রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ভৈরবে ছিঁচকে পকেটমার থেকে শত কোটি টাকার মালিক মূর্তিমান আতঙ্ক মিন্টু ধরাছোঁয়ার বাইরে

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫, ৮:১৬ পিএম
ভৈরবে ছিঁচকে পকেটমার থেকে শত কোটি টাকার মালিক মূর্তিমান আতঙ্ক মিন্টু ধরাছোঁয়ার বাইরে

ছিঁচকে পকেটমার ছিনতাইকারী থেকে নেতা ও ভূমিদস্যুতা করে শত কোটি টাকার মালিক মূর্তিমান আতঙ্ক মিন্টু এখনো রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন মিন্টু। জুলাই বিপ্লবের পর সহিংসতার মামলায় লাপাত্তা মিন্টু সম্পদ লুকাতে স্ত্রীকে সাজিয়েছিল ব্যবসায়ী। ভৈরব থানার কাছে তার প্রাসাদোপম জান্নাত হোটেল ছিল প্রতিপক্ষকে নিপীড়ন-নির্যাতনের ‘আয়নাঘর’।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন মিন্টু প্রথম জীবনে ছিল ছিঁচকে পকেমার-ছিনতাইকারী। পরে ভূমিদস্যুতা থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন রাজনীতির চরকি ব্যবহার করে তার শত শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার কাহিনী যেন ‘আলী বাবা চল্লিশ চোর’ উপাখ্যানকেও হার মানায়। মিন্টু ১৪ বছরে হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে কৌশলে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

তার ঘনিষ্ঠ একই গ্রামের এক নারী বলেন, মিন্টু সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে যেতেন মন্ত্রী-এমপিদের ভোগবিলাস-মনোরঞ্জনের জন্য। এসব মন্ত্রী-এমপির প্রভাব খাটিয়ে সে অনিয়ম-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, বালু, মাদক ও দখল বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধ-অনিয়মের নিয়ন্ত্রক হয়ে গড়ে তুলেছে টাকার পাহাড়। ভুক্তভোগীরা জানান, মিন্টু ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ভৈরব বাজার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারী ও পকেটমার হিসাবে পরিচিত ছিল।

ভৈরব বাজারের এক বাসিন্দা বলেন, আমি চল্লিশ বছর ধরে ভৈরব বাজারে থাকি। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তার বাপ-চাচারা দুই ভাই রাজা মিয়া ও বাদশা মিয়া। বাদশা মিয়ার ছেলে হলো মিন্টু। মিন্টু ভৈরব বাজারে রেলওয়ে স্টেশনে সারাদিন ঘুরে মদ-গাঁজা সেবন করত। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সে ভৈরব বাজারে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পকেট মারত, ছিনতাই করত। এসব কাজ করতে গিয়ে সে কয়েকবার ধরাও পড়েছে। আমি তাকে কয়েকবার পকেট মারতে গিয়ে ধরা খেয়ে গণপিটুনির শিকার হতে দেখেছি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভৈরবের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. মনির হোসেনদের পরিবারের ১৩০ শতক জমি মিন্টু জোর করে দখল করেছে। তারা ভৈরব থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ তখন মামলাও নেয়নি।

শিরিনা বেগম নামে এক নারী বলেন, তার স্বামীর কাছ থেকেও মিন্টু ৩৫ শতক জমি দখল করে রিসোর্ট তৈরি করেছেন। মিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। উলটো তার স্বামীকে জান্নাত হোটেলের আয়নাঘরে নিয়ে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে মিন্টুর সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী।

আরেক ভুক্তভোগী ভৈরবের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, জিল্লুর পুত্র পাপনের দাপট দেখিয়ে মিন্টু মানুষের ওপর জোর-জুলুম, অত্যাচার করত। সে আমার বেলাবর তেলের পাম্প দখল করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে থানায় মামলা করতে কেন গেলাম এই খবর পাওয়ার পর মিন্টু তার বাহিনী দিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। জান্নাত হোটেলের মাটির নিচে একটি অন্ধকার কক্ষে নিয়ে হাত-পা-চোখ বেঁধে আমাকে মারধর করা হয়, জোর করে দলিলে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়। রাজু আহাম্মেদ নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, তার ২০০ শতক জমি জোর করে দখল করেছেন মিন্টু। তার কথার বা ইচ্ছার বাইরে যে গেছে তার ওপরই নেমে এসেছে নিষ্ঠুর নির্যাতনের খড়গ। কেনার আশ্বাস দিয়ে ভৈরব বাজার এলাকার নিলুফা বেগমেরও ৩০ শতক জমি দখল করেছে মিন্টু। উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের কামাল হোসেন, ময়নাল হোসেন ও সফিক মিয়ার কাছ থেকেও ভৈরব বালুমহল এলাকায় প্রায় ৩০০ শতক জমি দখল করছে মিন্টু।

এলাকায় মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ২০০৫ সাল থেকে মিন্টুর উত্থানের পাখা মেলতে শুরু করে। তখন সে কিশোর গ্যাং তৈরি করে। কিশোর গ্যাং দিয়েই সে চুরি-ছিনতাই ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগে একজন কর্মী হিসাবে যোগদানের পরই যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যায় মিন্টু।

