শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ ১৪৩২
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ ১৪৩২

ফুফু রহিমার ষড়যন্ত্রে পিতৃপরিচয় থেকে বঞ্চিত স্কুল শিক্ষার্থী দ্বীনমনি

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৪ এম
ফুফু রহিমার ষড়যন্ত্রে পিতৃপরিচয় থেকে বঞ্চিত স্কুল শিক্ষার্থী দ্বীনমনি

অধিকার বঞ্চিত অনেক নারীরা তাদের সন্তানের পিতৃ- পরিচয়ের দাবীতে মানুষের দ্বারে-দ্বারে ঘুরেন এটা প্রায়ই দেখা যায়। তবে এবার সন্তান তার মায়ের অধিকার ও নিজের পিতৃ পরিচয় পেতে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। জনপ্রতিনিধি থেকে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের হাতে পায়ে ধরছেন শুধু বাবার পরিচয়টার জন্য। যেনো মানুষকে পরিচয় দিতে পারে। বাবার নামটা যেনো বলতে পারে। আর বাবার নামের জন্য স্কুলে লেখা পড়া, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয় পত্রসহ কোন কিছুতে সফল হতে পারছেনা ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের বালিদিয়া গ্রামের আক্কাছ আলী আদর্শ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী দ্বীন মনি নূর (১৭)।

নবম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় রেজিষ্ট্রেশনের সময় তার জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হলেও সেটা দিতে ব্যর্থ হয় দ্বিন মনি নূর। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মানবিকতায় রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম কোনভাবে সম্পন্ন করলেও সামনে এসএসসির ফরম পূরণ। সেখানে কি লিখবে পিতার স্থানে, ফরম পূরণ হবে কিনা তা নিয়েও সঙ্কায় রয়েছে দ্বীন মনি নূর। স্কুল শিক্ষিকা ফুফু রহিমার ষড়যন্ত্রে পিতৃপরিচয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তার।

দ্বীন মনি নূর জানায়, তার মাতা-মোছাঃ বকুল এর সাথে বালিদিয়া গ্রামের মোনতা মৌলভীর পুত্র আনোয়ার হোসেনের সাথে প্রায় ১৯ বছর পূর্বে প্রেম গঠিত সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয়ের পরিবারের অজান্তে (কাবিন রেজিষ্ট্রি ব্যাতিরেকে) ইসলামী শরিয়া মোতাবেক মৌলভী দ্বারা বিবাহ হয়। তাদের ঔরস জাত সন্তান হিসাবে তার জন্ম হয়। তার মাকে মৌলভী পরিবার পুত্র বধু হিসাবে মেনে না নেওয়ায় দ্বীন মনি তার জন্মের পর থেকে এতিমখানায় বড় হয়। যখন সে বুঝতে পারে, তখন জানতে পারে মায়ের গর্ভে থাকাবস্থায় তার মা বকুল দ্বীনমনির পিতৃ পরিচয় স্বীকৃতি দাবী করলে বাবা আনোয়ার সহ তার পরিবারের সবাই অস্বীকার করে। সে পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে এলাকার বিভিন্ন গন্যমান্য লোকজনের দ্বারস্থ হলেও তার ফুফু রহিমা খাতুন বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় এবং এর আগে মা বকুল সন্তানের পরিচয় চাওয়ায় তার বাবা আনোয়ার হোসেনকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় ফুফু রহিমা। যেন আমি পিতৃ পরিচয় ও মা স্বামীর অধিকার নিয়ে কখনো বাবার সামনে দাঁড়াতে না পারে।

দ্বীন মনি নূর আরো অভিযোগ করে বলে, বাবা বিদেশ থাকার কারণে আমি তার সাথে অদ্যাবধি পর্যন্ত যোগাযোগ করতে পারি নাই। আমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি আমার বাবার ফোন নাম্বারটিও আমাকে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে আমি স্থানীয় আক্কাছ আলী আদর্শ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। আমার এস.এস.সি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন, জন্মনিবন্ধন, ভোটার নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে পিতৃ পরিচয় আবশ্যকিয় বিধায় এসকল কাজ করতে পারছি না। এস.এস.সি পরীক্ষাসহ সামনের দিনগুলিতে আমার ভবিষ্যত জীবন অচল হয়ে পড়ার সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। পিতৃ পরিচয় ছাড়া আমাকে অনেকের কথা শুনতে হয়। সমাজ আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, বিভিন্ন কুটুক্তি করছে এমতাবস্থায় পিতৃ পরিচয় না পেলে সামনের দিনগুলিতে আমার জন্য বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল। তাই প্রশাসন ও মানবাধিকার পরিষদের কাছে আইনি সহায়তা চাইছেন দ্বীন মনি নূর।

