শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে তরুণদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে:নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৪, ৩:১৫ পিএম
ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে তরুণদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে:নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন

তরুণদের প্রত্যাশা কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দিয়ে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। নতুন ভুল করবো না। কারণ এই জিনিসগুলো করলে মানুষ ধিক্কার দেবে। আমাদের সেই সুযোগই নেই। আমরা শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবো না, দেশে সঠিক ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) নগরীর নিউ ইস্কাটনে নিজ বাসভবনে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

 

দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দেবেন?

তরুণদের প্রত্যাশা কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো। জাতিকে যেন একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোটাধিকার উপহার দিতে পারি। সর্বশক্তি দিয়ে এ চেষ্টা করবো। সবার সহযোগিতা নিয়েই আমি নির্বাচনটা করতে চাই। আমি মনে করি নিয়ত যদি সহি থাকে মনের মধ্যে ভেজাল যদি না থাকে তবে এ ধরনের কাজ করা সম্ভব। জাতি প্রমাণ করেছে সঠিক নির্বাচন করা সম্ভব। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে মানুষ কিন্তু তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। তেমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করবো। সঠিক ভোট আয়োজনের সব সুযোগ আছে। আমরা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। রাজনৈতিক দলগুলো বছরের পর বছর এই একটা দাবিতে লড়াই করেছে। সবাই যেহেতু চাচ্ছে সবাইকে নিয়ে এ কাজটি করবো।

 

বর্তমান সময়কে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

আমি তো আগে দায়িত্ব নেইনি, সুতরাং আগের কথা বলতে পারবো না। তাদের কী ধরনের চাপ ছিল তাও বলতে পারবো না। তবে আমি বুঝতে পারছি আমার দায়িত্বটা অনেক বেশি হবে। এটা কিন্তু বঞ্চনার ব্যাকগ্রাউন্ড! মানুষ যখন বঞ্চিত থাকে তখন প্রত্যাশা অনেক বেড়ে যায়। তবে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবো।

 

ইভিএম নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

মেয়র নির্বাচনে একবার ভোটকেন্দ্রে গেলাম সালটা মনে হয় ২০১৮ হবে। তখন এক ভদ্রলোক পাশে এসে বলেছিল স্যার আমাকে একটা ভোট দিয়েন। ইভিএম একটা টেকনিক্যাল বিষয়। এটার ভালো-মন্দ দিক নিয়ে আমি চিন্তা করিনি। কোন দেশে ইভিএম আছে বা নেই এটা নিয়েও আমি কিছু দেখিনি। আগে দায়িত্বটা নেই তারপর বোঝার চেষ্টা করি। তাছাড়া সংস্কার কমিশন কাজ করছে। বদিউল আলম মজুমদার সাহেব ভালো কাজ করছেন। তারা আমাদের অনেক কাজ সহজ করে দিচ্ছেন বা এগিয়ে দিচ্ছেন।

 

আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলোর নির্বাচনে আসা না আসা নিয়ে কী বলবেন?

এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হচ্ছে, আপনারা দেখছেন। বিতর্কের আগে ফয়সালা হোক, আপনারাও দেখবেন একটা মীমাংসা তো আসবেই। তবে এই মুহূর্তে আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না।

ফ্যাসিবাদের দোসরদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হবে, না জনগণকে মূল্যায়নের ভার দেওয়া হবে?

এটা নিয়ে এই মুহূর্তে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটার একটা ফয়সালা হবে নিশ্চয়। নির্বাচন সামনে, নিশ্চয় একটা সিদ্ধান্ত হবে। তখন আপনারা দেখতে পারবেন। তখন আপনারা দেখবেন আমিও দেখবো।

 

কোন বিষয়গুলোতে আপনি বেশি গুরুত্ব দেবেন?

আগে দায়িত্ব বুঝে নেই, তারপর দেখি। স্থানীয় নির্বাচন করতে গেলেও একই প্রস্তুতি লাগবে। সঠিক ভোটার তালিকা নিয়ে কাজ করতে হয়। পাঁচ থেকে ছয়টা ভোটার তালিকা করতে হয়, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, মেয়র থেকে শুরু করে নানা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে।

 

রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

পত্র-পত্রিকায় যা দেখছি রাজনৈতিক দলগুলো তাড়াতাড়ি নির্বাচন চাচ্ছে বলে আমার মনে হয়। মনে হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচন আগে চায়।নির্বাচনের কাজটা ইসি একা পারে না। ভোটের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। ভোটার তালিকা করার একটা ব্যাপার আছে। জেন-জি আন্দোলন করলো, তাদের ভোটার করতে হবে ইত্যাদি নানা ধরনের কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের জন্য রেডি করার চেষ্টা করবো। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে তিনি যাবেন না।

আমি তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছি। সবাই একদলের সমর্থক না। কেউ এই দলে দিয়েছে কেউ ওই দলে দিয়েছে। আমি আগে বুঝে নিই তারপর দেখবো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।

 

নতুন যারা নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন তাদের আপনি কতটা জানেন?

