শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ ১৪৩২
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ ১৪৩২

পরিবর্তন: হরিজন পল্লীর জীবনে স্বাবলম্বিতার নতুন ঠিকানা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫, ২:১১ পিএম
পরিবর্তন: হরিজন পল্লীর জীবনে স্বাবলম্বিতার নতুন ঠিকানা

দীর্ঘদিন ধরেই সমাজের একটি অংশ থেকে গেছে সমাজের মূল স্রোতের বাইরে—অবহেলিত, উপেক্ষিত ও বঞ্চিত। এই সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ হলো হরিজন সম্প্রদায়।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবেই যাদের আমরা চিনি, তারা প্রতিদিন শহরের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে রাখে পরিচ্ছন্নতা, কিন্তু নিজেদের জীবন জড়িয়ে থাকে অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সুযোগের অভাবে। এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনার চক্র থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে জন্ম নেয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক উদ্যোগ—“পরিবর্তন”।

‘পরিবর্তন’ মানেই সমাজে ইতিবাচক গতিশীলতা আনা

‘পরিবর্তন’ হলো একটি যুব-নেতৃত্বাধীন সামাজিক উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য হলো হরিজন সম্প্রদায়ের কর্মক্ষম সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা। এই প্রকল্প শুধুমাত্র দান বা সাহায্যের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং আত্মসম্মান ও অধিকারকে ভিত্তি করে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরি করতে চায়।

প্রকল্পের সূচনা হয় চাইল্ড কেয়ার ও এল্ডার কেয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে। হরিজন সম্প্রদায়ের কর্মক্ষম নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কীভাবে শিশু ও প্রবীণদের যত্ন নেওয়া যায় নিরাপদ, মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে। এর ফলে তারা শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মী নয়, বরং একজন প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভার হিসেবে বিভিন্ন পরিবারে কাজ করার সুযোগ পায়। আজ বীণা, কানু, রতনরা কেয়ারগিভার হিসেবে কাজ করছে, অর্থ উপার্জন করছে, এবং তাদের সন্তানদের একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

হস্তশিল্প: তাদের হাতে ছিল প্রতিভা, প্রয়োজন ছিল একটি প্ল্যাটফর্ম

প্রকল্পটি যখন আরও গভীরভাবে সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করতে শুরু করে, তখন তারা একটি বড় সত্য আবিষ্কার করে—এই মানুষগুলোর হাতে রয়েছে অসাধারণ হস্তশিল্প দক্ষতা। কেউ কাঠের কাজ জানেন, কেউ জানেন পাট দিয়ে গৃহসজ্জার সামগ্রী বানানো, কেউ দক্ষ কাপড়ের ব্যাগ বানাতে, আবার কেউ অসাধারণ নকশার কাজ জানেন। এই সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই হয়ে ওঠে ‘পরিবর্তন’-এর পরবর্তী লক্ষ্য।

‘পরিবর্তন’ একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যেখানে এই পণ্যগুলো প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হয়। শহরের ক্রেতারা এখন পছন্দ করে হরিজনদের তৈরি ব্যাগ, মেডিসিন বক্স, ম্যাট, শোপিস, কাঠের ফ্রেম। প্রতিটি পণ্যে লুকিয়ে থাকে তাদের সংগ্রামের গল্প, বাঁচার তাগিদ আর শিল্পমানস।

শিল্পী নয়, তারা পরিবর্তনের কারিগর

আজ গোপাল ও হরিদাস পাট দিয়ে তৈরি করছে শাড়ি ও গামছা, নির্মল ও নীলকমল কাঠের ফ্রেম, শোপিস, মেডিসিন বক্স তৈরি করছে, কমলা, ফুলবাসী ও রেবা কাপড়ের ব্যাগ ও নকশার কাজ করছে। একসময় যাদের জীবনে উৎসব মানেই ছিলো আরও একটি সাধারণ দিন, তারা এখন নিজেদের উপার্জনে পরিবারের ঈদ, পূজা বা নতুন বছর উদযাপন করছে সম্মানের সঙ্গে।

