বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

‎সনদ জালিয়াতি ও ক্ষমতার দাপটে দনিয়া কলেজে সভাপতির চেয়ারে সাবেক এমপির পুত্র

মো. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম
‎সনদ জালিয়াতি ও ক্ষমতার দাপটে দনিয়া কলেজে সভাপতির চেয়ারে সাবেক এমপির পুত্র

‎★ মার্কিন নাগরিকের কাছে জিম্মি শিক্ষক-শিক্ষার্থী

‎★ বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্রয়দাতা খোদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

‎★ অধ্যক্ষহীন প্রতিষ্ঠানে চলতি দায়িত্বের বিড়ম্বনা

‎রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দনিয়া কলেজ এখন আর জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, বরং পরিণত হয়েছে একটি পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে। সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি আর ক্ষমতার দাপটে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিতর্কিত উপায়ে নিজের পুত্র ইমরান আহমেদকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে বসিয়ে রীতিমতো শিক্ষা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার জন্য যে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন, তা ইমরান আহমেদের নেই বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, এইচএসসি পাসের বিষয়টি নিয়েই যেখানে ধোঁয়াশা রয়েছে, সেখানে তিনি ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রির যে সনদ প্রদর্শন করছেন, তা মূলত জালিয়াতির ফসল। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রভাবশালী মহল প্রচ্ছন্ন মদদ দিয়েছে।

‎বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পরিচালক ড. মো: সুলতান মাহমুদ ভূইয়ার স্বাক্ষরিত ইবাইস ইউনিভার্সিটি’র বৈধতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়টির সাময়িক অনুমতিপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী ২০১২ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রমের কোন আইনগত ভিত্তি নেই এবং ২০১২ সালের পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত সনদের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এছাড়াও বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

‎কলেজের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সভাপতি হওয়ার আগ থেকেই সালাহউদ্দিন ও তার পুত্র কলেজের ম্যানেজিং কমিটিতে থেকে নিজেদের ইচ্ছে মতো ফান্ডের টাকা ব্যয় করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে এই পরিবারটি গড়ে তুলেছে আর্থিক অনিয়মের এক দুর্ভেদ্য দেয়াল।সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজে কলেজের আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে পদ অলঙ্কৃত করে রেখেছেন, যা ব্যবহার করে তিনি পুরো কলেজ প্রশাসনকে নিজের হাতের মুঠোয় রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এডহক কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর গত ২২ জুন,২০২৫ রমিজ উদ্দিন আহমেদকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি নির্বাচন করেন। এই কমিটিতে সালাউদ্দিন আহমেদ দাতা সদস্য এবং উনার ছেলে তানভীর আহমেদ হিতৈষী সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রমিজ উদ্দিনকে সভাপতি পদ থেকে গত ০১ এপ্রিল ২০২৬ পদত্যাগে বাধ্য করে ইমরান আহমেদকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ না দিয়ে সমীর হোসেন নামে একজন শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি দায়িত্বে থাকা কেউ গভর্নিং বডির মিটিং পরিচালনা বা সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। অথচ, সমীর হোসেন গত ৯ মে ২০২৬ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত গভর্নিং বডির মোট তিনটি সভায় সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধিবহির্ভূতভাবে গভর্নিং বডির সভায় অংশ নেওয়া এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন। এমনকি গভর্নিং বডির বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কলেজটির গভর্নিং বডি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপনকে অমান্য করে কেন এবং কোন ক্ষমতাবলে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। পারিবারিক স্বৈরতন্ত্র ও প্রশাসনিক অরাজকতার পেছনে খোদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রহস্যজনক ভূমিকায় দায়ী করছেন অভিভাবক মহল।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, সাবেক এমপির প্রভাবেই জালিয়াতির মাধ্যমে এসব সনদ জোগাড় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ইমরান আহমেদের এই শিক্ষাগত যোগ্যতা কেবল জালিয়াতি কাগজেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে যার কোনো প্রতিফলন নেই বলে তারা মনে করছেন। ক্ষমতার দাপট ও আর্থিক অনিয়ম কেবল কলেজ দখল নয়, বরং শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা থেকে বঞ্চিত করে কলেজ ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

‎সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, কলেজের গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতি ইমরান আহমেদ নিজেই এখন বাংলাদেশে নেই। স্থানীয় ও কলেজ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গত ১০ জুন তিনি আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন এবং তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। প্রশ্ন উঠেছে, একজন স্থায়ী প্রবাসী কীভাবে একটি স্থানীয় কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন?

