শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে সাংবাদিকের নামে বিএনপি নেতার মানহানি মামলার ঘটনায় বিএমইউজে’র নিন্দা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫, ১:৪৬ এম
ময়মনসিংহে সাংবাদিকের নামে বিএনপি নেতার মানহানি মামলার ঘটনায় বিএমইউজে’র নিন্দা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় দুই সাংবাদিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক একেএম শমসের আলী।

শনিবার (২৪ মে) ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অমিত হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শমসের আলীর দায়ের করা মামলার আবেদন আদালত গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় বলা হয়, গত ১৯ মে ২০২৫ইং ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদের সামনে টোল আদায়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন স্থানীয় কয়েকটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

মানববন্ধনে বর্তমান ইজারাদার ও ময়মনসিংহ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌসিফ ইবনে মান্নানের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূত ভাবে অতিরিক্ত টোল আদায়, ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়।

শমসের আলীর দাবি, মানববন্ধনের প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তরফদার ও শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ‘চাঁদাবাজ শমসের, বাটপার শমসের’ লেখা প্লেকার্ড বানান এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অপমানিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলায় আসামি করা হয়েছে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তরফদার, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, কবির হোসেন, আজাহারুল ইসলাম রিপনসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে।

দৈনিক জনবাণীর ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তরফদার বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের মানববন্ধনের খবর আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে সংগ্রহ করেছি। কিন্তু এতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে।’

অপর দৈনিক তৃতীয় মাত্রা ও দৈনিক সংগ্রামের সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুধু সংবাদ করেছি। এটিই আমার অপরাধ। আমি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব সোহেল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান যুক্ত বিবৃতিতে মানববন্ধনের সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভীত্তিহীন মামলা দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। অভিলম্ভে মামলা প্রত্যাহারের আহবান জানান।

ফুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

ঐ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কবির হোসেন, জেলা যুবদলের সহসভাপতি ও পৌর বি এন পির সদস্য আজহারুল আলম রিপন, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, কৃষকদল নেতা ফখরুদ্দিন মাসুমসহ আরও অনেকে।

তাঁরা অভিযোগ করেন, বাজার ইজারার নামে একটি চক্র অবৈধ উপায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। শমসের আলী এই প্রক্রিয়ায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে একেএম শমসের আলী বলেন, ‘আমি সাংবাদিকবান্ধব মানুষ। কিন্তু আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। এতে আমার মানহানি হয়েছে। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

ময়মনসিংহে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ পেস্টিং খোকন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২০ এম
ময়মনসিংহে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ পেস্টিং খোকন গ্রেফতার

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার আওতায় বিশেষ অভিযানে ২৪ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১ নং পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) মোঃ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় “পেস্টিং খোকন” নামে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে ২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি-সম্পাদকসহ সব পদে বিএনপিপন্থিদের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি-সম্পাদকসহ সব পদে বিএনপিপন্থিদের জয়

ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সবকটি পদেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। ‘সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে অংশ নিয়ে তারা এ বিজয় অর্জন করেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট আবু রেজা মো. ফজলুল হক বাবলু আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল হক ৫৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’-এর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে এম আমান উল্লাহ বাদল পেয়েছেন ২১১ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে একই প্যানেলের অ্যাডভোকেট মমরুজুল হাসান জুয়েল ৭৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম পেয়েছেন ৬০ ভোট।

অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন— সহসভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মীর এমরান আলী পাপেল ও অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব একেএম মইনুল হোসেন মিলন; সহ-সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সজীব সরকার রোকন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান (জামান) ও অ্যাডভোকেট রাইসুল ইসলাম; অডিটর পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম সোহাগ; এবং কার্যকরী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার লিপি, অ্যাডভোকেট রিয়াদ মো. সাঈদ, অ্যাডভোকেট রেজাউল কিবরিয়া (সোহাগ মন্ডল), অ্যাডভোকেট মো. শাহীন আলম, অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন খলিল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট সামির আল রশিদ বিপ্লব।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সমিতি ভবনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। নির্বাচনে মোট ১,০৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ৮৪০ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে গণনা সম্পন্ন হয় এবং শুক্রবার সকালে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম কর্মদক্ষতায় অনন্য এক প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব

মোঃ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম কর্মদক্ষতায় অনন্য এক প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব

রাজধানী ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে নবনিযুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদা খানম। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসনে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ফরিদা খানম ইতিপূর্বেও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফরিদা খানম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন চৌকস কর্মকর্তা। কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি মেধা ও সাহসিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি ডিজিটাল পদ্ধতির সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বদা আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছেন।নারী শিক্ষা এবং বাল্যবিবাহ রোধে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও সংকটকালীন সময়ে তাঁর ধৈর্যশীল এবং কার্যকর নেতৃত্ব প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে

ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফরিদা খানমের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে তাঁর অতীত রেকর্ড বলছে, তিনি ঢাকার মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ জেলার উন্নয়ন এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় সফল হবেন। বিশেষ করে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ঢাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ফরিদা খানমের নেতৃত্বে ঢাকা জেলা প্রশাসন আরও বেশি মানবিক ও কর্মতৎপর হয়ে উঠবে। তাঁর এই নতুন পথচলা ঢাকার সামগ্রিক উন্নয়নে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।