামি হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পাননি। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে দুদকের মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “মামলা রাজনৈতিক বাস্তবতায় হতেই পারে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার।

এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।