বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

ফ্যাসিবাদের আমলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য: তারেক রহমান

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৫৭ পিএম
ফ্যাসিবাদের আমলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদের আমলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমিকা উল্লেখ যোগ্য। হামলা মামলা উপেক্ষা করেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করেছে। পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ সামনে এসেছে।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের টার্গেট নিয়ে অন্তর্বতীকালীন সরকার রুপরেখা ঘোষণা করেছেন। বিভিন্ন ঘোষিত সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের কর্মসংস্থান কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে দল, মত ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সকলের সক্রিয় সমর্থন এবং সহযোগিতা চায়।

ময়মনসিংহে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার বিকেল ৩টায় নগরীর টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে শুরু হয় প্রতিনিধি সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ঐক্য সমন্বিত রাখার পাশাপাশি ভাষা সংস্কৃতি সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ, জাতীয় সংসদ এবং দলীয় ভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন স্তরের কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অর্ন্তভুক্তি নিশ্চিত করা হবে। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশি বিদেশী প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। নারী উদ্যোক্তাদের সুবিধা বৃদ্ধিসহ চাকরি সহজীকরণ করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানের ৩১ দফার মধ্যে রেইনবো বাংলাদেশের কথা বলা আছে। রেইনবোর মানে হল সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যাওয়া। বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত চলছে, সেই নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একটি গোষ্ঠী কাজ করছে। উগ্রবাদের কথা বলে তারা জাতিকে বিভক্ত করতে চায়। আমাদের দায়িত্ব হবে ঠিক যেমন ৭১ সালে জিয়াউর রহমান আমরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগ্রাম করেছিলাম। আবারও একটা ভূখন্ডের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষুদ্র বড় জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করতে হবে।

প্রতিনিধি সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মৃগেন হাগিদগের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখবেন, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বিজন কান্তি সরকার, আদিবাসী লেখক সঞ্জিব দ্রং, আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ চন্দ্র বর্মন, ট্রাইব্যুানাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিপুল হাজংসহ অন্যরা।

সমাবেশে সমতল অঞ্চলে ১২টি জেলায় বসবাসরত ৩৪টি ভাষাভাষীর জাতিগোষ্ঠী অংশ গ্রহণ করেন। সাংগঠনিক সমাবেশ এবং মতবিনিময়কে ঘিরে সকাল থেকেই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দরা ময়মনসিংহে আসতে শুরু করেন। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে আদিবাসী নারীদের মাঝে ২৬টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

কোচিং বাণিজ্য ও জোর করে স্টাম্পে স্বাক্ষরের পাল্টাপাল্টি দাবি

গফরগাঁওয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রবাসীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

রাকিবুল হাসান আহাদ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০১ পিএম
গফরগাঁওয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রবাসীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সৌদি প্রবাসীকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক আহসান উল্লাহ উপজেলার দীঘাপুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী বেলাল হোসেনের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৬ জুন সকালে নিজ জমিতে চারা রোপণ করতে গেলে শিক্ষক আহসান উল্লাহর নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি আহত হয়ে ১০ জুন পর্যন্ত গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় বেলাল হোসেন গফরগাঁও থানায় মামলা করেছেন। মামলাটির নম্বর ৭, তারিখ ১০ জুন ২০২৬। পরে তিনি জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন।

বেলাল হোসেনের দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পরও তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক আহসান উল্লাহ শিক্ষকতার পাশাপাশি জমি দালালি ও কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না।

বেলাল হোসেন বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও শিক্ষক আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো নথি বা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে দীঘাপুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মার্জিয়া খাতুন বলেন, “আহসান উল্লাহ মাস্টার নিয়মিত স্কুলে আসেন। তিনি খুবই ভালো ও দায়িত্বশীল একজন শিক্ষক।”

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক আহসান উল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার এক ভাই ইউএনও অফিসে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।” ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, “সব মিথ্যা কথা।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রবাসী বেলাল হোসেন ও তাঁর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবারের।

মিঠামইনে সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ পিএম
মিঠামইনে সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় সাবেক ইউপি সদস্য মো. মুক্তার উদ্দিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোপদীঘি ইউনিয়নের নতুন চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে মো. মুক্তার উদ্দিন গত ২৫ আগস্ট দিবাগত রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুমাতে যান। ভোররাতে স্বজনরা ঘরের ভেতর তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে তাঁদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মরদেহটি নিচে নামিয়ে আনেন।

খবর পেয়ে ২৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে মিঠামইন থানার এসআই রিয়াজ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মুক্তার উদ্দিনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখলেও একটি পক্ষের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে মরদেহ দড়িতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

এ বিষয়ে পুলিশও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সাবেক এই জনপ্রতিনিধির অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গোপদীঘি ইউনিয়নজুড়ে শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ময়মনসিংহে কোম্পানির ডাটা হ্যাক করে ১০ হাজার ডলার দাবি, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
ময়মনসিংহে কোম্পানির ডাটা হ্যাক করে ১০ হাজার ডলার দাবি, গ্রেপ্তার ১

ময়মনসিংহে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত (ডাটা) হ্যাক করে ১০ হাজার মার্কিন ডলার দাবির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নগরীর কাচিঝুলি হামিদ উদ্দিন রোড এলাকা থেকে মো. ইয়ানাছ মাহমুদ পিয়াল (৩০) নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, KMF International Company Ltd.-এর ময়মনসিংহ শাখার গুরুত্বপূর্ণ ডাটা হ্যাক করার পর তা ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। এ অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পরিশোধের জন্য বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান শাকিলের দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে টানা তিন দিন অভিযান চালিয়ে কাচিঝুলি হামিদ উদ্দিন রোড এলাকা থেকে পিয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, এ সময় কথিত হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডাটা হ্যাকিংয়ের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।