সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আইনের ঊর্ধ্বে আলম ব্রিকস?

ময়মনসিংহে মহাসড়ক যেন ইটভাটা মালিকের পৈত্রিক সম্পত্তি! জনদুর্ভোগ চরমে

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
ময়মনসিংহে মহাসড়ক যেন ইটভাটা মালিকের পৈত্রিক সম্পত্তি! জনদুর্ভোগ চরমে

ময়মনসিংহ সদরের ৭নং চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নে ময়মনসিংহ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কটি যেন সদর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির কথিত সভাপতি ও আলম ব্রিকসের মালিক খোরশেদ আলমের পৈত্রিক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।

প্রকাশ্যে মহাসড়ক দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের এমন দৃশ্য চোখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নীরব ভূমিকা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাহলে কি কর্মকর্তাদের চোখে কাঠের চশমা, নাকি ঘুষের ঘোরে বিভোর দায়িত্বশীলরা?

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সদর উপজেলার ৭নং চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নে ময়মনসিংহ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন ও অবৈধ ইটভাটা ‘আলম ব্রিকস’। ইটভাটার ধুলোবালি ও কয়লার গুড়া দখল করে নিয়েছে মহাসড়কের একাংশ। এতে সড়কটির স্বাভাবিক ব্যবহার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হয়েছে চরম জনদুর্ভোগ।

প্রতিনিয়ত স্কুলপড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ধুলোবালিতে ঢেকে যাচ্ছে রাস্তা, বাতাসে উড়ছে কয়লার গুড়া-ফলে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া ও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকের কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন এবং সড়ক আইন-সবকিছুই প্রকাশ্যে লঙ্ঘিত হলেও নেই দৃশ্যমান কোনো অভিযান।

এ বিষয়ে দ্রুত অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ, মহাসড়ক দখলমুক্ত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় জনস্বার্থ উপেক্ষা করে প্রভাবশালীদের এমন দৌরাত্ম্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

এবিষয়ে ইটভাটা মালিক খোরশেদ আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমার ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ সবকিছুই ঠিক আছে কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নবায়ন করে দিচ্ছে না।

এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা’র মুঠোফোনে বারবার কল করলে তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, লোকেশন হুয়াট্স এ্যাপে দিয়ে রাখুন আমি খোজ নিয়ে দেখছি।

কবি নজরুল আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১২:২০ এম
কবি নজরুল আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বিশ্বসাহিত্যের দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর জীবনবোধ ও দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে “নজরুল সিটি” হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাব।’

শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, জাতীয় চেতনার প্রতীক এবং জাতীয়তাবাদের প্রতীক।’

তিনি বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হবে।

ঢাকার মিরপুরের আলোচিত শিশু হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যু আমাদের মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের প্রমাণ। এ ধরনের শিশু বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। শিশুটির হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।’

একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের পাশাপাশি আমাদের জাতীয় জীবনে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে। এ ক্ষেত্রেও কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের আগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘নজরুল স্মরণিকা’র মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কবি নজরুল বিষয়ে গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকজনকে ‘নজরুল পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।

পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান এবং স্মারক বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবিপৌত্রী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খিলখিল কাজী এবং ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং নজরুল মেলা পরিদর্শন করেন।

এর আগে দুপুরে ত্রিশাল উপজেলায় ‘ধরার খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে খালটি খনন করেছিলেন। প্রায় ৪৭ বছর পর পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি খালপাড়ে একটি তালগাছের চারা রোপণ করেন।

খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো অন্যায়কারীর বিচার করতে হলে সরকারকে নিয়ম ও আইন মেনে চলতে হয়। কিন্তু কিছু মানুষ রাস্তাঘাট বন্ধ, যান চলাচলে বাধা ও উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে আইনের শাসন ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও দেশে কিছু দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছিল। তখন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু যারা আজ উচ্চকণ্ঠ, তাদের অনেককেই তখন মাঠে দেখা যায়নি।’

অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে খেটে খাওয়া মানুষ।’

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ইউনিফর্ম ও স্কুলব্যাগ বিতরণের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে গ্রামীণ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক ও ব্যাগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই কাজ চলছে। ইনশা আল্লাহ, জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর কাছে নতুন পোশাক ও স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেওয়া হবে।’

ধরার খাল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে কৃষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কৃষক এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। সমগ্র ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রয়োজন রয়েছে।’

পরে বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ দক্ষিণ ও উত্তর জেলা বিএনপি এবং মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলীয় সাংগঠনিক বিষয়ক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ময়মনসিংহে চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব আকন্দ

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
ময়মনসিংহে চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব আকন্দ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বাস্তবায়নে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৫ টাকা ব্যয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট নতুন শ্রেণিকক্ষ ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আনন্দমুখর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা শুধু পাঠদান নয়, বরং একটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার একটি যুগোপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রকৌশলী রাকিব উল হাফিজ এবং চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা চক্রবর্তীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষার মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি এবং এর ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক স্তর থেকেই। তাই বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন ভবন নির্মিত হলে এ এলাকার শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার মান আগের চেয়ে আরও উন্নত হবে।

শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, “এই স্কুলগুলো আপনাদের কমিউনিটির সম্পদ। তাই এগুলো দেখভাল করে রাখার দায়িত্বও আপনাদের। স্কুলের পরিবেশ যেন ভালো থাকে এবং বিদ্যালয়গুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে, সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও যথাযথ দায়িত্ব পালন করবেন।

এ সময় সংসদ সদস্য বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।

এর আগে জাতীয় সংসদ সদস্য বিদ্যালয়ে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা চক্রবর্তীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

ময়মনসিংহে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা সম্পন্ন, সরাসরি সেবা পেয়ে খুশি সেবাগ্রহীতারা

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
ময়মনসিংহে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা সম্পন্ন, সরাসরি সেবা পেয়ে খুশি সেবাগ্রহীতারা

ভূমি সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে সারাদেশের ন্যায় ময়মনসিংহে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা সম্পন্ন হয়েছে।

‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় ঢাকার তেজগাঁওস্থ ভূমি ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এর ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের আয়োজনে স্থানীয় পর্যায়ের মেলার উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি।

মেলায় ৮টি স্টলের মাধ্যমে ১৯ মে থেকে ২১ মে (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন ভূমিসেবা প্রদান করা হয়।

মেলা উদ্বোধনকালে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন,

‘জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও ডিজিটালাইজড ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ভূমিসেবা মেলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ভূমিসেবার উন্নয়নে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। এরই মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন, নাগরিকদের অনলাইনে ফি পরিশোধ, হটলাইনভিত্তিক সেবা, ই-রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল ভূমিসেবা সিস্টেমের আন্তঃসংযোগ, ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড, স্মার্ট ভূমি নকশা, ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু এবং ভূমি আইনের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভূমিসেবা মেলা চলাকালে সেবাপ্রত্যাশীরা সরাসরি ই-নামজারি আবেদন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং ডিজিটাল ভূমিসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।’

এ সময় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভূমির মালিকদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মী এনডিসি, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হুরায়রাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধনের আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে অতিথিরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভূমিসেবা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভূমি মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো ভূমিসেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া। মেলায় নাগরিক ভূমি পোর্টালে নিবন্ধন, ই-নামজারি আবেদন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহ, মৌজা ম্যাপ সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা দেওয়া হয়।

মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়ে অনেক সেবাগ্রহীতা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরাসরি ভূমিসেবা পেয়ে খুশি হন।