বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

কোচিং বাণিজ্য ও জোর করে স্টাম্পে স্বাক্ষরের পাল্টাপাল্টি দাবি

গফরগাঁওয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রবাসীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

রাকিবুল হাসান আহাদ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০১ পিএম
গফরগাঁওয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রবাসীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সৌদি প্রবাসীকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক আহসান উল্লাহ উপজেলার দীঘাপুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী বেলাল হোসেনের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৬ জুন সকালে নিজ জমিতে চারা রোপণ করতে গেলে শিক্ষক আহসান উল্লাহর নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি আহত হয়ে ১০ জুন পর্যন্ত গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় বেলাল হোসেন গফরগাঁও থানায় মামলা করেছেন। মামলাটির নম্বর ৭, তারিখ ১০ জুন ২০২৬। পরে তিনি জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন।

বেলাল হোসেনের দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পরও তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক আহসান উল্লাহ শিক্ষকতার পাশাপাশি জমি দালালি ও কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না।

বেলাল হোসেন বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও শিক্ষক আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো নথি বা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে দীঘাপুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মার্জিয়া খাতুন বলেন, “আহসান উল্লাহ মাস্টার নিয়মিত স্কুলে আসেন। তিনি খুবই ভালো ও দায়িত্বশীল একজন শিক্ষক।”

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক আহসান উল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার এক ভাই ইউএনও অফিসে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।” ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, “সব মিথ্যা কথা।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রবাসী বেলাল হোসেন ও তাঁর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবারের।

অপারেশন না করেই কাটা-সেলাই! ময়মনসিংহে ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে ‘চিকিৎসা সিন্ডিকেট’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
অপারেশন না করেই কাটা-সেলাই! ময়মনসিংহে ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে ‘চিকিৎসা সিন্ডিকেট’

ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া ও আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ঘিরে নানা সময়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রোগীকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো, অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া এবং চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ময়মনসিংহে অনুমোদনহীন ও মানহীন ক্লিনিকের বিস্তার এবং রোগী হয়রানির অভিযোগও উঠে এসেছিল।

এবার নগরীর ব্রহ্মপল্লী রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এক রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার না করেই কেটে সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। রোগীর স্বজনদের দাবি, নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রোপচারের বিষয়ে মৌখিকভাবে আলোচনা হলেও অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর তাদের সম্মতি ছাড়াই অস্ত্রোপচারের ধরন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—রোগীর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নির্ণয়, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা এবং অস্ত্রোপচারের ধরন নির্ধারণে যথাযথ চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।

রোগী সোহেলের অভিযোগ

অভিযোগকারী রোগী সোহেল মিয়া (৫৫) গার্মেন্টসকর্মী। তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে কর্মরত অবস্থায় পিঠ, পাঁজর ও মেরুদণ্ডের পেছনে ব্যথা অনুভব করলে তিনি হালুয়াঘাটের নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে পরিবারের উদ্যোগে গত ২ আগস্ট চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে আসেন।

পরিবারের দাবি, চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন ভূঁইয়ার পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন দেখার পর দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এরপর গত ১৭ আগস্ট পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পিত্তথলিতে পাথর ও ছোট আকারের টিউমার রয়েছে বলে জানিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসকের মৌখিকভাবে অস্ত্রোপচারের বিষয়ে চুক্তি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে বদলে গেল পরিকল্পনা?

