ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৩নং বোররচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গুচ্ছগ্রামের মোট আটটি ঘরের মধ্যে চারটি ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন বরাদ্দ পাওয়া সুবিধাভোগীরা। প্রতিটি ঘর ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীন, গৃহহীন ও অসহায় মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার এসব ঘর নির্মাণ করে বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া কয়েকজন সুবিধাভোগী অন্যত্র চলে গিয়ে তাঁদের নামে বরাদ্দ করা ঘর অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাবলম্বী থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে এসব ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই ঘর অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর অসহায় মানুষের স্থায়ী আবাসনের জন্য দেওয়া হয়েছে। এসব ঘর ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো বিক্রি বা হস্তান্তর করা হলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবেন। তাই ঘর বরাদ্দের প্রক্রিয়া, সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা এবং ঘর বিক্রির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ঘরের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি করা আইনত অপরাধ। যাঁদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কেবল তাঁরাই সেখানে বসবাস করতে পারবেন। এসব ঘর বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত ঘরগুলোর বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

সোহেল মিয়া, ময়মনসিংহ।।