শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির লালিত জুয়েলের যৌন হয়রানির শিকার এক শিক্ষার্থী

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫, ৪:৪২ পিএম
মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির লালিত জুয়েলের যৌন হয়রানির শিকার এক শিক্ষার্থী

সারাদেশে শিক্ষা অঙ্গনে শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি বন্ধের দাবিতে উত্তাল, ঠিক সেই মুহুর্তে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েলের যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা পায়নি একই কলেজের এক শিক্ষার্থী।

এমন কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং দ্বায়িত্বশীল শিক্ষক মণ্ডলীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষে ও ম্যানেজিং কমিটির লালিত ঐ ডেমোনেস্ট্রেটর বহু নারী কেলেংকারী মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান জুয়েল রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

সুত্র জানায়, যে কোন সময় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল সহ হামলার আশংকা রয়েছে।

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ জানান, কলেজটি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুয়াকাটায় বার্ষিক বনভোজন বা পিকনিকের আয়োজন করা হয়। ঐ বনভোজনে অত্র কলেজের ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েল কর্তৃক একই কলেজের এক ছাত্রী যৌন হয়রানি শিকার হন।

পরবর্তীতে ঐ ছাত্রী কলেজ অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগে সন্তোষজনক বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কলেজটির ম্যানেজিং কমিটির দ্বায়িত্বে থাকা মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর দ্বারস্থ হয়ে বিচার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, যৌন হয়রানির শিকার শিক্ষার্থী মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েলকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাকে শাসানো হয়েছে। এই প্রতিবেদক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে প্রশ্ন করেন যৌন হয়রানির বিচার কি শুধু শাসানো? তখন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজেকে মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, যৌন হয়রানির শিকার ঐ ছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে নমনীয়তা দেখানো হয়েছে।

এবিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি । অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জেনেছি, ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েল ঐ ছাত্রীকে পা দিয়ে স্পর্শ করেন। এবিষয়ে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন ? প্রতিবেদক এমন প্রশ্ন করলে তিনি কথা শেষ না করেই ফোন কেটে দেন।

ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েল সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, জুয়েল ইতিমধ্যে বহু নারী কেলেংকারীর পাশাপাশি ৩টি বিয়ে করেছেন। জুয়েলের বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী’গন বিভিন্ন সময় মুক্তাগাছার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে বিচার প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জুয়েলকে নির্বিত্ত করতে না পারায় তার স্ত্রী বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিচার প্রার্থী হয়েছে।

নারী লোভী দুশ্চরিত্র মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েলের এমন তৎপরতা বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সামাজিক এবং শিক্ষা-অঙ্গনের ভাবমূর্তি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে জানাযায়, শুধু নারী কেলেংকারীতেই সীমাবদ্ধ নয় তিনি। মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত শেখ মুহাম্মাদ আক্তারুজ্জামান জুয়েল অসংখ্য মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নিকটাত্মীয়সহ এলাকার প্রায় অর্ধশত পরিবারকে হয়রানি করছে।

অভিযোগ রয়েছে, একজন কম্পিউটার ডেমোনেস্টেটর পদে চাকুরী করলেও মামলার এজাহারে নিজেকে প্রভাষক দাবী করেছেন।

আরো জানাযায়, স্বায়ত্তশাসিত মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ে বছরে ২০দিন ছুটির নিয়ম থাকলেও এতসব মামলার হাজিরা নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘ দিনের। ৫ আগস্টের আগে এসকল তথ্যের জন্য অধ্যক্ষ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র, মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিল্লাল হোসেন সরকারের কাছে গেলে সাংবাদিকদের কোন তথ্য প্রদান করেননি। বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপন করে তাদের লালিত কম্পিউটার ডিমোনেস্টটরকে রেখেছেন বহাল তবিয়তে।

এবিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তিন বলেন, আক্তারুজ্জামান জুয়েল প্রভাষক না, সে যদি এ পরিচয় কোথাও ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আমার কি করার আছে। তবে তাকে প্রভাষক পরিচয় দিতে মৌখিকভাবে না করে দিয়েছি। আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমার ক্ষমতা অর্ধেক, তাই আমি চাইলে সব কিছুর ব্যবস্থা নিতে পারিনা বলে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহে দম্পতির সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ: গালিগালাজ থেকে হত্যার হুমকি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১৩ পিএম
ময়মনসিংহে দম্পতির সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ: গালিগালাজ থেকে হত্যার হুমকি

ময়মনসিংহ শহরের ৮নং ওয়ার্ডের রমেশ সেন রোড, ঠাকুরবাড়ী এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত শফিকুল ও তার স্ত্রী শিল্পীর দীর্ঘদিনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। তাদের লাগাতার ভয়ভীতি, গালিগালাজ, হামলা ও হুমকির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে ঘটেছে বড় ধরনের হামলার ঘটনা। লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী মোছাঃ শিল্পী আক্তার (৩০) উল্লেখ করেন, বিবাদী শফিকুল (৩০) ও তার স্ত্রী শিল্পী (২৫) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রমেশ সেন রোডের ঠাকুরবাড়ী এলাকায় এসে তাকে অকারণে গালিগালাজ করতে থাকে। গালিগালাজ বন্ধ করতে বললে ১নং বিবাদী শফিকুল তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ধাওয়া করে।

তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো—ঘটনার পর বিবাদীরা পুনরায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয় যে, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বা থানায় অভিযোগ করলে তারা সুযোগ পেলে তাকে হত্যা করে গুম করবে এবং উল্টো তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে।

