মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ২০ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ২০ ১৪৩২

ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে তরুণদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে:নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৪, ৩:১৫ পিএম
ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে তরুণদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে:নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন

তরুণদের প্রত্যাশা কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দিয়ে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। নতুন ভুল করবো না। কারণ এই জিনিসগুলো করলে মানুষ ধিক্কার দেবে। আমাদের সেই সুযোগই নেই। আমরা শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবো না, দেশে সঠিক ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) নগরীর নিউ ইস্কাটনে নিজ বাসভবনে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

 

দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দেবেন?

তরুণদের প্রত্যাশা কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো। জাতিকে যেন একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোটাধিকার উপহার দিতে পারি। সর্বশক্তি দিয়ে এ চেষ্টা করবো। সবার সহযোগিতা নিয়েই আমি নির্বাচনটা করতে চাই। আমি মনে করি নিয়ত যদি সহি থাকে মনের মধ্যে ভেজাল যদি না থাকে তবে এ ধরনের কাজ করা সম্ভব। জাতি প্রমাণ করেছে সঠিক নির্বাচন করা সম্ভব। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে মানুষ কিন্তু তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। তেমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করবো। সঠিক ভোট আয়োজনের সব সুযোগ আছে। আমরা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। রাজনৈতিক দলগুলো বছরের পর বছর এই একটা দাবিতে লড়াই করেছে। সবাই যেহেতু চাচ্ছে সবাইকে নিয়ে এ কাজটি করবো।

 

বর্তমান সময়কে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

আমি তো আগে দায়িত্ব নেইনি, সুতরাং আগের কথা বলতে পারবো না। তাদের কী ধরনের চাপ ছিল তাও বলতে পারবো না। তবে আমি বুঝতে পারছি আমার দায়িত্বটা অনেক বেশি হবে। এটা কিন্তু বঞ্চনার ব্যাকগ্রাউন্ড! মানুষ যখন বঞ্চিত থাকে তখন প্রত্যাশা অনেক বেড়ে যায়। তবে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবো।

 

ইভিএম নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

মেয়র নির্বাচনে একবার ভোটকেন্দ্রে গেলাম সালটা মনে হয় ২০১৮ হবে। তখন এক ভদ্রলোক পাশে এসে বলেছিল স্যার আমাকে একটা ভোট দিয়েন। ইভিএম একটা টেকনিক্যাল বিষয়। এটার ভালো-মন্দ দিক নিয়ে আমি চিন্তা করিনি। কোন দেশে ইভিএম আছে বা নেই এটা নিয়েও আমি কিছু দেখিনি। আগে দায়িত্বটা নেই তারপর বোঝার চেষ্টা করি। তাছাড়া সংস্কার কমিশন কাজ করছে। বদিউল আলম মজুমদার সাহেব ভালো কাজ করছেন। তারা আমাদের অনেক কাজ সহজ করে দিচ্ছেন বা এগিয়ে দিচ্ছেন।

 

আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলোর নির্বাচনে আসা না আসা নিয়ে কী বলবেন?

এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হচ্ছে, আপনারা দেখছেন। বিতর্কের আগে ফয়সালা হোক, আপনারাও দেখবেন একটা মীমাংসা তো আসবেই। তবে এই মুহূর্তে আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না।

ফ্যাসিবাদের দোসরদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হবে, না জনগণকে মূল্যায়নের ভার দেওয়া হবে?

এটা নিয়ে এই মুহূর্তে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটার একটা ফয়সালা হবে নিশ্চয়। নির্বাচন সামনে, নিশ্চয় একটা সিদ্ধান্ত হবে। তখন আপনারা দেখতে পারবেন। তখন আপনারা দেখবেন আমিও দেখবো।

 

কোন বিষয়গুলোতে আপনি বেশি গুরুত্ব দেবেন?

