মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মিঠামইনে কৃষক তালিকা নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত চান অভিযুক্ত কর্মকর্তাও

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ)।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:১১ এম
মিঠামইনে কৃষক তালিকা নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত চান অভিযুক্ত কর্মকর্তাও

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলামও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গোপদিঘী ইউনিয়নের ৩৬২ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে ওই তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে অ-কৃষক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ৭ জুন ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, তালিকায় অনেক প্রকৃত কৃষকের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তালিকা প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। তাদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম এবং সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী দুই ব্যক্তির নামও তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “যারা বছরের পর বছর মাঠে কাজ করে ফসল হারিয়েছেন, তাদের নাম তালিকায় নেই। অথচ যারা কখনো কৃষিকাজ করেননি, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটি স্পষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ।”

বিক্ষোভ শেষে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করে নতুন তালিকা প্রণয়ন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি এককভাবে তালিকা তৈরি করিনি। আমি মাত্র ২৫টি নাম প্রস্তাব করেছি। বাকি নামগুলো ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা ঘুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে আমিও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইউএনও কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র কৃষকদের স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। খাসাপুর গ্রামের দুদু মিয়া (৬০), মসুরিয়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন (৩৭) ও পুরান বগাদিয়া গ্রামের হোসেন আলীসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে দাবি করেছেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাজুল ইসলামকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের ভাষ্য, স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় জড়িত রয়েছে।

তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য সহায়তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের সদস্য আটক

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের স্বাক্ষর নকল করে জাল দলিল তৈরি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দলিল নিবন্ধনের সময় নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসান জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করেন। সন্দেহ হলে তিনি নথি আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করেন এবং একপর্যায়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন।

পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে জালিয়াতি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনো ধরনের জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না।”

তিনি দলিল নিবন্ধনের সময় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হুরায়রা।

বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী কৃষ্ণ চন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও আরিফুল ইসলাম বলেন, “গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। সদর উপজেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রাম আদালতের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ স্থানীয় পর্যায়ে সহজেই ন্যায়বিচার পাবে এবং আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে।”

কর্মশালায় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক বিরোধ, চুক্তি বা রশিদভিত্তিক অর্থ আদায়, অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা তার মূল্য আদায়, স্থাবর সম্পত্তি বেদখলের এক বছরের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধার, অস্থাবর সম্পত্তি জবরদখল এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায়।

তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সেবাসমূহ সাধারণ মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু আহসান মো. রেজাউল হক, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শরীফ আহাম্মদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের সমন্বয়কারী আবু সামিউল প্রধান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সদর উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার নাসিমা খাতুন, ব্র্যাক ময়মনসিংহের শাখা ব্যবস্থাপক কানিজ ফাতেমা, স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইমন সরকার, মাটি সমিতির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সানজিদা আক্তার বর্ষা, পিসিসি কালিঝুলির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রাজন বিন, ব্যুরো বাংলাদেশ সমিতির তালতলা-খাগডহর শাখার আঞ্চলিক ঊর্ধ্বতন কর্মসূচি সংগঠক কৃষি রবিউল ইসলাম এবং উপজেলা উইমেন ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর সানজানা আফরোজ পপিসহ অন্যান্যরা।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও যুবলীগের নেতাসহ ৫ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৬:২০ পিএম
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও যুবলীগের নেতাসহ ৫ জন গ্রেফতার

ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিমন, যুবলীগ নেতা আকাশ এবং চর সিরতা ইউনিয়নের মোশারফসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের আটক করা হয়েছে। পরে তাদের কোতোয়ালী মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

গ্রেফতার হওয়া অন্য দুই ব্যক্তির পরিচয় ও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও তথ্য যুক্ত করা হবে।