শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

ফুফু রহিমার ষড়যন্ত্রে পিতৃপরিচয় থেকে বঞ্চিত স্কুল শিক্ষার্থী দ্বীনমনি

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৪ এম
ফুফু রহিমার ষড়যন্ত্রে পিতৃপরিচয় থেকে বঞ্চিত স্কুল শিক্ষার্থী দ্বীনমনি

অধিকার বঞ্চিত অনেক নারীরা তাদের সন্তানের পিতৃ- পরিচয়ের দাবীতে মানুষের দ্বারে-দ্বারে ঘুরেন এটা প্রায়ই দেখা যায়। তবে এবার সন্তান তার মায়ের অধিকার ও নিজের পিতৃ পরিচয় পেতে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। জনপ্রতিনিধি থেকে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের হাতে পায়ে ধরছেন শুধু বাবার পরিচয়টার জন্য। যেনো মানুষকে পরিচয় দিতে পারে। বাবার নামটা যেনো বলতে পারে। আর বাবার নামের জন্য স্কুলে লেখা পড়া, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয় পত্রসহ কোন কিছুতে সফল হতে পারছেনা ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের বালিদিয়া গ্রামের আক্কাছ আলী আদর্শ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী দ্বীন মনি নূর (১৭)।

নবম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় রেজিষ্ট্রেশনের সময় তার জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হলেও সেটা দিতে ব্যর্থ হয় দ্বিন মনি নূর। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মানবিকতায় রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম কোনভাবে সম্পন্ন করলেও সামনে এসএসসির ফরম পূরণ। সেখানে কি লিখবে পিতার স্থানে, ফরম পূরণ হবে কিনা তা নিয়েও সঙ্কায় রয়েছে দ্বীন মনি নূর। স্কুল শিক্ষিকা ফুফু রহিমার ষড়যন্ত্রে পিতৃপরিচয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তার।

দ্বীন মনি নূর জানায়, তার মাতা-মোছাঃ বকুল এর সাথে বালিদিয়া গ্রামের মোনতা মৌলভীর পুত্র আনোয়ার হোসেনের সাথে প্রায় ১৯ বছর পূর্বে প্রেম গঠিত সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয়ের পরিবারের অজান্তে (কাবিন রেজিষ্ট্রি ব্যাতিরেকে) ইসলামী শরিয়া মোতাবেক মৌলভী দ্বারা বিবাহ হয়। তাদের ঔরস জাত সন্তান হিসাবে তার জন্ম হয়। তার মাকে মৌলভী পরিবার পুত্র বধু হিসাবে মেনে না নেওয়ায় দ্বীন মনি তার জন্মের পর থেকে এতিমখানায় বড় হয়। যখন সে বুঝতে পারে, তখন জানতে পারে মায়ের গর্ভে থাকাবস্থায় তার মা বকুল দ্বীনমনির পিতৃ পরিচয় স্বীকৃতি দাবী করলে বাবা আনোয়ার সহ তার পরিবারের সবাই অস্বীকার করে। সে পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে এলাকার বিভিন্ন গন্যমান্য লোকজনের দ্বারস্থ হলেও তার ফুফু রহিমা খাতুন বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় এবং এর আগে মা বকুল সন্তানের পরিচয় চাওয়ায় তার বাবা আনোয়ার হোসেনকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় ফুফু রহিমা। যেন আমি পিতৃ পরিচয় ও মা স্বামীর অধিকার নিয়ে কখনো বাবার সামনে দাঁড়াতে না পারে।

দ্বীন মনি নূর আরো অভিযোগ করে বলে, বাবা বিদেশ থাকার কারণে আমি তার সাথে অদ্যাবধি পর্যন্ত যোগাযোগ করতে পারি নাই। আমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি আমার বাবার ফোন নাম্বারটিও আমাকে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে আমি স্থানীয় আক্কাছ আলী আদর্শ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। আমার এস.এস.সি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন, জন্মনিবন্ধন, ভোটার নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে পিতৃ পরিচয় আবশ্যকিয় বিধায় এসকল কাজ করতে পারছি না। এস.এস.সি পরীক্ষাসহ সামনের দিনগুলিতে আমার ভবিষ্যত জীবন অচল হয়ে পড়ার সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। পিতৃ পরিচয় ছাড়া আমাকে অনেকের কথা শুনতে হয়। সমাজ আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, বিভিন্ন কুটুক্তি করছে এমতাবস্থায় পিতৃ পরিচয় না পেলে সামনের দিনগুলিতে আমার জন্য বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল। তাই প্রশাসন ও মানবাধিকার পরিষদের কাছে আইনি সহায়তা চাইছেন দ্বীন মনি নূর।

দাবি করছেন তার নিজের ও মায়ের অধিকার। বর্তমানে দ্বীন মনি নূর নিজেকে অসহায় দাবি করে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান। সে তার মা’সহ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনের সহায়তা চাচ্ছেন।

দুই পরিচয়পত্র নিয়ে সন্দেহ, এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৭ এম
দুই পরিচয়পত্র নিয়ে সন্দেহ, এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ এলাকাবাসীর

ময়মনসিংহে সন্দেহজনক পরিচয়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তির কাছে থাকা দুটি পৃথক পরিচয়পত্র নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুযায়ী তার নাম জিহাদ হাসান রাব্বি। তবে অপর একটি পরিচয়পত্রে, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচয়পত্র বলে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে মো. আর্ক আহাম্মেদ নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচয়পত্র দুটির সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত পরিচয় উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে ওই ব্যক্তি ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বা উদ্ধার হওয়া পরিচয়পত্রের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

ময়মনসিংহে মারধরের শিকার তরুণী, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
ময়মনসিংহে মারধরের শিকার তরুণী, থানায় অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীর স্বদেশী বাজার এলাকায় এক তরুণীকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আসমা আক্তার (২০) কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে আসমা আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কোনো কাজ করতে পারছেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন। এ অবস্থায় ভাড়া-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার, কাজল, আঁখি ও বাবুর সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নগরীর রমেশ সেন রোডের ২ নম্বর গেট এলাকায় অভিযুক্তরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন। একপর্যায়ে নাসরিন আক্তার তার তলপেটে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

এ ছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পুনরায় তার ওপর হামলা চালায়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার বোন সুমিকেও মারধর করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত করলে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটিত হবে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁয় মিথ্যা মামলা দায়ের করে উল্টো কারাদণ্ড, জেলহাজতে বাদী

এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫২ এম
নওগাঁয় মিথ্যা মামলা দায়ের করে উল্টো কারাদণ্ড, জেলহাজতে বাদী

নওগাঁয় আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে নিজেই বিপাকে পড়েছেন শরিফুল ইসলাম ভুট্টু (৪৬) নামে এক ব্যক্তি। মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারায় উল্টো তাকেই কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নওগাঁর ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরান এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম ভুট্টু নওগাঁ সদর উপজেলার চকগোয়ালী গ্রামের মৃত আহাদ আলী সরদারের ছেলে।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম ভুট্টু একই গ্রামের চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩৪২, ৩২৩, ৩৭৯ এবং ৫০৬(২)/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা গ্রহণের পর আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন।

ডিবি পুলিশ সরেজমিন তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। এ সময় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরানের কাছে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে আদালত বাদীকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, মামলার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় (মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধ) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় শরিফুল ইসলাম ভুট্টু নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতের এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবী ও আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, এ আদেশের মাধ্যমে আদালতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। এটি বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।