শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ ১৪৩২
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ ১৪৩২

পরিবর্তন: হরিজন পল্লীর জীবনে স্বাবলম্বিতার নতুন ঠিকানা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫, ২:১১ পিএম
পরিবর্তন: হরিজন পল্লীর জীবনে স্বাবলম্বিতার নতুন ঠিকানা

দীর্ঘদিন ধরেই সমাজের একটি অংশ থেকে গেছে সমাজের মূল স্রোতের বাইরে—অবহেলিত, উপেক্ষিত ও বঞ্চিত। এই সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ হলো হরিজন সম্প্রদায়।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবেই যাদের আমরা চিনি, তারা প্রতিদিন শহরের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে রাখে পরিচ্ছন্নতা, কিন্তু নিজেদের জীবন জড়িয়ে থাকে অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সুযোগের অভাবে। এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনার চক্র থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে জন্ম নেয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক উদ্যোগ—“পরিবর্তন”।

‘পরিবর্তন’ মানেই সমাজে ইতিবাচক গতিশীলতা আনা

‘পরিবর্তন’ হলো একটি যুব-নেতৃত্বাধীন সামাজিক উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য হলো হরিজন সম্প্রদায়ের কর্মক্ষম সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা। এই প্রকল্প শুধুমাত্র দান বা সাহায্যের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং আত্মসম্মান ও অধিকারকে ভিত্তি করে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরি করতে চায়।

প্রকল্পের সূচনা হয় চাইল্ড কেয়ার ও এল্ডার কেয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে। হরিজন সম্প্রদায়ের কর্মক্ষম নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কীভাবে শিশু ও প্রবীণদের যত্ন নেওয়া যায় নিরাপদ, মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে। এর ফলে তারা শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মী নয়, বরং একজন প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভার হিসেবে বিভিন্ন পরিবারে কাজ করার সুযোগ পায়। আজ বীণা, কানু, রতনরা কেয়ারগিভার হিসেবে কাজ করছে, অর্থ উপার্জন করছে, এবং তাদের সন্তানদের একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

হস্তশিল্প: তাদের হাতে ছিল প্রতিভা, প্রয়োজন ছিল একটি প্ল্যাটফর্ম

প্রকল্পটি যখন আরও গভীরভাবে সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করতে শুরু করে, তখন তারা একটি বড় সত্য আবিষ্কার করে—এই মানুষগুলোর হাতে রয়েছে অসাধারণ হস্তশিল্প দক্ষতা। কেউ কাঠের কাজ জানেন, কেউ জানেন পাট দিয়ে গৃহসজ্জার সামগ্রী বানানো, কেউ দক্ষ কাপড়ের ব্যাগ বানাতে, আবার কেউ অসাধারণ নকশার কাজ জানেন। এই সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই হয়ে ওঠে ‘পরিবর্তন’-এর পরবর্তী লক্ষ্য।

‘পরিবর্তন’ একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যেখানে এই পণ্যগুলো প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হয়। শহরের ক্রেতারা এখন পছন্দ করে হরিজনদের তৈরি ব্যাগ, মেডিসিন বক্স, ম্যাট, শোপিস, কাঠের ফ্রেম। প্রতিটি পণ্যে লুকিয়ে থাকে তাদের সংগ্রামের গল্প, বাঁচার তাগিদ আর শিল্পমানস।

শিল্পী নয়, তারা পরিবর্তনের কারিগর

আজ গোপাল ও হরিদাস পাট দিয়ে তৈরি করছে শাড়ি ও গামছা, নির্মল ও নীলকমল কাঠের ফ্রেম, শোপিস, মেডিসিন বক্স তৈরি করছে, কমলা, ফুলবাসী ও রেবা কাপড়ের ব্যাগ ও নকশার কাজ করছে। একসময় যাদের জীবনে উৎসব মানেই ছিলো আরও একটি সাধারণ দিন, তারা এখন নিজেদের উপার্জনে পরিবারের ঈদ, পূজা বা নতুন বছর উদযাপন করছে সম্মানের সঙ্গে।

অভিযাত্রার অংশীদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

‘পরিবর্তন’ আজ শুধু একটি প্রজেক্ট নয়, এটি একটি আন্দোলন—স্বাবলম্বিতার, সম্মানের, অধিকার প্রতিষ্ঠার। বর্তমানে এই প্রকল্পে রয়েছে একাধিক সংগঠনের সহযোগিতা—Spare প্রশিক্ষণ সহযোগী হিসেবে, Page Lasa হসপিটালিটি সহযোগী হিসেবে এবং The New Matribhandar লজিস্টিক পার্টনার হিসেবে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠাতারা মনে করেন, প্রকৃত পরিবর্তন আসে নিচু তলা থেকে—যখন একজন মা নিজের উপার্জনে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে, কিংবা একজন বাবা নিজের তৈরি পণ্য দেখে গর্ব অনুভব করে। এই প্রকল্প শুধু সহানুভূতির নয়, এটি সমানাধিকারের ভিত্তিতে একটি টেকসই সমাজ গঠনের চেষ্টা।