আগে দায়িত্ব বুঝে নেই, তারপর দেখি। স্থানীয় নির্বাচন করতে গেলেও একই প্রস্তুতি লাগবে। সঠিক ভোটার তালিকা নিয়ে কাজ করতে হয়। পাঁচ থেকে ছয়টা ভোটার তালিকা করতে হয়, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, মেয়র থেকে শুরু করে নানা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে।

 

রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

পত্র-পত্রিকায় যা দেখছি রাজনৈতিক দলগুলো তাড়াতাড়ি নির্বাচন চাচ্ছে বলে আমার মনে হয়। মনে হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচন আগে চায়।নির্বাচনের কাজটা ইসি একা পারে না। ভোটের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। ভোটার তালিকা করার একটা ব্যাপার আছে। জেন-জি আন্দোলন করলো, তাদের ভোটার করতে হবে ইত্যাদি নানা ধরনের কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের জন্য রেডি করার চেষ্টা করবো। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে তিনি যাবেন না।

আমি তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছি। সবাই একদলের সমর্থক না। কেউ এই দলে দিয়েছে কেউ ওই দলে দিয়েছে। আমি আগে বুঝে নিই তারপর দেখবো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।

 

নতুন যারা নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন তাদের আপনি কতটা জানেন?

তাদের আমি চিনি না। আমি আপনাদের মতোই মিডিয়ায় দেখেছি। সবার সঙ্গে পরিচয় হবো। আমরা মিটিংয়ে বসবো। কাজ শুরু করলে বুঝতে পারবো কী কী সুবিধা-অসুবিধা আছে, কোথায় কোথায় গ্যাপ আছে। ধীরে ধীরে দিন যত যাবে ততই অভিজ্ঞতা হবে। আমার একটা বিশাল সুবিধা আছে সেটা হলো নির্বাচন সংস্কার কমিশন অনেক কাজ এগিয়ে দিয়েছে। ওনারাই সব কিছু রেডি করছেন আমাদের কোথায় কোথায় কাজ করতে হবে। কোথায় কোথায় গলদ আছে আমার আর গবেষণা করার দরকার হবে না।

 

নতুন এ দায়িত্ব কী চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করছেন?

এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। সাম্প্রতিককালে অনেক মানুষ শহীদ হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হয়েছেন। কারও চোখ চলে গেছে, কারও হাত কারও পা চলে গেছে। গত ১৫-১৬ বছরে কত লোক জান দিয়েছেন তা আমরা দেখেছি। অনেক মানুষ খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, আমরা সবাই জানি। অনেকগুলো দাবির মধ্যে একটা মূল দাবি ছিল মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। মানুষ মুক্ত পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চেয়েছে।

 

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে মানুষ ভোটের অধিকার থেকে দূরে ছিল। যাদের বয়স ২০১৪ সালে ১৮ বছর ছিল তাদের বয়স এখন ২৮ বছর হয়ে গেছে। তারা কিন্তু ভোট দেওয়ার সুযোগটা পায়নি। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিরাট একটা ক্ষোভ আছে। তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগের অন্যতম লক্ষ্য কিন্তু ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দায়িত্বটা অনেক বেশি। মানুষ অনেক রক্ত দিয়েছে। আমরা যদি ব্যর্থ হই তরুণদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। এদের রক্তের সঙ্গে মোনাফেকি করা হবে। এই বেইমানি আমরা করতে পারবো না। এই বয়সে এসে এই বেইমানি করার মতো মন-মানসিকতা আমাদের নেই।

 

আপনার সিইসি হওয়ার প্রস্তাবটা বিএনপি দিয়েছে এমন কথা শোনা যাচ্ছে?

কে প্রস্তাব দিয়েছে বা দেয়নি এটা আমার জানা নেই। এমনকি আমার কবে শপথ তাও জানি না। শুধু মিডিয়ায় দেখলাম খবরটি।

মমেক হাসপাতালে রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন নিশ্চিত করার আহবান- ওয়াহাব আকন্দ এমপি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম
মমেক হাসপাতালে রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন নিশ্চিত করার আহবান- ওয়াহাব আকন্দ এমপি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) সকালে পরিদর্শন কালে স্বাস্থ্যসেবায় রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন ও সদাচরণ নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ সদর-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের রোগীসেবার মান, চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা-সেবা নিয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় রোগীদের স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলে হাসপাতালের সেবার মান সম্পর্কে মতামত শোনেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। প্রত্যেক রোগী যেন যথাযথ, সময়োপযোগী ও মানবিক চিকিৎসা সেবা পান, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানবিক সেবার মহান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করছে। এই উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ মানুষ সরাসরি পায়, সে বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ সময় হাসপাতালের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে এমপিকে অবহিত করেন। এমপি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীদের সঙ্গে সদাচরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি নির্দেশ দেন, জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে এবং কোনো রোগী যেন অবহেলার শিকার না হন। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের সময়মতো উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কঠোর মনোযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান সন্তোষজনক হলেও কিছু বিষয়ে উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে মত দেন তিনি। দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর যানবাহন শাখায় দুর্নীতির রাজত্ব: লাইসেন্সবিহীন চালকে চলছে সরকারি গাড়ি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৪ এম
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর যানবাহন শাখায় দুর্নীতির রাজত্ব: লাইসেন্সবিহীন চালকে চলছে সরকারি গাড়ি

