ময়মনসিংহ নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ড অফিস স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ওয়ার্ডবাসীর অভিযোগ, প্রস্তাবিত স্থানটি অধিকাংশ মানুষের জন্য দূরবর্তী হওয়ায় নাগরিক সেবা গ্রহণে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
স্থানীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, Mymensingh City Corporation-এর ৩২ নম্বর ওয়ার্ড অফিসের জন্য নির্ধারিত বর্তমান স্থানটি ওয়ার্ডের অনেক বাসিন্দার জন্য সুবিধাজনক নয়। এতে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষকে নাগরিক সেবা গ্রহণের জন্য দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হতে পারে।
নাগরিকদের মতে, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও সাধারণ মানুষের জন্য এত দূরত্ব অতিক্রম করা কষ্টসাধ্য হবে। এতে সরকারের ঘোষিত নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মূল লক্ষ্যও ব্যাহত হতে পারে।
আবেদনকারীরা উল্লেখ করেছেন, Constitution of Bangladesh-এর অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) এবং অনুচ্ছেদ ৩১ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক সমানভাবে প্রশাসনিক সেবা পাওয়ার অধিকারী।
এছাড়া Local Government (City Corporation) Act, 2009 অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য, স্বচ্ছ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা।
সরকারের Digital Bangladesh ও Smart Bangladesh বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নাগরিক সেবা সহজলভ্য করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে Local Government Division এবং a2i Programme-এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
নাগরিকদের মতে, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডেও আধুনিক নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হলে মানুষ দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা পেতে পারবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়ার্ড অফিস স্থাপনের জন্য যে জমি নির্বাচন করা হয়েছে সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ে বা বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের মালিকানাধীন হতে পারে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এসব জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করলে ভবিষ্যতে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সচেতন নাগরিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ওয়ার্ডবাসীর দাবি, নাগরিকদের মতামত বিবেচনা করে অধিকাংশ মানুষের জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য চায়না মোড় এলাকায় ৩২ নম্বর ওয়ার্ড অফিস স্থাপন করা হলে হাজারো মানুষ উপকৃত হবে।
ওয়ার্ডবাসীর পক্ষে উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা বিপ্লব নিভ বলেন, “নাগরিকদের সুবিধা বিবেচনা করেই ওয়ার্ড অফিসের স্থান নির্ধারণ করা উচিত। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে এমন স্থানে অফিস স্থাপন করুক, যেখানে অধিকাংশ মানুষ সহজে সেবা নিতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।