শেষ কথা

‘পরিবর্তন’ প্রমাণ করেছে যে সুযোগ দিলে, প্রতিটি মানুষই তাদের জীবনের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। সমাজের অবহেলিত কোনা থেকে উঠে আসা এই মানুষগুলোর সাফল্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পরিবর্তন মানেই সম্ভাবনা। আজ তাদের গল্প শুধু অনুপ্রেরণার নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের এক অনবদ্য নজির।

গৌরীপুর থানায় ডিউটি অফিসার এএসআই আরমানের দায়িত্ব অবহেলা

গৌরীপুর প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
গৌরীপুর থানায় ডিউটি অফিসার এএসআই আরমানের দায়িত্ব অবহেলা

থানা হলো সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। কিন্তু ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানায় গেলে দেখা মেলে ভিন্ন এক চিত্রের। খোদ ডিউটি অফিসারের চেয়ারই খালি! জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি এএসআই আরমানকে। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে ‘দৈনিক জনবাণী’র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আনোয়ার হোসেনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে থানার এমন লেজেগোবরে দশা। বিষয়টি নিয়ে খোদ ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জানা যায়, বিকেল আনুমানিক ৫টা। একটি বিকাশ প্রতারক চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গৌরীপুর থানায় প্রবেশ করেন সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। কিন্তু থানার মূল প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘ডিউটি অফিসার’-এর ডেস্কে গিয়ে দেখা যায় সেটি জনশূন্য। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও দেখা মেলেনি দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই আরমানের। একজন সংবাদকর্মী তথ্য সংগ্রহে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হন, তবে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কী দশা হয়, তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।

থানার ভেতরে এমন দায়িত্ব অবহেলা দেখে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বিষয়টি সরাসরি মোবাইল ফোনে অবহিত করেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসানকে। পুলিশ সুপার বিষয়টি শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে ডিউটি চলাকালীন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, ডিউটি অফিসারে দায়িত্বে থেকে অবহেলা করলে পুলিশ আইনের ৭ ধারা এবং পিআরবি-এর ৮৮০ বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব অবহেলার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, পুলিশ জনগণের বন্ধু, এই স্লোগান যেন শুধু দেয়ালের লেখা হয়েই আছে। ডিউটি অফিসারের অনুপস্থিতিতে জিডি বা অভিযোগ দিতে আসা ভুক্তভোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে বাধ্য হন। এএসআই আরমানের এই দায়িত্ব অবহেলা কি ব্যক্তিগত ইচ্ছা নাকি থানার প্রশাসনের কোনো গাফিলতি, তা নিয়ে এখন এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সুপারের এই কঠোর বার্তায় গৌরীপুর থানার কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে যেন এই অনিয়মের অবসান ঘটে।

এবিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ডিউটি অফিসারের থানার বাহিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এবিষয়ে অনুসন্ধান সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রশীদ

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৫ পিএম
তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রশীদ

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে তারাকান্দা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য, অনন্তপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশীদ।

ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা। এই দিনে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাই একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।

তিনি আরও বলেন, ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো মানবতার কল্যাণে কাজ করা, সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ঈদের এই পবিত্র মুহূর্তে তিনি সকলকে ভেদাভেদ ভুলে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মোঃ আব্দুর রশীদ তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “আমি তারাকান্দা উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রিয় তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানাই। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন।”

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ঈদের আনন্দ সবার জীবনে বয়ে আনবে নতুন আশা ও সম্ভাবনা, আর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে।

সবাইকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা – ঈদ মোবারক।

মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

মাদকবিরোধী কার্যক্রমে এক কথিত মাদকসেবীর সম্পৃক্ততা ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া বাজার এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা দেওয়ার মতোই অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য ঘটনা।”

অভিযোগ রয়েছে, শান্ত (প্রায় ২৫), যিনি স্থানীয়ভাবে ওলামা লীগের একজন পদধারী নেতা হিসেবে পরিচিত, তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত। এলাকাবাসীর দাবি, নিজের ঘর ও মহল্লায় তিনি মাদকসেবী হিসেবেই বেশি পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মা আছমা খাতুন, এক প্রবীণ সাংবাদিক চাচা এবং প্রবাসী এক ফুফুর বিরুদ্ধেও একাধিকবার আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

এমন একজন ব্যক্তির মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এই কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে শান্ত মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

কিছু মহল এটিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, “এটি মূলত মাদকসংক্রান্ত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, একে সাংবাদিক নির্যাতন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না হলে এমন বিতর্ক ও অবিশ্বাস আরও বাড়বে।