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে তাঁদের ব্রহ্মপল্লী রোডের এপেক্স ওয়ান শাখায় যেতে বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহেল মিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, আগে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের কথা বলা হলেও অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের অনুমতি ছাড়াই ওপেন সার্জারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে পরে পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় জটিলতা নেই এমন পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় অস্ত্রোপচার না করেই রোগীর শরীরে কাটা দিয়ে সেলাই করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনাটি নিয়ে চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মতামত ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর সম্মতি, অস্ত্রোপচারের ধরন, ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে জানানো চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রশ্নবিদ্ধ ‘চিকিৎসা ব্যবসা’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে চরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নগরীর চরপাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে লাইসেন্স নবায়ন না করা, প্রশিক্ষিত জনবল না থাকা ও রোগী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়েবসাইটেও রোগীদের দালাল থেকে সতর্ক থাকতে এবং অনিয়ম দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই বাস্তবতায় বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে নিয়মিত নজরদারি কতটা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

‘নাম ব্যবহার করে চিকিৎসা’ -অভিযোগ কতটা সত্য?

রোগীর স্বজনদের আরও অভিযোগ, ময়মনসিংহের কয়েকটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে খ্যাতনামা চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে রোগী আকৃষ্ট করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি চক্র কাজ করছে বলে তাঁদের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিএমডিসি নিবন্ধন, হাসপাতালের লাইসেন্স, অস্ত্রোপচারের নথি, রোগীর সম্মতিপত্র, আল্ট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদন এবং বিলের কাগজপত্র পরীক্ষা করা জরুরি।

লাইসেন্স ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন

সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের অনলাইন নথিতে ‘Apex Hospital (Pvt.) & Diagnostic Centre’-এর নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়; সেখানে লাইসেন্সের মেয়াদ ১১ জানুয়ারি ২০২৪-এ শেষ হওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তবে সেটি সংশ্লিষ্ট এপেক্স ওয়ান শাখার বর্তমান লাইসেন্স পরিস্থিতি কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন, চরপাড়া ও আশপাশে পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বর্তমান লাইসেন্স, চিকিৎসক তালিকা, নার্স-টেকনিশিয়ান, অপারেশন থিয়েটারের অনুমোদন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়মিত যাচাই করা হয় কি না।

জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কবে?

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার, ভুল চিকিৎসা কিংবা রোগীর সম্মতি ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতি পরিবর্তনের অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

এ বিষয়ে রোগী সোহেল মিয়া ও তাঁর পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর চিকিৎসা নথি ও অস্ত্রোপচারের কাগজপত্র স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ময়মনসিংহের বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

আহ্বায়ক এনামুল, সদস্য সচিব ডায়মন্ড খান

মিঠামইনে এনসিপির ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২০ এম
মিঠামইনে এনসিপির ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে হাওর উপজেলা মিঠামইনে ৫২ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট ছয় মাস মেয়াদি এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত কমিটিতে মোহাম্মদ এনামুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং ডায়মন্ড খানকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা এনসিপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার লক্ষ্যেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপজেলার সব ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কমিটির সদস্যরা কাজ করবেন।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মো. এনামুল ইসলাম বলেন, ‘মিঠামইনের মানুষের অধিকার আদায় এবং হাওর এলাকার উন্নয়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। তৃণমূলকে শক্তিশালী করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

সদস্য সচিব ডায়মন্ড খান বলেন, ‘জেলা নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সংগঠন পরিচালনা করা হবে। খুব শিগগিরই সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে।’

দলীয় সূত্র জানায়, ৫২ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে মিঠামইন উপজেলায় এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। আগামী দিনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মিঠামইনে সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ পিএম
মিঠামইনে সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় সাবেক ইউপি সদস্য মো. মুক্তার উদ্দিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোপদীঘি ইউনিয়নের নতুন চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে মো. মুক্তার উদ্দিন গত ২৫ আগস্ট দিবাগত রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুমাতে যান। ভোররাতে স্বজনরা ঘরের ভেতর তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে তাঁদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মরদেহটি নিচে নামিয়ে আনেন।

খবর পেয়ে ২৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে মিঠামইন থানার এসআই রিয়াজ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মুক্তার উদ্দিনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখলেও একটি পক্ষের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে মরদেহ দড়িতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

এ বিষয়ে পুলিশও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সাবেক এই জনপ্রতিনিধির অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গোপদীঘি ইউনিয়নজুড়ে শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।