দাবি করছেন তার নিজের ও মায়ের অধিকার। বর্তমানে দ্বীন মনি নূর নিজেকে অসহায় দাবি করে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান। সে তার মা’সহ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনের সহায়তা চাচ্ছেন।

গৌরীপুর থানায় ডিউটি অফিসার এএসআই আরমানের দায়িত্ব অবহেলা

গৌরীপুর প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
গৌরীপুর থানায় ডিউটি অফিসার এএসআই আরমানের দায়িত্ব অবহেলা

থানা হলো সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। কিন্তু ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানায় গেলে দেখা মেলে ভিন্ন এক চিত্রের। খোদ ডিউটি অফিসারের চেয়ারই খালি! জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি এএসআই আরমানকে। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে ‘দৈনিক জনবাণী’র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আনোয়ার হোসেনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে থানার এমন লেজেগোবরে দশা। বিষয়টি নিয়ে খোদ ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জানা যায়, বিকেল আনুমানিক ৫টা। একটি বিকাশ প্রতারক চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গৌরীপুর থানায় প্রবেশ করেন সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। কিন্তু থানার মূল প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘ডিউটি অফিসার’-এর ডেস্কে গিয়ে দেখা যায় সেটি জনশূন্য। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও দেখা মেলেনি দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই আরমানের। একজন সংবাদকর্মী তথ্য সংগ্রহে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হন, তবে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কী দশা হয়, তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।

থানার ভেতরে এমন দায়িত্ব অবহেলা দেখে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বিষয়টি সরাসরি মোবাইল ফোনে অবহিত করেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসানকে। পুলিশ সুপার বিষয়টি শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে ডিউটি চলাকালীন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, ডিউটি অফিসারে দায়িত্বে থেকে অবহেলা করলে পুলিশ আইনের ৭ ধারা এবং পিআরবি-এর ৮৮০ বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব অবহেলার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, পুলিশ জনগণের বন্ধু, এই স্লোগান যেন শুধু দেয়ালের লেখা হয়েই আছে। ডিউটি অফিসারের অনুপস্থিতিতে জিডি বা অভিযোগ দিতে আসা ভুক্তভোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে বাধ্য হন। এএসআই আরমানের এই দায়িত্ব অবহেলা কি ব্যক্তিগত ইচ্ছা নাকি থানার প্রশাসনের কোনো গাফিলতি, তা নিয়ে এখন এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সুপারের এই কঠোর বার্তায় গৌরীপুর থানার কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে যেন এই অনিয়মের অবসান ঘটে।

এবিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ডিউটি অফিসারের থানার বাহিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এবিষয়ে অনুসন্ধান সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রশীদ

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৫ পিএম
তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রশীদ

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে তারাকান্দা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য, অনন্তপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশীদ।

ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা। এই দিনে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাই একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।

তিনি আরও বলেন, ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো মানবতার কল্যাণে কাজ করা, সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ঈদের এই পবিত্র মুহূর্তে তিনি সকলকে ভেদাভেদ ভুলে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মোঃ আব্দুর রশীদ তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “আমি তারাকান্দা উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রিয় তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানাই। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন।”

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ঈদের আনন্দ সবার জীবনে বয়ে আনবে নতুন আশা ও সম্ভাবনা, আর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে।

সবাইকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা – ঈদ মোবারক।

মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

মাদকবিরোধী কার্যক্রমে এক কথিত মাদকসেবীর সম্পৃক্ততা ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া বাজার এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা দেওয়ার মতোই অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য ঘটনা।”

অভিযোগ রয়েছে, শান্ত (প্রায় ২৫), যিনি স্থানীয়ভাবে ওলামা লীগের একজন পদধারী নেতা হিসেবে পরিচিত, তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত। এলাকাবাসীর দাবি, নিজের ঘর ও মহল্লায় তিনি মাদকসেবী হিসেবেই বেশি পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মা আছমা খাতুন, এক প্রবীণ সাংবাদিক চাচা এবং প্রবাসী এক ফুফুর বিরুদ্ধেও একাধিকবার আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

এমন একজন ব্যক্তির মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এই কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে শান্ত মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

কিছু মহল এটিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, “এটি মূলত মাদকসংক্রান্ত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, একে সাংবাদিক নির্যাতন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না হলে এমন বিতর্ক ও অবিশ্বাস আরও বাড়বে।