অভিযাত্রার অংশীদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

‘পরিবর্তন’ আজ শুধু একটি প্রজেক্ট নয়, এটি একটি আন্দোলন—স্বাবলম্বিতার, সম্মানের, অধিকার প্রতিষ্ঠার। বর্তমানে এই প্রকল্পে রয়েছে একাধিক সংগঠনের সহযোগিতা—Spare প্রশিক্ষণ সহযোগী হিসেবে, Page Lasa হসপিটালিটি সহযোগী হিসেবে এবং The New Matribhandar লজিস্টিক পার্টনার হিসেবে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠাতারা মনে করেন, প্রকৃত পরিবর্তন আসে নিচু তলা থেকে—যখন একজন মা নিজের উপার্জনে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে, কিংবা একজন বাবা নিজের তৈরি পণ্য দেখে গর্ব অনুভব করে। এই প্রকল্প শুধু সহানুভূতির নয়, এটি সমানাধিকারের ভিত্তিতে একটি টেকসই সমাজ গঠনের চেষ্টা।

শেষ কথা

‘পরিবর্তন’ প্রমাণ করেছে যে সুযোগ দিলে, প্রতিটি মানুষই তাদের জীবনের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। সমাজের অবহেলিত কোনা থেকে উঠে আসা এই মানুষগুলোর সাফল্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পরিবর্তন মানেই সম্ভাবনা। আজ তাদের গল্প শুধু অনুপ্রেরণার নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের এক অনবদ্য নজির।

ময়মনসিংহে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত: থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত: থানায় মামলা

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বেগুনবাড়ী এলাকায় বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুছ (৬৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অটোরিকশায় থাকা আরও দুই যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ–টাঙ্গাইল মহাসড়কের ৯নং খাগডহর ইউনিয়নের ৩নং মাইজবাড়ী ওয়ার্ডের বেগুনবাড়ী এলাকায় হারটি রাস্তার মোড়ে।

নিহত আব্দুল কদ্দুছ দেওখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দুইজন যাত্রী নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-২০৬৫) বেপরোয়া গতিতে এসে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুছ মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের মৃত্যুসনদে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা (RTA) উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত অপর দুই যাত্রী হলেন, তৌহিদ (৩৮) ও নজরুল মিয়া (৬০)। তাদের মধ্যে তৌহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদের তৌহিদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন এবং নজরুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মমেক হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে।

ঘটনার পর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মর্জিনা (৫৮) কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, বাসটির অজ্ঞাতনামা চালক বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে তার স্বামীর অটোরিকশায় ধাক্কা দিয়ে মৃত্যু ঘটিয়েছে।

পুলিশ জানায়, বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, সিএনজি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, সিএনজি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ আরিফ হাসান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানাধীন মাইজহাটি এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ বাদল মিয়া (৩৯) কে গ্রেফতার করেন। অভিযানের সময় সিএনজিটির পিছনের ইঞ্জিনের ডালার উপর বিশেষভাবে তৈরিকৃত একটি বাক্সের ভেতর থেকে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত বাদল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানার চিনাইর (পূর্বপাড়া চৌধুরীবাড়ী) এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

অপরদিকে, একই দিন বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ মুকিত হাসান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী দেওয়ান মোহাম্মদ আলী (৫৪) কে গ্রেফতার করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কেরাব দেওয়ান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধেও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

উদ্ধারকৃত ৮ কেজি গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে গফরগাঁও ও কোতোয়ালী মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল। এদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের এমন তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ: আহত-১০

নিজস্ব প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৭ এম
বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ: আহত-১০

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা-১০ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলীয় বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় গফরগাঁও পৌর শহরের ইসলামিয়া স্কুলের সামনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

আহতদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সোহাগ, রবিন, জসিম, মোঃ ফরহাদ, দেলোয়ার হোসেন, মহসিন, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ আরও অনেক নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকেরা ধানেরশীষ প্রতিকের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে ঘটনাস্থল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একই সময় দলীয় বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহ ওই এলাকায় প্রবেশ করলে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় অতপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও ছাত্রদলের অফিসে অগ্নিসংযোগ করাসহ আরো কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়েছে। এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়ে বলেনএই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “প্রতীক পাওয়ার পর আমার সমর্থকেরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছে। আমি নিজে গাড়িতে ছিলাম। আমরা কোনো হামলায় জড়িত নই।

এ ঘটনায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে দলীয় অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তিনি শিল্প ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলার আসামি হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পাননি। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে দুদকের মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “মামলা রাজনৈতিক বাস্তবতায় হতেই পারে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার।

এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।