রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৫ পিএম
ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পূর্ণাঙ্গ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, ঢাকার অদূরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে দ্রুত সমীক্ষা চালানো হবে। একই সঙ্গে বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর সারিন্দা সবারি রিসোর্টে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগকে অবহেলিত হিসেবে দেখতে চান না তিনি। বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নোয়াখালী, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ যেভাবে নিজেদের এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন, ময়মনসিংহের মানুষকেও সেভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের অগ্রগতি বিবেচনায় ত্রিশাল এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ পর্যায়ক্রমে ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৬-৩৭ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তত দিনে বর্তমান বহরের অধিকাংশ উড়োজাহাজের পরিচালন মেয়াদ শেষ হয়ে আসবে। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় রেখেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, নিউইয়র্ক, সিডনি, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে এসব বিষয়ে কাজ করতে হবে।

ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি নিজে এ বিষয়ে কথা বলবেন।

এ ছাড়া ময়মনসিংহে শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে। এ জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেত্রকোনার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে বৃহত্তর ময়মনসিংহের পর্যটন সম্ভাবনা বাড়বে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আজকের কৃতী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সাফল্য দেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।

ময়মনসিংহে বেকারত্ব দূরীকরণ ও যুবকদের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার’ এ বিশ্বাস ধারণ করে সবাইকে সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। পূজায় কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক পথ বেছে নিয়ে মেধা, যোগ্যতা ও সততার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতে তাদের মধ্য থেকেই চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিরা উঠে আসবেন।

ময়মনসিংহের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলায় একটি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে সাংবাদিকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি আধুনিক সিনেপ্লেক্স ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলাতেই তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন। এতে আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার।

এ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, অভিভাবক ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তারাকান্দায় খুনের মামলা রুজু হলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলে আসামী ধরা হবে!

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম
তারাকান্দায় খুনের মামলা রুজু হলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলে আসামী ধরা হবে!

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় পাঁচ বছরের শিশু হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহতের বাবা আব্দুল আলীম। তাঁর অভিযোগ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল হাসান তাঁকে জানিয়েছেন, আসামি গ্রেপ্তারের জন্য নিহত শিশুর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।

মামলার বাদী আব্দুল আলীমের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল মালেকের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তিনি। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ভ্যানচালক আব্দুল আলীমের ছেলে হাসান (৫) গত ১১ আগস্ট ২০২৬ দুপুরে প্রতিবেশী আব্দুল মালেকের বাড়িতে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে ধলাই নদীতে কচুরিপানায় ঢাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আব্দুল আলীমের দাবি, জমিজমা নিয়ে আব্দুল মালেকের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝগড়াও হতো। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়ভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তদন্তে কী তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত শিশুর বাবা দাবি করেন, ধলাই নদীটি খরস্রোতা হওয়ায় তাঁর ছেলে সেখানে স্বাভাবিকভাবে যাওয়ার কথা নয়। এ কারণে শিশুটির মৃত্যু নিয়ে তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে শিশুটি কীভাবে নদীতে গেল, কীভাবে তার মৃত্যু হলো এবং মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বাদীর অভিযোগ, ছেলের মরদেহ উদ্ধারের পর তিনি একাধিকবার তারাকান্দা থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রথমদিকে মামলা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। পরে তিনি ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৬ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন। আদালতের প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি তারাকান্দা থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

মামলাটির নম্বর ৩, তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু হয়েছে বলে জানা গেছে।

আব্দুল আলীমের ভাষ্য, মামলার অগ্রগতি জানতে তিনি একাধিকবার থানায় যোগাযোগ করেছেন। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাবুল হাসান তাঁকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে এগোনোর কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। ফলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, তদন্তের অগ্রগতি এবং আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটন এখন পরিবারের প্রত্যাশা।

‎হালুয়াঘাটে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

রনি বসু।। প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম
‎হালুয়াঘাটে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

‎ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের পুনর্বাসনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অযোগ্য ও বিতর্কিতদের অবৈধ সুবিধা দিয়ে ডিলারশিপ প্রদান এবং প্রকৃত স্বচ্ছ ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে বিচার বিভাগীয় অথবা নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়।

‎শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাইমুর আরেফিন পাপন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো. কাজিম উদ্দিন, আশিকুল ফারহান তকী, এমেলি খান শাওন, সাফায়েত হোসেন প্রমুখ।

‎সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। এতে বিতর্কিত ব্যক্তি ও ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

‎সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয় যে, সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে একটি বিশেষ প্রশাসনিক চক্রের যোগসাজশে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী ও বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গকে অবৈধভাবে ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী প্রার্থীর গুদামজাতকরণ সক্ষমতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং স্থানীয়ভাবে সুনামের বিষয়সমূহ যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।

‎বক্তারা বলেন, আইনের তোয়াক্কা না করে গোপনীয়তা বজায় রেখে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত এবং প্রশাসনিকভাবে চিহ্নিত সুবিধাবাদী। এই ধরনের নিয়োগ আইনের শাসন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার চূড়ান্ত লঙ্ঘন।

‎বক্তারা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত আইনের দৃষ্টিতে প্রারম্ভিকভাবেই বাতিলযোগ্য। অবিলম্বে এই বিতর্কিত তালিকা বাতিল না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়েরসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

‎এদিকে সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে আইনগত প্রশ্ন ওঠায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় কৃষিভিত্তিক প্রান্তিক কৃষকরাও। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে এই নিয়োগ তালিকা স্থগিত করে অবিলম্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প আইনি পথ খোলা নেই।

মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় ভাইরাল খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াজ গ্রেফতার

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম
মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় ভাইরাল খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াজ গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় অবশেষে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ মনোয়ার মোহাম্মদের একটি আইডি থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ছবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র মিঠামইন উপজেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ভাইরাল খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ছবিতে দেখা যায়, মিঠামইন থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তার সাথে হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই যুবক। এরাই অভিযুক্ত খোকা ও রিয়াজ। সাদা শার্ট পরিহিত অপর একজনকেও ছবিতে দেখা যাচ্ছে।তিনি হলেন মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ মনোয়ার মোহাম্মদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে খোকা ও তার ভাতিজার নাম সামনে আসে এবং তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

এ বিষয়ে মিঠামইন থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

এলাকাবাসী এই গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।