ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পূর্ণাঙ্গ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, ঢাকার অদূরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে দ্রুত সমীক্ষা চালানো হবে। একই সঙ্গে বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর সারিন্দা সবারি রিসোর্টে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগকে অবহেলিত হিসেবে দেখতে চান না তিনি। বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নোয়াখালী, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ যেভাবে নিজেদের এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন, ময়মনসিংহের মানুষকেও সেভাবে উদ্যোগী হতে হবে।
ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের অগ্রগতি বিবেচনায় ত্রিশাল এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ পর্যায়ক্রমে ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৬-৩৭ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তত দিনে বর্তমান বহরের অধিকাংশ উড়োজাহাজের পরিচালন মেয়াদ শেষ হয়ে আসবে। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় রেখেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নিউইয়র্ক, সিডনি, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে এসব বিষয়ে কাজ করতে হবে।
ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি নিজে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহে শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে। এ জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেত্রকোনার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে বৃহত্তর ময়মনসিংহের পর্যটন সম্ভাবনা বাড়বে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আজকের কৃতী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সাফল্য দেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
ময়মনসিংহে বেকারত্ব দূরীকরণ ও যুবকদের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার’ এ বিশ্বাস ধারণ করে সবাইকে সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। পূজায় কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক পথ বেছে নিয়ে মেধা, যোগ্যতা ও সততার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতে তাদের মধ্য থেকেই চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিরা উঠে আসবেন।
ময়মনসিংহের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলায় একটি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে সাংবাদিকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি আধুনিক সিনেপ্লেক্স ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলাতেই তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন। এতে আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার।
এ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, অভিভাবক ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।।