সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন না মাহফুজ আলম, জানালেন রাজনৈতিক অবস্থান

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৫ পিএম
এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন না মাহফুজ আলম, জানালেন রাজনৈতিক অবস্থান

মাহফুজ আলম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তিনি এনসিপির (NCP) অংশ হচ্ছেন না। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান, অতীত ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো

আমার রাজনৈতিক অবস্থান

১. নাগরিক কমিটি ও এনসিপি জুলাইয়ের সম্মুখসারির নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল। এ দুটি সংগঠনে আমার জুলাই সহযোদ্ধারা থাকায় গত দেড় বছর আমি চাহিবামাত্র তাদেরকে পরামর্শ, নির্দেশনা এবং পলিসিগত জায়গায় সহযোগিতা করেছি।

২. আমার অবস্থান স্পষ্ট। নূতন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবেলা, রিকন্সিলিয়েশন, দায়-দরদের সমাজ সহ- অনেক কথাই আমি বলেছি। যেগুলো আমার জুলাই সহযোদ্ধারা উক্ত দুটি সংগঠন থেকে বারবার বলেছেন। কিন্তু, তারা এগুলো ধারণ করতেন? এনসিপিকে একটা বিগ জুলাই আম্ব্রেলা আকারে স্বতন্ত্র উপায়ে দাঁড় করানোর জন্য আমি সকল চেষ্টাই করেছি। কিন্তু, অনেক কারণেই সেটা সম্ভব হয়নি।

৩. বিদ্যমান বাস্তবতায় আমার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ এবং বন্ধুত্ব মুছে যাবে না। কিন্তু, আমি এ এনসিপির অংশ হচ্ছি না। আমাকে জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়নি, এটা সত্য নয়। কিন্তু ঢাকার কোন একটা আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চাইতে আমার লং স্টান্ডিং পজিশন ধরে রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

৪. ইতিহাসের এ চলতি পর্বে বাংলাদেশ একটা শীতল যুদ্ধে আছে। এ পর্বে কোন পক্ষ না নিয়ে নিজেদের বক্তব্য ও নীতিতে অটল থাকাই শ্রেয়। বিকল্প তরুণ/ জুলাই শক্তির সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বরং, আমি গত দেড় বছরে যা বলেছি, যে নীতিতে বিশ্বাস রেখেছি, তা অব্যাহত রাখব। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সকল উপায়ে। If you care to join me, you are most welcome.

নূতন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত সম্ভব ও বাস্তব। বিকল্প ও মধ্যপন্থী তরুণ/ জুলাই শক্তির উত্থান অত্যাসন্ন।

ময়মনসিংহে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম
ময়মনসিংহে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন সারোয়ার হোসেন। তিনি সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের ল্যাংটার মোড় এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটির নাজেরা বিভাগের ওই ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ২ নম্বর বৈলর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উজান বৈলর এলাকায়।

এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে গিয়ে শিশুটি কীভাবে এমন নির্যাতনের শিকার হলো এবং বিষয়টি আগে কেন প্রতিরোধ করা গেল না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসাটিতে শিশুদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সারোয়ার হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, শিশুটির চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৪০ ভবঘুরে ও ভিক্ষুক

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫০ পিএম
শাহজালাল বিমানবন্দরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৪০ ভবঘুরে ও ভিক্ষুক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় প্রবাসী ও বিদেশি যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ এবং যাত্রীসেবার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকে পরিচালিত এ অভিযানে ৪০ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার জানান, বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ বক্স এলাকা, মূল প্রবেশপথ এবং ভিভিআইপি ও ভিআইপি সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাজুড়ে একযোগে অভিযান চালানো হয়।

আটক ৪০ জনের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ২ জন নারী এবং ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ রয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের মিরপুরস্থ শিশু-কিশোর আশ্রয়কেন্দ্রে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্পেশাল কোর্টে সোপর্দ করা হচ্ছে।

ওসি কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, বিমানবন্দরে আগত প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের উপদ্রব দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একই উদ্দেশ্যে গত কয়েকদিনের অভিযানে আরও ২৮৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪০ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৩২৮ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আইনের আওতায় এনে স্পেশাল কোর্ট ও আশ্রয়কেন্দ্রে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের সার্বিক পরিবেশ ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সিসিটিভি নজরদারিও রয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎নেক্সাস হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি চরমে, ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম
‎নেক্সাস হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি চরমে, ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ

‎ময়মনসিংহের নেক্সাস কার্ডিয়াক হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অযথা হয়রানি, দায়িত্বে অবহেলা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসপাতালটির ম্যানেজার মৃদুল কুমার সরকার।

‎ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, বিল পরিশোধ কিংবা প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যানেজারের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করেও সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।‎

‎সম্প্রতি হাসপাতালটিতে সরেজমিনে গিয়ে এমন পরিস্থিতির দেখা মেলে বলে জানান এক সংবাদমাধ্যমকর্মী। তিনি বলেন, তাঁর এক আত্মীয় নেক্সাস কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রোগীর সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তিনি ম্যানেজারের কক্ষের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। এ সময় সেখানে আরও অনেক রোগীর স্বজনকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

‎ওই সংবাদমাধ্যমকর্মীর দাবি, ম্যানেজার মৃদুল কুমার সরকারকে ফোন করা হলে অন্য একজন ফোনটি ধরেন এবং ম্যানেজার ব্যস্ত আছেন বলে জানান। রোগীর সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে জানান। পরে ম্যানেজারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে অভিযোগ করা হয়।

‎ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, কোনো সমস্যা নিয়ে ম্যানেজারের কাছে গেলে তিনি সরাসরি বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে রোগীর স্বজনদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

‎সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি হাসপাতাল কেবল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানুষের জীবন ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আচরণ, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‎অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

‎ভুক্তভোগীদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।