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন শাখায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা ও ড্রাইভারের যোগসাজশে বরাদ্দকৃত গাড়ি একাধিক ব্যক্তি দিয়ে চালানো, বহিরাগত ও লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে সরকারি যানবাহন পরিচালনা এবং মাসিক ভাতার ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এতে সরকারি সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, যান্ত্রিক প্রকৌশলী নির্বাহী (শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) শফি কামালের নির্দেশে বহিরাগত চালকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে সরকারি গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে অফিসের নিয়মিত নিয়োগপ্রাপ্ত চালকেরা অনেক সময় বসে থাকলেও বাইরে থেকে আনা ব্যক্তিরা মৌখিক নির্দেশে গাড়ি পরিচালনা করেন।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন: যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে দায়ভার কে নেবে? মৌখিক নির্দেশে বহিরাগত ও অননুমোদিত চালকদের দিয়ে গাড়ি চালানো আইনগতভাবেও গুরুতর অপরাধ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ড্রাইভার সিদ্দিকের নামে দুটি গাড়ি বরাদ্দ থাকলেও তিনি দিনে ও রাতে পৃথকভাবে দুটি গাড়ি পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, একটি গাড়ি দিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া এবং অন্যটি দিয়ে রাস্তায় পানি ছিটানোর কাজ করা হয়। অভিযোগকারীদের মতে, একই ব্যক্তির নামে দুটি গাড়ি বরাদ্দ ও পরিচালনা প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী এবং এতে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ড্রাইভার রাজার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ। তার নামে দুটি গাড়ি বরাদ্দ এবং দুটি মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ড্রাইভারদের তুলনায় তার বেতন বেশি এবং তিনি মাস্টাররোলভুক্ত হিসেবেও অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ড্রাইভার খালেকের নামে বরাদ্দকৃত ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক বাস্তবে চালান ফারুক নামে আরেক ব্যক্তি, যার কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা চাকরির কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ভারী যানবাহন পরিচালনা জননিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোলার চালক বারেকের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শফি কামালের নির্দেশে বোম এক্সাভেটর (২) ও রোলার নিজে এবং তার ভাতিজা বিল্লালকে দিয়ে পরিচালনা করছেন। বিল্লালের সিটি কর্পোরেশনে কোনো চাকরি নেই এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

জানা যায়, ময়লাকান্দা এলাকায় বোম এক্সাভেটর (২) গত দুই বছর ধরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পরিচালিত হচ্ছে, অথচ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত চালকেরা বসে থাকেন। বর্তমানে আরও একটি ড্রোজারও বারেক নিজে পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বহিরাগত চালকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে তাদের দিয়ে সরকারি গাড়ি চালানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্বহীন হয়ে পড়ছেন, অন্যদিকে সরকারি অর্থ ও সম্পদের অপব্যবহার হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি যানবাহন পরিচালনায় সঠিক নথিপত্র, বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় দুর্ঘটনা ঘটলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে এবং ক্ষতিপূরণ বা দায়ভার নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং সরকারি যানবাহন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

এ বিষয়ে যান্ত্রিক প্রকৌশলী নির্বাহী শফি কামাল মঠো ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বৃত্তিহীন। তবে মাস্টার রোলে তারা কাজ করছে। তিনি দায় শিকার এরিয়ে যান।

ময়মনসিংহের চাঁদাবাজ দুকুল এখন কার কূলে?

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
ময়মনসিংহের চাঁদাবাজ দুকুল এখন কার কূলে?

ময়মনসিংহ–ত্রিশাল সড়কে সিএনজি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদাবাজির অভিযোগে দেবব্রত দাস দুকুলসহ তিন জনের নামে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নম্বর: ৪৪।

চাঁদাবাজি মামলা রুজু হওয়ার পরেও দুকুলকে গ্রেফতারে নেই পুলিশের কোন তৎপরতা। প্রশ্ন উঠেছে, চাঁদাবাজ দুকুল এখন কার কূলে? কোন অদৃশ্য শক্তির বলয়ে দুকূলকে গ্রেফতার করেছে না পুলিশ?

এবিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।