মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে সাংবাদিকের নামে বিএনপি নেতার মানহানি মামলার ঘটনায় বিএমইউজে’র নিন্দা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫, ১:৪৬ এম
ময়মনসিংহে সাংবাদিকের নামে বিএনপি নেতার মানহানি মামলার ঘটনায় বিএমইউজে’র নিন্দা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় দুই সাংবাদিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক একেএম শমসের আলী।

শনিবার (২৪ মে) ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অমিত হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শমসের আলীর দায়ের করা মামলার আবেদন আদালত গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় বলা হয়, গত ১৯ মে ২০২৫ইং ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদের সামনে টোল আদায়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন স্থানীয় কয়েকটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

মানববন্ধনে বর্তমান ইজারাদার ও ময়মনসিংহ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌসিফ ইবনে মান্নানের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূত ভাবে অতিরিক্ত টোল আদায়, ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়।

শমসের আলীর দাবি, মানববন্ধনের প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তরফদার ও শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ‘চাঁদাবাজ শমসের, বাটপার শমসের’ লেখা প্লেকার্ড বানান এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অপমানিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলায় আসামি করা হয়েছে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তরফদার, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, কবির হোসেন, আজাহারুল ইসলাম রিপনসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে।

দৈনিক জনবাণীর ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তরফদার বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের মানববন্ধনের খবর আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে সংগ্রহ করেছি। কিন্তু এতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে।’

অপর দৈনিক তৃতীয় মাত্রা ও দৈনিক সংগ্রামের সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুধু সংবাদ করেছি। এটিই আমার অপরাধ। আমি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব সোহেল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান যুক্ত বিবৃতিতে মানববন্ধনের সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভীত্তিহীন মামলা দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। অভিলম্ভে মামলা প্রত্যাহারের আহবান জানান।

ফুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

ঐ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কবির হোসেন, জেলা যুবদলের সহসভাপতি ও পৌর বি এন পির সদস্য আজহারুল আলম রিপন, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, কৃষকদল নেতা ফখরুদ্দিন মাসুমসহ আরও অনেকে।

তাঁরা অভিযোগ করেন, বাজার ইজারার নামে একটি চক্র অবৈধ উপায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। শমসের আলী এই প্রক্রিয়ায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে একেএম শমসের আলী বলেন, ‘আমি সাংবাদিকবান্ধব মানুষ। কিন্তু আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। এতে আমার মানহানি হয়েছে। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে শ্যামপুরে তৎপর শিক্ষা অফিসার শাপলা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে শ্যামপুরে তৎপর শিক্ষা অফিসার শাপলা খানম

রাজধানীর শ্যামপুর থানা এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা আনয়ন এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন থানা শিক্ষা অফিসার শাপলা খানম। তাঁর ব্যতিক্রমী ও শিক্ষার্থীবান্ধব নানা পদক্ষেপে থানা এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শাপলা খানম বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ উন্নত করতে একের পর এক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি নিয়মিত বিরতিতে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই থানা এলাকার সরকারি বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনে যান। কেবল দাপ্তরিক পরিদর্শন নয়, শ্রেণিকক্ষে ঢুকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সাথে সরাসরি কথা বলতেও দেখা যায় তাঁকে।

প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং সূত্রের বরাতে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলতে এবং তাদের ঝরে পড়া ঠেকাতে তিনি শিক্ষকদের সাথে নিয়ে উদ্ভাবনী পাঠদান পদ্ধতি চালুর তাগিদ দিয়েছেন। অনেক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সঠিক ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

দাপ্তরিক নথি ও পরিদর্শন রেকর্ড সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, শিক্ষার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা অন্যতম জরুরি বিষয়, এ কথা মাথায় রেখে শাপলা খানম বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার, বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর সময়োপযোগী মনিটরিংয়ের কারণে বিদ্যালয়গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত।

