মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে গেস্ট হাউসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি: গ্রেফতার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
ময়মনসিংহে গেস্ট হাউসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি: গ্রেফতার ১

ময়মনসিংহ নগরের স্টেশন রোডে অবস্থিত খাজা গেস্ট হাউসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মুসলিম উদ্দিন তুষার (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) কোতোয়ালী মডেল থানার আওতাধীন ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্টেশন রোডের খাজা গেস্ট হাউসে গিয়ে মালিকপক্ষের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তুষার। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া স্টেশন রোড ও আশপাশের বিভিন্ন গেস্ট হাউস এবং আবাসিক হোটেলের ব্যবসায়ীদের কাছেও চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ পুলিশকে অবহিত করলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মুসলিম উদ্দিন তুষার নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরোহিতপাড়া এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

১নং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মহিউদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তুষারের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ময়মনসিংহে বাসে তল্লাশি, ৫ হাজার ৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
ময়মনসিংহে বাসে তল্লাশি, ৫ হাজার ৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চইগ্য চাকমা (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা।

গ্রেপ্তার চইগ্য চাকমা কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানার তেলখোলা চাকমাপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মংছেচিং চাকমা এবং মায়ের নাম ছৈমাচিং চাকমা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়, ময়মনসিংহ সূত্রে জানা যায়, জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক লুৎফর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে বাসটিতে তল্লাশি করা হয়। এ সময় চইগ্য চাকমার ডান হাতে থাকা একটি কাপড়ের শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে ৫ হাজার ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ৫০৪ গ্রাম।

প্রাথমিকভাবে তাঁকে আন্তজেলা মাদক কারবারে জড়িত বলে উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়, ময়মনসিংহের উপপরিদর্শক মো. আল মাসুদ বাদী হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪ ঘর বিক্রির অভিযোগ

সোহেল মিয়া, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ পিএম
ময়মনসিংহে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪ ঘর বিক্রির অভিযোগ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৩নং বোররচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গুচ্ছগ্রামের মোট আটটি ঘরের মধ্যে চারটি ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন বরাদ্দ পাওয়া সুবিধাভোগীরা। প্রতিটি ঘর ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীন, গৃহহীন ও অসহায় মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার এসব ঘর নির্মাণ করে বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া কয়েকজন সুবিধাভোগী অন্যত্র চলে গিয়ে তাঁদের নামে বরাদ্দ করা ঘর অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাবলম্বী থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে এসব ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই ঘর অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর অসহায় মানুষের স্থায়ী আবাসনের জন্য দেওয়া হয়েছে। এসব ঘর ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো বিক্রি বা হস্তান্তর করা হলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবেন। তাই ঘর বরাদ্দের প্রক্রিয়া, সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা এবং ঘর বিক্রির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এলাকাবাসী আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ঘরের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি করা আইনত অপরাধ। যাঁদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কেবল তাঁরাই সেখানে বসবাস করতে পারবেন। এসব ঘর বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত ঘরগুলোর বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

মিঠামইনে সততার দৃষ্টান্ত আব্দুর রউফ, ফেরত দিলেন কুড়িয়ে পাওয়া ৩৮ হাজার টাকা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
মিঠামইনে সততার দৃষ্টান্ত আব্দুর রউফ, ফেরত দিলেন কুড়িয়ে পাওয়া ৩৮ হাজার টাকা

সততা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ। কুড়িয়ে পাওয়া ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ না করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। তাঁর এমন দায়িত্বশীল আচরণ স্থানীয় মানুষের মধ্যে সততা ও নৈতিকতার ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর সকালে মিঠামইন উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া ৩৮ হাজার টাকা নিয়ে বাজারে আসেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তাঁর টাকার বান্ডিলটি হারিয়ে যায়। পরে একটি ঘরে পড়ে থাকা টাকার বান্ডিলটি কুড়িয়ে পান সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ।

টাকা পাওয়ার পর তিনি তা নিজের কাছে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে টাকার মালিক কুদ্দুস মিয়াকে শনাক্ত করে পুরো ৩৮ হাজার টাকা তাঁর হাতে ফিরিয়ে দেন।

নিজের এই কাজের বিষয়ে আব্দুর রউফ বলেন, “পরের টাকার ওপর আমার মোটেও লোভ নেই। পৃথিবীতে এসেছি খালি হাতে, আবার পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাব খালি হাতে। আমি মনে করি, সবার মধ্যেই সততা থাকা প্রয়োজন।”

আব্দুর রউফের এই সততার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশংসার সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাঁর এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, হারানো টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা সমাজে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে।

ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা মনে করেন, বর্তমান সময়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে এমন কাজ নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়। কুড়িয়ে পাওয়া অর্থের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে তা ফিরিয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় উদ্যোগ।

হারানো কষ্টার্জিত টাকা ফিরে পেয়ে কুদ্দুস মিয়া যেমন স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনি আব্দুর রউফের এই উদ্যোগ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও মানবিকতার বার্তা দিয়েছে। তাঁর এই কাজ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের প্রকৃত পরিচয় শুধু সম্পদে নয়, সততা ও নৈতিকতার মধ্যেও নিহিত।