তাদের আমি চিনি না। আমি আপনাদের মতোই মিডিয়ায় দেখেছি। সবার সঙ্গে পরিচয় হবো। আমরা মিটিংয়ে বসবো। কাজ শুরু করলে বুঝতে পারবো কী কী সুবিধা-অসুবিধা আছে, কোথায় কোথায় গ্যাপ আছে। ধীরে ধীরে দিন যত যাবে ততই অভিজ্ঞতা হবে। আমার একটা বিশাল সুবিধা আছে সেটা হলো নির্বাচন সংস্কার কমিশন অনেক কাজ এগিয়ে দিয়েছে। ওনারাই সব কিছু রেডি করছেন আমাদের কোথায় কোথায় কাজ করতে হবে। কোথায় কোথায় গলদ আছে আমার আর গবেষণা করার দরকার হবে না।

 

নতুন এ দায়িত্ব কী চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করছেন?

এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। সাম্প্রতিককালে অনেক মানুষ শহীদ হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হয়েছেন। কারও চোখ চলে গেছে, কারও হাত কারও পা চলে গেছে। গত ১৫-১৬ বছরে কত লোক জান দিয়েছেন তা আমরা দেখেছি। অনেক মানুষ খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, আমরা সবাই জানি। অনেকগুলো দাবির মধ্যে একটা মূল দাবি ছিল মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। মানুষ মুক্ত পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চেয়েছে।

 

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে মানুষ ভোটের অধিকার থেকে দূরে ছিল। যাদের বয়স ২০১৪ সালে ১৮ বছর ছিল তাদের বয়স এখন ২৮ বছর হয়ে গেছে। তারা কিন্তু ভোট দেওয়ার সুযোগটা পায়নি। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিরাট একটা ক্ষোভ আছে। তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগের অন্যতম লক্ষ্য কিন্তু ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দায়িত্বটা অনেক বেশি। মানুষ অনেক রক্ত দিয়েছে। আমরা যদি ব্যর্থ হই তরুণদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। এদের রক্তের সঙ্গে মোনাফেকি করা হবে। এই বেইমানি আমরা করতে পারবো না। এই বয়সে এসে এই বেইমানি করার মতো মন-মানসিকতা আমাদের নেই।

 

আপনার সিইসি হওয়ার প্রস্তাবটা বিএনপি দিয়েছে এমন কথা শোনা যাচ্ছে?

কে প্রস্তাব দিয়েছে বা দেয়নি এটা আমার জানা নেই। এমনকি আমার কবে শপথ তাও জানি না। শুধু মিডিয়ায় দেখলাম খবরটি।

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। একই দিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ জেলা সার্কেলের যৌথ আয়োজনে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আজকের এই আয়োজন মানবিক হলেও এটি আনন্দের নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলেও তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এর হার উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও জনগণের সচেতনতার বিকল্প নেই। রাস্তা পারাপারে সতর্কতা অবলম্বন, ফুটপাত ও মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং সড়ক আইন মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সড়ক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। যানবাহন চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে হবে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে গাড়ি চালানো কিংবা রাস্তা পার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধি, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী সরকারের ঘোষিত “পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি”-এর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলা লেডিস ক্লাব প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

মিঠামইনে ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণায় ছাত্রদল নেতা খোকা

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:৩৯ এম
মিঠামইনে ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণায় ছাত্রদল নেতা খোকা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ৪ নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে আগাম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা। হাওরবেষ্টিত ঘাগড়া ইউনিয়নের সিহারা গ্রামে জন্ম নেওয়া খোকা ছাত্রজীবন থেকেই এলাকার মানুষের সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় স্থানীয়দের কাছে একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।

নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন। তাঁর লক্ষ্য নির্বাচনের আগেই জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জন করা।

মোকাররম হোসেন খোকা বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে পুরো মেয়াদজুড়ে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করব। বিশেষ করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বর্ষাকালে হাওর অঞ্চলের যোগাযোগ সমস্যা দূরীকরণ, রাস্তা-কালভার্ট সংস্কার ও নতুন সড়ক নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে আধুনিক কৃষি উপকরণ সরবরাহ, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ধোবাজোড়া ও সিহারা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, খোকা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করছেন। এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান তারা।

গত কয়েক দিনে সিহারা, ধোবাজোড়া এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে ধারাবাহিক উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেছেন খোকা। এসব বৈঠকে তিনি স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথা শুনছেন এবং নির্বাচিত হলে সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। তাঁর এই তৃণমূলভিত্তিক প্রচারণা ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাওরাঞ্চলে জনসম্পৃক্ত ও মাঠমুখী নেতাদের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। সে বিবেচনায় মোকাররম হোসেন খোকার আগাম প্রচারণা তাঁকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে রাখতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে তাঁর এই প্রচারণা কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ময়মনসিংহে ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ময়মনসিংহে ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আটক

ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকায় জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাইফুল ওরফে সাইফুল মিয়াকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করে সাইফুল ও তার সহযোগীরা। চাঁদার দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়ে তারা নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি আহত হন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সাইফুল ওরফে সাইফুল মিয়াকে আটক করে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।