শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শতকোটি টাকার সরকারি জমি সাড়ে ৫ লাখ টাকায় হাতবদল

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ৩:২১ পিএম
শতকোটি টাকার সরকারি জমি সাড়ে ৫ লাখ টাকায় হাতবদল

ময়মনসিংহ নগরীর প্রাণকেন্দ্রে পাটগুদাম এলাকায় অবস্থিত শতকোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি অবৈধভাবে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে সরকারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত জমিটির মালিকানা দাবি করে একটি সংঘবদ্ধচক্র জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দলিল ও রেকর্ড অনুযায়ী, ময়মনসিংহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এই জমিটি ছিল রেবতী মোহন দাস নামক এক ব্যক্তির নামে। ১৯৬৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দলিল নং ১০৭ অনুযায়ী, জমিটি হস্তান্তর করা হয় আদমজী জুট মিলস লিমিটেডের নামে। এরপর ১৯৬৪ সালে নামজারি সম্পন্ন হয় এবং সরকারিভাবে খারিজ খতিয়ান প্রস্তুত হয়।

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) জানায়, জমির দলিলটি করাচি জেলার রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত আছে এবং এটি বৈধভাবে সরকারি মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত। মিল বন্ধ হওয়ার পর জমিটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও বিআরএস জরিপে এটিকে সরকারি খতিয়ান নং ১/১-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রায় ৬ দশক পর, ২০২২ সালে, রেবতী মোহন দাসের ছেলে পরিচয়ে রবীন্দ্র মোহন দাস জমির মালিকানা দাবি করে জেলা প্রশাসক ও বিজেএমসির বিরুদ্ধে মামলা (নং ৫১৪/২২) দায়ের করেন। আদালত চলতি বছরের ৮ মে মামলাটি খারিজ করে দেন।

কিন্তু আদালতের রায় হওয়ার আগেই, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, রবীন্দ্র মোহন দাস মিরাশ উদ্দিন সুমনকে আমমোক্তারনামা প্রদান করেন। পরে সেই আমমোক্তারনামার ভিত্তিতে মামলাটি নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য হয়েছে ২৮ আগস্ট ২০২৫।

এই মামলার শুনানি চলাকালীন, ২০২৫ সালের ৬ জুন, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও জমিটির ৮৪ শতক মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির দলিল সম্পাদন করা হয়। দলিলে দাতা হিসেবে রবীন্দ্র মোহন দাসের নাম ব্যবহার করা হয় এবং তার পক্ষে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সহকারী জজ পবন চন্দ্র বর্মণ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জমিটির প্রকৃত বাজারমূল্য ১০০ কোটির বেশি। অথচ আদালতের আদেশ দেখিয়ে অস্বাভাবিক কম দামে জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, আদালতপাড়া এবং সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ভূমি বিশারদ মজিবুর রহমান মিন্টু বলেন, সরকারি খতিয়ানে নাম থাকা জমি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানায় রেজিস্ট্রি হয়? এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্বহীনতা চোখে পড়ে।

জেলা জজ আদালতের এক বেঞ্চ সহকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আইনের ফাঁক এভাবে রাষ্ট্রীয় জমি বেহাত করছে। উত্তরাধিকারীর নামে মামলা, তারপর আমমোক্তারনামা, এরপর আদালতের আদেশের নামে রেজিস্ট্রি—সবই সাজানো ছক।

সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাহান কবির সাজু বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষায় অবিলম্বে দলিল বাতিল ও দোষীদের শাস্তির উদ্যোগ নিতে হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। ত্রুটি প্রমাণিত হলে দলিল বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার জাহিদ হাসান বলেন, আমরা আদালতের আদেশ পেয়েছি, যেখানে সিনিয়র সহকারী জজ পবন চন্দ্র বর্মণ জমি রেজিস্ট্রির নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশ থাকলে মৌজা রেট অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকে না।

অন্যদিকে, মামলার আমমোক্তার মিরাশ উদ্দিন সুমন ফোনে ব্যস্ততার অজুহাতে মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

জুট মিলস করপোরেশনের মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. নাসিমুল ইসলাম বলেন, জমিটি আমাদের কর্পোরেশনের। জালিয়াতির বিষয়টি আমরা জানি। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা আলোচনা করছি।

এদিকে সরকারি খতিয়ানভুক্ত জমি, ৫ লাখ টাকায় হাতবদলের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভেতরে-বাহিরে। প্রশাসন, আদালত ও ভূমি অফিসের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই মন্তব্য করেন বিশিষ্টজনেরা।

‎ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
‎ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৫

‎ময়মনসিংহে ডিজিএফআই, ওয়ারেন্ট অফিসার, ডিবি পুলিশের এসআই, পুলিশ কর্মকর্তা ও যৌথবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

‎শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলাকালে তাদের আটক করা হয়। কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

‎পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও প্রাথমিকভাবে অভিযোগ ওঠে।

‎বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। পরে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের ব্যবহৃত পরিচয়, কথিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ের সত্যতা এবং ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাই করছে পুলিশ।

‎পুলিশ সূত্র জানায়, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের ডিজিএফআই, ওয়ারেন্ট অফিসার, ডিবি পুলিশের এসআই, পুলিশ কর্মকর্তা ও যৌথবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে এসেছে। তবে তারা সত্যিই কোনো বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, নাকি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছিলেন তা যাচাই করা হচ্ছে।

‎এ ছাড়া ওই ব্যক্তিকে কেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, এর পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কার কী ভূমিকা ছিল, সেসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।

‎পুলিশ আরও জানায়, আটকদের প্রকৃত পরিচয়, পারস্পরিক সম্পর্ক, ব্যবহৃত পরিচয়ের সত্যতা এবং কথিত অপহরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সরঞ্জাম বা আলামত উদ্ধার হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।

‎কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাটি শনাক্ত করে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

‎পুলিশ সূত্র আরও জানায়, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

‎আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি দেখানো, জোরপূর্বক তুলে নেওয়া বা অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করা হলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অষ্টগ্রামে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ নিয়ে মতবিনিময়

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
অষ্টগ্রামে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ নিয়ে মতবিনিময়

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হাওরাঞ্চলের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়ন ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় হাওরাঞ্চলে ভাসমান নৌ-পাঠাগার স্থাপন, স্থানীয় পর্যায়ে পাঠক তৈরি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে বই ও তথ্য-জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অষ্টগ্রাম জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহযোগিতা এবং সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বর্মনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপপরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন সরকার। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোবারক হোসেন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপগ্রন্থাগারিক রাসেল রানা, অষ্টগ্রামের স্বপ্নীল গণগ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, মিঠামইনের হাওর পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ওমর ফারুকসহ অন্যরা।

সভায় বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রন্থাগারগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্গম হাওর এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে বই ও তথ্য-জ্ঞান পৌঁছে দিতে ভাসমান নৌ-পাঠাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

হাওরাঞ্চলের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাঠক তৈরির উদ্যোগ, বই পড়ার সংস্কৃতি বিস্তৃত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।

মিঠামইনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
মিঠামইনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে আঘাত ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরদিন বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় তারা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ নিয়ে আলোচনা হলেও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক আঘাত বন্ধ করা, বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

তবে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিদ্যালয়ের পাশের ব্রিজে গিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। তখন তিনি তাদের ‘শুধু শাসন করেছেন’।

বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।