মামলা চলমান, তবুও বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ
ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও থানার বিল মাখল গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান থাকলেও বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আফাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মামলা ও সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা যায়, বিল মাখল গ্রামের মো. ছোরহাবের সঙ্গে আফাজ উদ্দিনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ জমিটির খতিয়ান নম্বর বিআরএস-২৪৬, হাল দাগ নম্বর বিআরএস-১৩৪৩। জমিটির শ্রেণি বাড়ি এবং মোট ০.১৮ একরের মধ্যে বিরোধ রয়েছে ৩ শতাংশ জমি নিয়ে। জমিটির চৌহদ্দি: উত্তরে আঃ রশিদ, দক্ষিণে মাইনুউদ্দিন, পূর্বে আঃ রশিদ এবং পশ্চিমে মফিজ উদ্দিন গং।
জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের নোটিশে বিরোধপূর্ণ তফসিলভুক্ত জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে উভয় পক্ষকে স্ব-স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই আফাজ উদ্দিন ও মহিজুদ্দিন বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমির দখল পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অপর পক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে ছোরহাবের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণে সহযোগিতা করছেন। স্থানীয়ভাবে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, আফাজ উদ্দিন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সেখানে নতুন করে নির্মাণকাজ চলায় সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে আফাজ উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আনসার-ভিডিপিতে চাকরি করি। এমপি সাহেব জানেন এবং এমপির লোকজনও বিষয়টি অবগত আছেন।’
জমি দখল করে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণ এবং প্রভাবশালী নেতাদের টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবাই অবগত আছেন।’
এদিকে, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ যাতে জমির দখল পরিবর্তন বা নতুন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।