অভিযোগকারী শিল্পী আক্তার জানান, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে ঝগড়া, মারধর, হুমকি এবং বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছে। বর্তমানে তিনি গুরুতর সামাজিক ও শারীরিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এলাকার সাধারণ মানুষও এই সন্ত্রাসী আচরণের কারণে আতঙ্কে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী রয়েছেন এবং তদন্ত করলে বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ হবে।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা-৮ এর স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ: ঢামেকে আশঙ্কাজনক

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:০৬ পিএম
ঢাকা-৮ এর স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ: ঢামেকে আশঙ্কাজনক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, হাদির মাথার ভেতরে গুলি রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “হাদিকে যখন আনা হয়, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। সিপিআর দেওয়ার পর এখন সামান্য রক্তচাপ ফিরে এসেছে। কানের আশপাশে গুলি লেগেছে এবং মাথার ভেতর গুলি রয়েছে।”

এর আগে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংক এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুজন দুর্বৃত্ত তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

হাদিকে উদ্ধারকারী মিসবাহ জানান, জুমার নামাজ পড়ে রিকশায় মতিঝিল-বিজয়নগর দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহীরা হঠাৎ গুলি চালায়। গুলি হাদির বাঁ কানের নিচে লাগে। পরে রিকশায় করেই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি—তিনি রিকশায় ছিলেন, তখনই মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়।”

উল্লেখ্য, এর আগেও শরিফ ওসমান হাদি হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানান। গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে হত্যা, বাড়িতে আগুন ও তার পরিবারের নারী সদস্যদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ১৪ নভেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিকের পায়ের অস্ত্রোপচার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০০ এম
ময়মনসিংহে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিকের পায়ের অস্ত্রোপচার

সংবাদ প্রকাশের জেরে আ’লীগের সন্ত্রাসী সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের বর্বরোচিত হামলার ৪ বছর পর দৈনিক নতুন সময় পত্রিকার ময়মনসিংহ ব্যুরো চীফ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বলের ডান পায়ের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর ) ইউনিভার্সেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন অর্থোপেডিক্স ও ট্রমাটোলজী বিভাগের ডাঃ মোহাম্মদ উল্লাহ শিমুল।

ডাঃ শিমুল জানিয়েছেন সাংবাদিক মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বলের ডান পায়ের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পূর্ন হয়েছে। তাকে অন্তত ১মাস ব্যান্ডেস ব্যবহার করে বিশ্রামে থাকতে হবে।

লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ের বেদখলে থাকা এক একর ভুমি সহ অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে “নিজের চরকায় তেল দাও” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বিদ্যালয়টির তৎকালীন স্ব-ঘোষিত রেক্টর ও চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মাস্টার এবং তার ছেলে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান ফয়সালের লালিত ও পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত’র রাজনৈতিক অনুসারী চরাঞ্চলের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের নেতৃত্বে হামলা করে সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল এর হাত-পা গুড়িয়ে দেয়। সন্ত্রাসীদের নির্মম আঘাতে মুমূর্ষু রক্তাক্ত আহত সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর অস্ত্রোপচার করে তার ডান পায়ে রড সংযোজন করা হয়। দীর্ঘ চার বছর পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে পরামর্শে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে পা থেকে রড অপসারণ হয়।

সাংবাদিক মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল জানান, লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ের অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মাস্টার ও তার ছেলের নির্দেশে শাহীনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলাসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তবে শত ব্যথা দুঃখ কষ্টের মাঝেও আমি শান্তি খোঁজে পাচ্ছি যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে দেশের পটপরিবর্তনের পর এডহক কমিটির সভাপতি এডিসি গোলাম মাসুম প্রধানের তদারকি ও স্থানীয়দের সহায়তায় বিদ্যালয়ের এক একর জমি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এটাই আমার শান্তি ও প্রাপ্তি এবং প্রকাশিত সংবাদের সফলতা। আমি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ন্যায়-নীতির সাথে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে ভুমিকা রাখতে পারি তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

এসময় সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল আক্ষেপ প্রকাশ করে আরও বলেন, সন্ত্রাসী সিদ্দিকুর রহমান শাহীন ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পরেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে (১১ সেপ্টেম্বর) রাজগঞ্জ সাহেব কাচারি বাজারে ‘বন্ধু মহল’ নামে একটি ক্লাব উদ্বোধন করেন। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান ফয়সাল।

দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় কতিপয় কিছু স্বার্থান্বেষী অর্থলোভী বিএনপি নেতা এই আওয়ামী দোষর ও সন্ত্রাসী শাহিনকে বিএনপিতে পুনর্বাসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের আত্মীয়তায় এজাহার নামীয় আসামি হয়েও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তাছাড়া কোতোয়ালী মডেল থানার সদ্য বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের মধ্যস্থতায় নালিশি বৈঠকে সিদ্দিকুর রহমান শাহীন আওয়ামী সন্ত্রাসী প্রমান হওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বস্ত করলেও বিদায় (ওসি) পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেননি।

কতিপয় বিএনপি নেতা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের ভূমিকায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজসহ ফ্যাসিস্ট বিরোধী সমাজের সুশীল সমাজ।

উল্লেখ, বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের নামে দায়েরকৃত আদালতে বিচারাধীন মামলা প্রত্যাহারের জন্য সাংবাদিকের এক একর জমির উপর ফিসারীর যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ৪ বছরে অন্তত ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে এবং কতিপয় এক বিএনপি নেতার মদদে অদ্যবধি পর্যন্ত ফিসারীর মাছ চাষ বন্ধ রয়েছে। কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং- ৯৮(৩)২০২১ইং।