মিন্টু আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত চার মেয়াদে ভৈরব থেকে কাউন্সিল নির্বাচিত হয়েছে। পৌর কাউন্সিলর হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে মিন্টু নিজে দখল করেছে শত শত একর জমি। গড়ে তুলেছে পর্যটনকেন্দ্রসহ নানা বিলাসী প্রকল্প। দখলের ক্ষেত্রে সে নিজের ভাইদেরও ব্যবহার করেছে। স্ত্রীর নামে নিয়েছে গার্মেন্ট ও হোটেল-রেস্তোরাঁর লাইসেন্স। ২০২৩ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে সদরঘাট কেরানীগঞ্জে একটি ডকইয়ার্ড দখলের অভিযোগ ওঠে। স্ত্রী লাভলী ফাতেমার নামে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে অভিনব কৌশলে ব্যাংক ঋণের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় ব্যাংকের ওপর। এর পাশাপাশি সে হয়েছে বালুর ট্রলার-বাল্কহেডের মালিক। এরই মধ্যে এক ডকইয়ার্ড মালিক তার বিরুদ্ধে ৮০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশও পাঠিয়েছেন। মিন্টু সর্বসাকুল্যে প্রায় ২০০ একর জমি দখল করেছে। এসব জমিতে সে গড়ে তুলেছে মহিষের খামার, পুকুর, বাগান, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মিন্টু অনেক মানুষ মেরে মেঘনা নদীতে ফেলে লাশ গুম করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভৈরব বাজারের এক চা দোকানদার বলেন, সন্ত্রাসী এরশাদ সিকদারের চেয়েও ভয়ংকর ছিল ছিনতাইকারী-পকেটমার থেকে আওয়ামী লীগের লেবাস নিয়ে রাতারাতি বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া মিন্টু। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস পেত না।

পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরদিন জান্নাত হোটেলে মিন্টুর আয়নাঘর পুড়িয়ে দেয় বৈষম্যবিরোধী বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনত। তখন সেখানে ৩ জনের লাশ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আত্মগোপন করে ভৈরবের মূর্তিমান আতঙ্ক মিন্টু এখনো রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

‎ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
‎ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৫

‎ময়মনসিংহে ডিজিএফআই, ওয়ারেন্ট অফিসার, ডিবি পুলিশের এসআই, পুলিশ কর্মকর্তা ও যৌথবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

‎শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলাকালে তাদের আটক করা হয়। কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

‎পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও প্রাথমিকভাবে অভিযোগ ওঠে।

‎বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। পরে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের ব্যবহৃত পরিচয়, কথিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ের সত্যতা এবং ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাই করছে পুলিশ।

‎পুলিশ সূত্র জানায়, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের ডিজিএফআই, ওয়ারেন্ট অফিসার, ডিবি পুলিশের এসআই, পুলিশ কর্মকর্তা ও যৌথবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে এসেছে। তবে তারা সত্যিই কোনো বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, নাকি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছিলেন তা যাচাই করা হচ্ছে।

‎এ ছাড়া ওই ব্যক্তিকে কেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, এর পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কার কী ভূমিকা ছিল, সেসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।

‎পুলিশ আরও জানায়, আটকদের প্রকৃত পরিচয়, পারস্পরিক সম্পর্ক, ব্যবহৃত পরিচয়ের সত্যতা এবং কথিত অপহরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সরঞ্জাম বা আলামত উদ্ধার হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।

‎কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাটি শনাক্ত করে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

‎পুলিশ সূত্র আরও জানায়, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

‎আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি দেখানো, জোরপূর্বক তুলে নেওয়া বা অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করা হলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অষ্টগ্রামে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ নিয়ে মতবিনিময়

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
অষ্টগ্রামে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ নিয়ে মতবিনিময়

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হাওরাঞ্চলের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়ন ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় হাওরাঞ্চলে ভাসমান নৌ-পাঠাগার স্থাপন, স্থানীয় পর্যায়ে পাঠক তৈরি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে বই ও তথ্য-জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অষ্টগ্রাম জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহযোগিতা এবং সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বর্মনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপপরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন সরকার। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোবারক হোসেন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপগ্রন্থাগারিক রাসেল রানা, অষ্টগ্রামের স্বপ্নীল গণগ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, মিঠামইনের হাওর পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ওমর ফারুকসহ অন্যরা।

সভায় বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রন্থাগারগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্গম হাওর এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে বই ও তথ্য-জ্ঞান পৌঁছে দিতে ভাসমান নৌ-পাঠাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

হাওরাঞ্চলের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাঠক তৈরির উদ্যোগ, বই পড়ার সংস্কৃতি বিস্তৃত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।

মিঠামইনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
মিঠামইনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে আঘাত ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরদিন বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় তারা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ নিয়ে আলোচনা হলেও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক আঘাত বন্ধ করা, বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

তবে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিদ্যালয়ের পাশের ব্রিজে গিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। তখন তিনি তাদের ‘শুধু শাসন করেছেন’।

বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।