মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ২০ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ২০ ১৪৩২

মিঠামইন সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার অনিয়মের অভিযোগে অপসারণ দাবি

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৪৮ পিএম
মিঠামইন সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার অনিয়মের অভিযোগে অপসারণ দাবি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার তমিজা খাতুন সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আবেদা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে অপসারণ দাবি করে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, তমিজা খাতুন সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আবেদা আক্তার জাহান আইন-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবেদা আক্তার তার স্বামী আব্দুল হক নুরু ও ভাসুর সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের হাত ধরে তার শাশুরির নামের এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রধান শিক্ষিকা আবেদা আক্তারের স্বামী আব্দুল হক নুরু হাওরের সম্রাট হিসেবে পরিচিত।সে এই বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ দখল করে রাখেন ২৫ বছর। ক্ষমতার দাপটে বিধি-^বিধান উপেক্ষা করে তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়টিকে আওয়ামী লীগের আস্তানা হিসেবে গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এলাকার জনসাধারনের নিজস্ব অর্থায়নে মিঠামইন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে তমিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে নামকরণ করা হয়। আবেদ আক্তার জাহান প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব নিয়ে তিনি মোটেও দায়িত্ব পালন করেননি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে ঢাকাতে বসবাস করে বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর পর দীর্ঘদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। এখন প্রধান শিক্ষিকা আবেদা আক্তার জাহান মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি প্রায় সময় নিষিদ্ধ লীগকে নিয়ে বিদ্যালয়ের ভিতরেই গোপন বৈঠক করছেন এমন অভিযোগ ও এনেছেন এলাকার বিশিষ্টজনেরা।

৭১ জনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে বিদ্যালয়েরর প্রধান শিক্ষিকা আবেদা আক্তার জাহান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে এখন পর্যন্ত অনিয়ম ভাবে বিদ্যালয়টি নিজের ইচ্ছামতই পরিচালনা করছেন এবং নিষিদ্ধ দলের গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তিনি ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে ও অভিযোগ রয়েছে।

অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধান শিক্ষিকার লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসী চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অপসারণ ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে গত ১৭ নভেম্বর ৭১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ শিক্ষা উপদেষ্টার বরাবরে দায়ের করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষিকা আবেদা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অভিযোগের কোন কিছুই সত্য না। ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর যানবাহন শাখায় দুর্নীতির রাজত্ব: লাইসেন্সবিহীন চালকে চলছে সরকারি গাড়ি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৪ এম
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর যানবাহন শাখায় দুর্নীতির রাজত্ব: লাইসেন্সবিহীন চালকে চলছে সরকারি গাড়ি

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন শাখায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা ও ড্রাইভারের যোগসাজশে বরাদ্দকৃত গাড়ি একাধিক ব্যক্তি দিয়ে চালানো, বহিরাগত ও লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে সরকারি যানবাহন পরিচালনা এবং মাসিক ভাতার ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এতে সরকারি সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, যান্ত্রিক প্রকৌশলী নির্বাহী (শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) শফি কামালের নির্দেশে বহিরাগত চালকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে সরকারি গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে অফিসের নিয়মিত নিয়োগপ্রাপ্ত চালকেরা অনেক সময় বসে থাকলেও বাইরে থেকে আনা ব্যক্তিরা মৌখিক নির্দেশে গাড়ি পরিচালনা করেন।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন: যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে দায়ভার কে নেবে? মৌখিক নির্দেশে বহিরাগত ও অননুমোদিত চালকদের দিয়ে গাড়ি চালানো আইনগতভাবেও গুরুতর অপরাধ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ড্রাইভার সিদ্দিকের নামে দুটি গাড়ি বরাদ্দ থাকলেও তিনি দিনে ও রাতে পৃথকভাবে দুটি গাড়ি পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, একটি গাড়ি দিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া এবং অন্যটি দিয়ে রাস্তায় পানি ছিটানোর কাজ করা হয়। অভিযোগকারীদের মতে, একই ব্যক্তির নামে দুটি গাড়ি বরাদ্দ ও পরিচালনা প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী এবং এতে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ড্রাইভার রাজার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ। তার নামে দুটি গাড়ি বরাদ্দ এবং দুটি মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ড্রাইভারদের তুলনায় তার বেতন বেশি এবং তিনি মাস্টাররোলভুক্ত হিসেবেও অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ড্রাইভার খালেকের নামে বরাদ্দকৃত ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক বাস্তবে চালান ফারুক নামে আরেক ব্যক্তি, যার কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা চাকরির কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ভারী যানবাহন পরিচালনা জননিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোলার চালক বারেকের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শফি কামালের নির্দেশে বোম এক্সাভেটর (২) ও রোলার নিজে এবং তার ভাতিজা বিল্লালকে দিয়ে পরিচালনা করছেন। বিল্লালের সিটি কর্পোরেশনে কোনো চাকরি নেই এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

জানা যায়, ময়লাকান্দা এলাকায় বোম এক্সাভেটর (২) গত দুই বছর ধরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পরিচালিত হচ্ছে, অথচ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত চালকেরা বসে থাকেন। বর্তমানে আরও একটি ড্রোজারও বারেক নিজে পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বহিরাগত চালকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে তাদের দিয়ে সরকারি গাড়ি চালানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্বহীন হয়ে পড়ছেন, অন্যদিকে সরকারি অর্থ ও সম্পদের অপব্যবহার হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি যানবাহন পরিচালনায় সঠিক নথিপত্র, বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় দুর্ঘটনা ঘটলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে এবং ক্ষতিপূরণ বা দায়ভার নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং সরকারি যানবাহন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

এ বিষয়ে যান্ত্রিক প্রকৌশলী নির্বাহী শফি কামাল মঠো ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বৃত্তিহীন। তবে মাস্টার রোলে তারা কাজ করছে। তিনি দায় শিকার এরিয়ে যান।

ময়মনসিংহের চাঁদাবাজ দুকুল এখন কার কূলে?

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
ময়মনসিংহের চাঁদাবাজ দুকুল এখন কার কূলে?

ময়মনসিংহ–ত্রিশাল সড়কে সিএনজি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদাবাজির অভিযোগে দেবব্রত দাস দুকুলসহ তিন জনের নামে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নম্বর: ৪৪।

চাঁদাবাজি মামলা রুজু হওয়ার পরেও দুকুলকে গ্রেফতারে নেই পুলিশের কোন তৎপরতা। প্রশ্ন উঠেছে, চাঁদাবাজ দুকুল এখন কার কূলে? কোন অদৃশ্য শক্তির বলয়ে দুকূলকে গ্রেফতার করেছে না পুলিশ?

এবিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।

ময়মনসিংহে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ, পাঁচ পুলিশসহ আহত অন্তত ১৫

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
ময়মনসিংহে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ, পাঁচ পুলিশসহ আহত অন্তত ১৫

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে মুক্তাগাছা শহরের আটানী বাজারের ছোট মসজিদ মোড়ে ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এরই জেরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র‍্যাব সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।