শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

গফরগাঁওয়ে ২৫টি স্কুল ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৫৩ পিএম
গফরগাঁওয়ে ২৫টি স্কুল ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ

গফরগাঁও উপজেলায় নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণে ২৫টি স্কুল ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিত্যক্ত ২৫ বিদ্যালয় ভবন সংস্কারের নামে বরাদ্দ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। এসকল ভবন সংস্কার না করায় ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, গফরগাঁও উপজেলায় ২৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করছে। ভয় আর আতঙ্কের কারণে বিদ্যালয়গুলোয় দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

গফরগাঁও উপজেলার ভাতুরী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের দেয়াল ও বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভাতুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা ভবনটি ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ভবনটি। বিদ্যালয় ভবনের দেয়াল ও বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। বিমের রডগুলো বেরিয়ে পড়েছে। দরজা-জানালাও ভেঙে গেছে। জরাজীর্ণ ভবনটি যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিশুদের খোলা মাঠে ক্লাস করতে হচ্ছে। এই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইনা জানায়, স্কুলের ছাদ থেকে ইটের সুরকি খসে পড়ে। মাথায় সুরকি পড়ে অনেকেই ব্যথা পেয়েছে। এখন মাঠে ক্লাস করে তারা।

একই অবস্থা বারবাড়িয়া ইউনিয়নের পাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। একতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৩ সালে। নির্মাণকাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর পরও নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকায় কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্তমানে স্কুল ভবনের দেয়াল ও বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে।

শুধু এ দুই বিদ্যালয় নয়, গফরগাঁও উপজেলায় এ রকম জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত সরকারি স্কুল ভবন রয়েছে ২৫টি। এগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। শিক্ষকরা বলছেন, এক রকম জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ক্লাসে যেতে হয়। সব সময় উদ্বেগের মধ্যে থাকেন অভিভাবকরা। যত দিন যাচ্ছে, স্কুল থেকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

প্রতিবছর এসব পরিত্যক্ত ভবন সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মশাখালী ইউনিয়নের ভাতুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল হকের ভাষ্য, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা মাঠে। আকাশে মেঘ দেখলেই বাজাতে হয় ছুটির ঘণ্টা। অফিস কক্ষে বসে আতঙ্কে থাকেন তারা, কখন যেন ছাদ ধসে পড়ে?

একই কথা জানিয়েছেন বারবাড়িয়া ইউনিয়নের পাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক

হাজেরা আক্তার। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে আসার পর থেকেই আতন্কের মধ্যে থাকতে হয়। তবু পড়াশোনা চলছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও চিন্তিত।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূরে আলম ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু ভবন নতুন করে নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরিত্যক্ত ভবন সংস্কারের নামে বরাদ্দ লুটপাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তাছাড়া এর সঙ্গে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকরা জড়িত। আর বরাদ্দের ব্যাপারে বলতে পারবেন তৎকালীন কর্মকর্তারা।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গফরগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থোকে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে এসআই শাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মুক্তা, তামান্না ও রুনা নামের তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ শিবিরুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ এম
ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের একাংশে খাস হালট জমি দখল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দখল কার্যক্রমের ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা খাস জমি দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে করে খালটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। খালটি বালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি বহন করে পাশের ঢাকুয়া ইউনিয়নে পৌঁছে দেয়, যা পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাল ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পড়েছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল খালটি পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।

ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আকুয়া মড়লপাড়া এলাকায় এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বর্তমানে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা হাফিজুন নাহার তার স্বামী শফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আলীপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মাসুদ রানার সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গার্মেন্টস পণ্যের শিপমেন্ট ব্যবসায় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ৩ মে ও ৫ জুন দুই দফায় মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে মূল টাকা ও লভ্যাংশসহ মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন বলেও দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাওনা টাকা চাইতে ফোন করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একদিকে তারা অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে অভিযুক্তের হুমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কোতোয়ালী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।