রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

পরিকল্পনার আড়ালে অনিয়মের নগরী: ময়মনসিংহে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্ক, অভিযুক্ত নগর পরিকল্পনাবিদ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২০ পিএম
পরিকল্পনার আড়ালে অনিয়মের নগরী: ময়মনসিংহে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্ক, অভিযুক্ত নগর পরিকল্পনাবিদ

ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ শহর আজ যেন অপরিকল্পিত নগরায়নের চাপে বিপর্যস্ত। এক সময়ের প্রশস্ত ও স্বস্তির এই নগরী এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে।

নগরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাসের ভূমিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর ফলে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন, যা নগরীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভবন নির্মাণে ন্যূনতম খালি জায়গা রাখার নিয়ম অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি। ফলে রাস্তাগুলো হয়ে গেছে অত্যন্ত সরু। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক বাসিন্দা এসব এলাকাকে সরাসরি মৃত্যুফাঁদ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে একাধিকবার সিটি করপোরেশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো প্রতিকার পাননি।

বরং অভিযোগকারীদের তথ্য অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এদিকে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ মামলা চলমান রয়েছে। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, এসব আইনি প্রক্রিয়াও তার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো প্রভাব ফেলেনি।

একজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বলেন, “নগর পরিকল্পনার নামে এখানে যা হয়েছে, তা আসলে অনিয়মের বিস্তার। সামান্য ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, আমরা নিয়মিত কর দিচ্ছি, কিন্তু নিরাপদ শহর পাচ্ছি না। চারদিকে শুধু ইট আর কংক্রিট যেনো শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেখা গেছে, এমন অনেক বহুতল ভবন রয়েছে যেখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে উদ্ধার কাজ চালানো প্রায় অসম্ভব।

এমনকি কোনো দুর্ঘটনায় হতাহতদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্ল্লিষ্টরা।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একজন কর্মকর্তার অনিয়মের কারণে পুরো শহরের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে না। তারা দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই, এত অভিযোগ থাকার পরও কেন নেওয়া হচ্ছে না কার্যকর ব্যবস্থা?

নগরবাসীর মতে, পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

ময়মনসিংহে স্কুলের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ; সীমা নির্ধারণের দাবি করেছে স্থানীয়রা

রাকিবুল হাসান আহাদ, গফরগাঁও।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
ময়মনসিংহে স্কুলের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ; সীমা নির্ধারণের দাবি করেছে স্থানীয়রা

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি অবৈধ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকার স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪২ নং ছোট বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় দাতা পরিবার—মরহুম আব্দুল আওয়াল খান (চেয়ারম্যান), মরহুম জহুর আলী খান ও মরহুম আবদুল জব্বার শেখ—বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত জমির সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ ও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমির প্রকৃত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, একই খতিয়ান নং ১৭৭ ও বিআরএস দাগ নং ১৫৯-এ বিদ্যালয়ের ৫৪ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও মোঃ শহীদ খান নামের এক ব্যক্তি ওই জমির ২১ শতক অংশ ক্রয় সূত্রে নিজের মালিকানা দাবি করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা: আফতাবুন নাহার রোজি জানান, ৫৪ শতাংশ জমি স্কুলের সীমানা নির্ধারণ না থাকায় বিদ্যালয়ের জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু স্কুল থেকে ৫ফুট দূরে ভবন নির্মাণ করছে বলেই মৌখিক ভাবে শহীদ খানকে স্থাপনা করার অনুমতি দিয়েছি।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও দাতা পরিবারের পক্ষ থেকে হাফেজ জহিরুল আমিন কয়েক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন করেন। আবেদনটির অনুলিপি সহকারী কমিশনার (ভূমি) গফরগাঁও, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং নিগুয়ারী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কর্মকর্তার কাছেও প্রদান করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে বিদ্যালয়ের জমি পুরোপুরি বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে জমির ৫৪:শতাংশ জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত মোঃ শহীদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরগঞ্জে বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৬ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একাধিক বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলার ঝাটিয়া এলাকায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা আজিদা খাতুনের পৈতৃক ভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক ঝন্টুর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রথমবার আজিদা খাতুনের জমি দখলের চেষ্টা করা হলে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় তিনি তার জমি পুনরুদ্ধার করেন। তবে দীর্ঘদিন পর গত ২ এপ্রিল মধ্যরাতে পুনরায় ওই জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় আজিদা খাতুন ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে বলে এবং বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয়। পরে কাগজপত্র যাচাইয়ে আজিদা খাতুনের সকল দলিল সঠিক পাওয়া যায়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় পুলিশ।

আজিদা খাতুন অভিযোগ করেন, তার দুই ভাতিজি নার্গিস ও পারভিনকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তার জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। জমি লিখে না দিলে জোর করে দখল নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আমার কোনো সহায়-সম্বল নেই, আমি এখন চরম আতঙ্কে আছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে কিছু বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় একই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার এএসআই লিটন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, আজিদা খাতুনের কাগজপত্র সঠিক এবং জমিটি তার দখলেই রয়েছে। প্রতিপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

তবে বিপুলসংখ্যক লোকজন থানায় জড়ো হওয়ায় পুলিশ বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দিয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, “অন্যায়ভাবে কেউ জমি দখলের চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক ঝন্টুর বিরুদ্ধে জমি দখল, সালিশ বাণিজ্য এবং নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি আগে আওয়ামী লীগের সাবেক এক এমপির অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করলেও বর্তমানে বিভিন্ন প্রভাববলয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শামসুল হক ঝন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আজিদা খাতুনের কাছ থেকে আমার এক আত্মীয় জমি কিনেছেন। এখন তিনি দলিল করে দিচ্ছেন না। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

ময়মনসিংহে বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৫ এম
ময়মনসিংহে বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বিভাগীয় নগরীর শিকারীকান্দা ছত্রপুর এলাকায় তথ্য কমপ্লেক্সের জন্য অধিগ্রহণকৃত নিজস্ব জায়গায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভাগীয় শহরসহ ২৬টি জেলার কাজ ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি তার প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরও চারটি ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হবে।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েও তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে অনেক প্রকল্প নেওয়া হলেও কাজ হয়নি। আমরা চাই গুণগত মান বজায় রেখে সঠিকভাবে কাজ শেষ হোক। আমাদের কাজে দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারবে না।” তিনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার আহ্বান জানান।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে ভুল তথ্য বা মিসইনফরমেশন যেন প্রচার না হয় সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তথ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার পাশাপাশি বানোয়াট বা মিথ্যা খবর যেন সংবাদে রূপ না নেয়—সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জন কেনেডি জাম্বিল, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, ময়মনসিংহ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগে প্রায় ১৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাততলা বিশিষ্ট বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৮ মাস মেয়াদি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ৪ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

নির্মিতব্য তথ্য কমপ্লেক্সে সিনেপ্লেক্স, ইন্টারনেট সুবিধা, সাইবার ক্যাফে, ইনফরমেশন কিয়স্ক, ডিজিটাল আর্কাইভ ও ডিজিটাল ল্যাবসহ বিভিন্ন আইসিটি সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের জন্য এটি একটি তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে।

এছাড়া সিনেপ্লেক্সে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, আইটি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সেবা প্রদান এবং তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর লক্ষ্য।

এছাড়া আইসিটি সুবিধার মাধ্যমে ফ্যাক্ট-চেকিং টুলস ব্যবহার করে গুজব ও ভুয়া খবর শনাক্ত করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য কমপ্লেক্সটি সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রেসক্লাব, কমিউনিটি রেডিও, পর্যটন করপোরেশন ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং জনগণের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।