‎সচেতন মহল ও শিক্ষকদের প্রশ্ন, যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মের রক্ষক, তারা কীভাবে দনিয়া কলেজের ক্ষেত্রে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে? একদিকে মার্কিন নাগরিক ও প্রবাসীর হাতে কলেজের সভাপতি পদ তুলে দেওয়া, অন্যদিকে নিজস্ব প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করে চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষককে দিয়ে সদস্য সচিবের কাজ করানো, এই সবকিছুই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনের ধানের শীষের ভরাডুবির পেছনেও সালাহউদ্দিন ও তার দুই পুত্রের এই কর্মকাণ্ডকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় এবং দনিয়া কলেজকে পারিবারিক দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। তাদের মতে, অবিলম্বে এই কমিটির বিলুপ্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি গত ৯ মে ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত তিনটি সভায় সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছি। তবে এটি কতটুকু বৈধ বা নিয়মসম্মত, তা আমার জানা নেই।‎

‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সাথে সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তার পুত্র ইমরান আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।

ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন! নকশা বাতিলের উদ্যোগ, দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন! নকশা বাতিলের উদ্যোগ, দুদকের অভিযান

ময়মনসিংহ নগরীতে রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবনটির অনুমোদিত নকশা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর মিন্টু কলেজ এলাকায় সরেজমিনে জমি পরিমাপ করেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন। এ সময় তিনি দেখতে পান, সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারের সীমানার ভেতরে রয়েছে। এরপরই ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারে অভিযান চালানো হয়। রেলওয়ের জমি দখল করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে-এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, রেলওয়ের জমিতে কোনো ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরিমাপ করে দেখা গেছে, ১৮ তলা এলিট টাওয়ারের নির্মাণকাজ রেলওয়ের জমির মধ্যে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ কারণে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালু করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরীর মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দাবি, নিয়ম মেনেই ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডেভেলপার জালাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে রেলওয়ের জমি ভবনের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় ভবনটির অনুমোদন প্রক্রিয়া, জমির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি ময়মনসিংহে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি শরীফ মাহফুজুল হক আপেল এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাপলা থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ।

ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উর্বর ভূমি ময়মনসিংহ। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাস দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। নাট্যচর্চা, সংগীত, আবৃত্তি, সাহিত্যচর্চা ও নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল বরাবরই স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে আসছে। ব্রহ্মপুত্রের তীরের এই জনপদে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অসংখ্য সংস্কৃতিকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিক্রমা।

এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নাট্য আন্দোলনকে বেগবান করা, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার এবং ময়মনসিংহের নাট্যচর্চার কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে নবগঠিত এই কমিটির মাধ্যমে ময়মনসিংহের নাট্যাঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি হিসেবে ময়মনসিংহের ঐতিহ্য ও গৌরব আরও বিকশিত হবেএমন প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক মহলের।

সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে, নাট্যচর্চার বিকাশে ঐক্যবদ্ধ হোক ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গন।

ভিসি ড. আমানুল্লাহর নির্দেশে প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

‎টি অ্যান্ড টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম

‎এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
‎টি অ্যান্ড টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধিমালা ও প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে রাজধানীর টি অ্যান্ড টি কলেজে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিঙিয়ে এক জুনিয়র সহকারী অধ্যাপককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন দপ্তর থেকে জারীকৃত পত্র ও সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীর তালিকা বিশ্লেষণে বিধিলঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।

‎প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের গত ১৭ সেপ্টেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে টি অ্যান্ড টি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব সাদিকা বেগম-কে কলেজের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

‎অথচ ওই চিঠিতেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ২৮ আগস্টের সিন্ডিকেটের ২৭১তম সভার সিদ্ধান্ত এবং চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারীর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের মধ্য থেকে এ নিয়োগ দেওয়ার কথা।

‎জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ১৩ জানুয়ারি জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কলেজের অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠতম ১০ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডির সুপারিশক্রমে ৩ জনের প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। প্রজ্ঞাপনের একদম শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে – সংশ্লিষ্ট কলেজে স্ব পদে যোগদানের তারিখ হইতে জ্যেষ্ঠতা গণনা করিতে হইবে।

‎কলেজ সূত্রে জানা যায়, টি অ্যান্ড টি কলেজের শিক্ষক জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকায় সাদিকা বেগম রয়েছেন ০৮ নম্বর অবস্থানে। তালিকায় তাঁর পূর্বে আরও বহু জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তালিকায় রয়েছে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজী মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, মাহমুদুল হাসান, মোহাম্মদ মুখলেছুর রহমান, মো: কামরুজ্জামান এবং মো: আবদুল আলীম নাম।

‎স্ব পদে যোগদানের তারিখ অনুযায়ী একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের সম্পূর্ণ ডিঙিয়ে তালিকায় ৮ নম্বরে থাকা সহকারী অধ্যাপক সাদিকা বেগমকে জ্যেষ্ঠতম দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজের জারীকৃত সংবিধিবদ্ধ প্রজ্ঞাপন ও বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯’ আইনত মানতে বাধ্য। জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকা উপেক্ষা করে ৮ নম্বর তালিকায় থাকা শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করা সরাসরি আইন ও প্রশাসনিক বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। এর ফলে কলেজের স্বাভাবিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে কলেজের বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে এ অবৈধ আদেশ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রকৃত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের হাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব হস্তান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাদিকা বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অপরদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।