সততা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ। কুড়িয়ে পাওয়া ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ না করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। তাঁর এমন দায়িত্বশীল আচরণ স্থানীয় মানুষের মধ্যে সততা ও নৈতিকতার ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর সকালে মিঠামইন উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া ৩৮ হাজার টাকা নিয়ে বাজারে আসেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তাঁর টাকার বান্ডিলটি হারিয়ে যায়। পরে একটি ঘরে পড়ে থাকা টাকার বান্ডিলটি কুড়িয়ে পান সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ।
টাকা পাওয়ার পর তিনি তা নিজের কাছে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে টাকার মালিক কুদ্দুস মিয়াকে শনাক্ত করে পুরো ৩৮ হাজার টাকা তাঁর হাতে ফিরিয়ে দেন।
নিজের এই কাজের বিষয়ে আব্দুর রউফ বলেন, “পরের টাকার ওপর আমার মোটেও লোভ নেই। পৃথিবীতে এসেছি খালি হাতে, আবার পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাব খালি হাতে। আমি মনে করি, সবার মধ্যেই সততা থাকা প্রয়োজন।”
আব্দুর রউফের এই সততার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশংসার সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাঁর এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, হারানো টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা সমাজে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে।
ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা মনে করেন, বর্তমান সময়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে এমন কাজ নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়। কুড়িয়ে পাওয়া অর্থের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে তা ফিরিয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় উদ্যোগ।
হারানো কষ্টার্জিত টাকা ফিরে পেয়ে কুদ্দুস মিয়া যেমন স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনি আব্দুর রউফের এই উদ্যোগ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও মানবিকতার বার্তা দিয়েছে। তাঁর এই কাজ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের প্রকৃত পরিচয় শুধু সম্পদে নয়, সততা ও নৈতিকতার মধ্যেও নিহিত।

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।।