প্রকাশের সময়: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:০৯ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

তারাকান্দায় খুনের মামলা রুজু হলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলে আসামী ধরা হবে!

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় পাঁচ বছরের শিশু হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহতের বাবা আব্দুল আলীম। তাঁর অভিযোগ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল হাসান তাঁকে জানিয়েছেন, আসামি গ্রেপ্তারের জন্য নিহত শিশুর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।

মামলার বাদী আব্দুল আলীমের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল মালেকের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তিনি। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ভ্যানচালক আব্দুল আলীমের ছেলে হাসান (৫) গত ১১ আগস্ট ২০২৬ দুপুরে প্রতিবেশী আব্দুল মালেকের বাড়িতে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে ধলাই নদীতে কচুরিপানায় ঢাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আব্দুল আলীমের দাবি, জমিজমা নিয়ে আব্দুল মালেকের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝগড়াও হতো। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়ভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তদন্তে কী তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত শিশুর বাবা দাবি করেন, ধলাই নদীটি খরস্রোতা হওয়ায় তাঁর ছেলে সেখানে স্বাভাবিকভাবে যাওয়ার কথা নয়। এ কারণে শিশুটির মৃত্যু নিয়ে তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে শিশুটি কীভাবে নদীতে গেল, কীভাবে তার মৃত্যু হলো এবং মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বাদীর অভিযোগ, ছেলের মরদেহ উদ্ধারের পর তিনি একাধিকবার তারাকান্দা থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রথমদিকে মামলা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। পরে তিনি ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৬ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন। আদালতের প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি তারাকান্দা থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

মামলাটির নম্বর ৩, তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু হয়েছে বলে জানা গেছে।

আব্দুল আলীমের ভাষ্য, মামলার অগ্রগতি জানতে তিনি একাধিকবার থানায় যোগাযোগ করেছেন। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাবুল হাসান তাঁকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে এগোনোর কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। ফলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, তদন্তের অগ্রগতি এবং আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটন এখন পরিবারের প্রত্যাশা।

চেয়ারম্যান: তানভীর হাসান তপু ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: আতিকুল ইসলাম। বার্তাকক্ষ: newsutvbd@gmail.com. কপিরাইট © ইউটিভি বাংলাদেশ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন