রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দর্শন “দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো”, বাস্তবে বেড়েছে ৩০ লাখ দারিদ্র্য মানুষ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩২ পিএম
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দর্শন “দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো”, বাস্তবে বেড়েছে ৩০ লাখ দারিদ্র্য মানুষ

দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্য বিমোচনের প্রতীকী এক দর্শনের কথা বলে আসছেন, “দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো।” ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তিনি দারিদ্র্যবিরোধী আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। ফলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণের সময় জনগণের প্রত্যাশাও ছিল স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ড. ইউনূস দারিদ্র্য বিমোচনের দর্শন বাস্তবায়নের এক বিরল সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সে সময়কালে দেশে দারিদ্র্য কমার পরিবর্তে নতুন করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন, যা উদ্বেগজনক এবং হতাশাজনক।

অবশ্য এ বাস্তবতার পেছনে কেবল একজন ব্যক্তিকে দায়ী করা কতটা যুক্তিসংগত, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে। অন্তর্বর্তী সরকার মূলত একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বড় ধরনের সম্প্রসারণ এসব উদ্যোগ নেওয়ার মতো রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তাদের থাকে না। উপরন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং পূর্ববর্তী সময়ের কাঠামোগত দুর্বলতাও দারিদ্র্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়, নৈতিক উচ্চতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে কি আরও দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক ছিল? দারিদ্র্য বিমোচন কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাহসী সিদ্ধান্তের সমন্বিত ফল। এ জায়গায় ড. ইউনূসের দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতার মধ্যে এক ধরনের ফাঁক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন একদিকে যেমন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ ছিল, অন্যদিকে তেমনি জনগণের উচ্চ প্রত্যাশার ভারও বহন করছিল। এই অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানোর স্বপ্ন যতই মহৎ হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় বাস্তবতায় তা বাস্তবায়নের পথ অনেক বেশি জটিল ও কঠিন।

ময়মনসিংহে বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৫ এম
ময়মনসিংহে বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বিভাগীয় নগরীর শিকারীকান্দা ছত্রপুর এলাকায় তথ্য কমপ্লেক্সের জন্য অধিগ্রহণকৃত নিজস্ব জায়গায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভাগীয় শহরসহ ২৬টি জেলার কাজ ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি তার প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরও চারটি ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হবে।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েও তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে অনেক প্রকল্প নেওয়া হলেও কাজ হয়নি। আমরা চাই গুণগত মান বজায় রেখে সঠিকভাবে কাজ শেষ হোক। আমাদের কাজে দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারবে না।” তিনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার আহ্বান জানান।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে ভুল তথ্য বা মিসইনফরমেশন যেন প্রচার না হয় সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তথ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার পাশাপাশি বানোয়াট বা মিথ্যা খবর যেন সংবাদে রূপ না নেয়—সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জন কেনেডি জাম্বিল, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, ময়মনসিংহ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগে প্রায় ১৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাততলা বিশিষ্ট বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৮ মাস মেয়াদি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ৪ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

নির্মিতব্য তথ্য কমপ্লেক্সে সিনেপ্লেক্স, ইন্টারনেট সুবিধা, সাইবার ক্যাফে, ইনফরমেশন কিয়স্ক, ডিজিটাল আর্কাইভ ও ডিজিটাল ল্যাবসহ বিভিন্ন আইসিটি সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের জন্য এটি একটি তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে।

এছাড়া সিনেপ্লেক্সে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, আইটি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সেবা প্রদান এবং তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর লক্ষ্য।

এছাড়া আইসিটি সুবিধার মাধ্যমে ফ্যাক্ট-চেকিং টুলস ব্যবহার করে গুজব ও ভুয়া খবর শনাক্ত করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য কমপ্লেক্সটি সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রেসক্লাব, কমিউনিটি রেডিও, পর্যটন করপোরেশন ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং জনগণের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহে বস্তিবাসীদের কলোনি পরিদর্শনে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী, উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ময়মনসিংহে বস্তিবাসীদের কলোনি পরিদর্শনে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী, উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার আশ্বাস

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসরত বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন ও চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনে শনিবার (৪ এপ্রিল) সফর করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, এমপি।

পরিদর্শনকালে তিনি বস্তিবাসীদের আবাসন, স্যানিটেশন, পানি সরবরাহ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশার কথাও শোনেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সদর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, জামালপুর সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এবং ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মো. জাকির হোসেন বাবলু। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান সরকার রোকন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে বস্তিবাসীদের জন্য টেকসই আবাসন, বিশুদ্ধ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দুর্যোগপ্রবণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে আগাম প্রস্তুতি ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথিরা বস্তিবাসীদের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যৌথ প্রচেষ্টায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ‘গোপন দরবার’: অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার আপস

রাকিবুল হাসান আহাদ, গফরগাঁও।। প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ‘গোপন দরবার’: অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার আপস

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের মহিরখারুয়া কোনাপাড়া গ্রামে চাচি ও ভাতিজার মধ্যে কথিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মহিরখারুয়া গ্রামের প্রবাসী ছাবেদ মিয়ার স্ত্রী উর্মি আক্তার ও তার ভাতিজা ছাইদুল বেপারির ছেলে আনোয়ার হোসেনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রামে একটি দরবার বসানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই দরবারে প্রায় ১০-১১ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মোস্তফা মন্ডল, মনছুর মেম্বার, মজিবুর রহমান, সুজন, রিপন মিয়া, রতন মিয়া, আজিজুল ইসলাম, আবুল হোসেন, আতাবউদ্দিন, মিন্টু বেপারী ও আবদুল করিম শেখের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, দরবারের নামে উভয় পক্ষের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং ঘটনাটি গোপন রাখার শর্তে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস করা হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, সামাজিক চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে এ ধরনের মীমাংসায় বাধ্য করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ বিষয়টিকে ‘পারিবারিক’ বলে দাবি করে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের স্পর্শকাতর অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা করা গুরুতর অন্যায় এবং এতে ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে গফরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোস্তফা মন্ডলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।