শ্যামপুর থানার একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, শিক্ষা অফিসার শাপলা খানম কেবল একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাই নন, বরং তিনি শিক্ষকদের কাছে একজন সুপরামর্শক। যেকোনো প্রশাসনিক বা পাঠদান বিষয়ক জটিলতায় তিনি দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করেন।শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও তাঁর এই কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষা অফিসে কাজের গতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কর্মকর্তা নিয়মিত স্কুলগুলো তদারকি করায় শিক্ষকরাও এখন অনেক বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন, যার সুফল পাচ্ছে আমাদের সন্তানরা। অভিভাবক ও শিক্ষকদের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে থানা শিক্ষা অফিসার শাপলা খানমের এমন গঠনমূলক কার্যক্রম শ্যামপুরের শিক্ষা খাতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। শতভাগ মানসম্মত ও সততাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেই প্রত্যাশা স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের।

শ্যামপুরের প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শ্যামপুর থানা শিক্ষা অফিসার শাপলা খানম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বরাদ্দকৃত সরকারি বরাদ্দের শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। নিয়মিত সারপ্রাইজ ভিজিট ও জবাবদিহিতার ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক ত্বরান্বিত হয়েছে। আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তাৎক্ষণিক খাদ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করবে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার: এস এম হুমায়ূন কবির

সুমন ভট্টাচার্য, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম
তাৎক্ষণিক খাদ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করবে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার: এস এম হুমায়ূন কবির

ময়মনসিংহ বিভাগে খাদ্যের মান যাচাই ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ করা এ পরীক্ষাগারটি সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মেট্রোপলিটন কার্যালয়, ময়মনসিংহ।

উদ্বোধনকালে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির বলেন, মানুষের জীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে খাদ্যের মান তদারকি করা হলেও এখন থেকে অভিযানের সময়ই ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগারে খাদ্যের নমুনা তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এর ফলে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য শনাক্ত করে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা কার্যক্রমও আরও জোরদার হবে।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, আধুনিক পরীক্ষাগার সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করেছে। ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মেসেঞ্জারের ‘মিম’ থেকে মধ্যরাতে দুই হলে সংঘর্ষ

বাকৃবিতে মুখোমুখি দুই আবাসিক হল, ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৪, আতঙ্কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম
বাকৃবিতে মুখোমুখি দুই আবাসিক হল, ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৪, আতঙ্কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা

একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে দেওয়া ‘মিম’ পোস্টকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত গড়াল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে। শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।

শুধু দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষই নয়, এ ঘটনায় একটি হলের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপর হলে গিয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও উঠেছে। রাতের সংঘর্ষে দুই হল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘটনাস্থলে যেতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (ব্যাচ-৬৫) শিক্ষার্থীদের একটি অফিশিয়াল মেসেঞ্জার গ্রুপে। ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই গ্রুপে একটি ‘মিম’ পোস্ট করা হয়। পোস্টটি নিয়ে আপত্তি তোলেন এক শিক্ষার্থী। গ্রুপে এ ধরনের বার্তা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এ নিয়েই শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। প্রথমে বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সেই কথাকাটাকাটি দ্রুত ব্যক্তিগত বিরোধে রূপ নেয়। পরে একই অনুষদের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সেই বিরোধের রেশ গিয়ে পড়ে দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হল থেকে বেরিয়ে আসেন। এতে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রথমে মাওলানা ভাসানী হলের একদল শিক্ষার্থী সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে মাওলানা ভাসানী হলে গিয়ে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দুই হল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকে নিরাপত্তার আশঙ্কায় নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হন।

সংঘর্ষে আহত চার শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। অন্যদের হাত-পায়ে জখম হয়েছে। আহতদের অধিকাংশই মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন বলেন, আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন থেকে চারজন। তাঁরা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। কাউকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রূপ নেয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল কি না। একই সঙ্গে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা কীভাবে এত দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নিল, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এক হলের শিক্ষার্থীরা অন্য হলে ভাঙচুর করেছে। তবে পরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার পর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ নিজ নিজ হলে ফিরে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে সংঘর্ষের ঘটনায় কারা জড়িত ছিল, ভাঙচুরের ঘটনায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মেসেঞ্জার গ্রুপের তুচ্ছ বিতর্ক কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রূপ নিল, এর পেছনে কারা উত্তেজনা উসকে দিয়েছে এবং সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর ছিল এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য বিরোধ যেন আবাসিক হলকেন্দ্রিক সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।