নকলায় খেয়াঘাটে খাস আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ
ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ পারাপারের নারায়ণখোলা-পিয়ারপুর খেয়াঘাটে খাস আদায়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সরকারি রাজস্ব লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে খেয়াঘাটে “লুটের রাজত্ব” চলছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৮নং চর অষ্টধর ইউনিয়নের নারায়ণখোলা খেয়াঘাটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাস আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হককে। তিনি স্থানীয় মাঝিদের মাধ্যমে খাস আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন ঘাট থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকা আদায় হলেও ১৫ দিন পর বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি হিসাবে জমা দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে এই খেয়াঘাট ২২ থেকে ২৮ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হতো। তবে বর্তমানে ইজারা না দিয়ে খাস আদায়ের নামে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। ন্যায্য দরদাতারা ইজারার সিডিউল কিনতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণ যাত্রীরা জানান, মোটরসাইকেল পারাপারের সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ২০ টাকা হলেও বর্তমানে চালকসহ আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা এবং যাত্রীসহ মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া রিজার্ভে পারাপারের সময় জনপ্রতি ১০ টাকা খাস নেওয়ার পরও নৌকায় গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা পর্যন্ত। রাত ১০টার পর প্রতিটি খেয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ভারী মালামাল পরিবহনেও নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
খেয়া মাঝি হালিম বলেন, “প্রতিদিন নায়েবকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এই টাকা আদায় না হলে আমাদের পোষায় না।” এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি লিটন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে ফোন করা হলে ওই ব্যক্তি কল রিসিভ করেননি।
খেয়াঘাটের কয়েকজন মাঝি জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ঘাটটির ইজারা হয়নি। পরে স্থানীয় নায়েবের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকায় খাস হিসেবে তারা ঘাট পরিচালনা করছেন। তাদের মেয়াদ আগামী কোরবানির ঈদের পাঁচদিন পর শেষ হবে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হক বলেন, “আগে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে শিডিউল বিক্রির মাধ্যমে ২২ থেকে ২৮ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে কেউ শিডিউল ক্রয় না করায় বিভাগীয় কমিশনারের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে খাস আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছেন।”
খাস আদায়ের অর্থ কোথায় জমা হয়— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রতি ১৫ দিন পর ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি ফান্ডে জমা দেওয়া হয়।” তবে মাঝিদের দাবি অনুযায়ী দৈনিক ৫ হাজার টাকা আদায় হলে ১৫ দিনে ৭৫ হাজার টাকা হওয়ার কথা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় লিটনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ইজারা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে খাস আদায়ের নামে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের সুযোগ নিচ্ছে। এ কারণেই মাঝি ও ভূমি কর্মকর্তার বক্তব্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম এর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করলেও উচ্চ শব্দের কারণে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে








