শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির লালিত জুয়েলের যৌন হয়রানির শিকার এক শিক্ষার্থী

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫, ৪:৪২ পিএম
মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির লালিত জুয়েলের যৌন হয়রানির শিকার এক শিক্ষার্থী

সারাদেশে শিক্ষা অঙ্গনে শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি বন্ধের দাবিতে উত্তাল, ঠিক সেই মুহুর্তে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েলের যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা পায়নি একই কলেজের এক শিক্ষার্থী।

এমন কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং দ্বায়িত্বশীল শিক্ষক মণ্ডলীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষে ও ম্যানেজিং কমিটির লালিত ঐ ডেমোনেস্ট্রেটর বহু নারী কেলেংকারী মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান জুয়েল রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

সুত্র জানায়, যে কোন সময় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল সহ হামলার আশংকা রয়েছে।

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ জানান, কলেজটি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুয়াকাটায় বার্ষিক বনভোজন বা পিকনিকের আয়োজন করা হয়। ঐ বনভোজনে অত্র কলেজের ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েল কর্তৃক একই কলেজের এক ছাত্রী যৌন হয়রানি শিকার হন।

পরবর্তীতে ঐ ছাত্রী কলেজ অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগে সন্তোষজনক বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কলেজটির ম্যানেজিং কমিটির দ্বায়িত্বে থাকা মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর দ্বারস্থ হয়ে বিচার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, যৌন হয়রানির শিকার শিক্ষার্থী মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েলকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাকে শাসানো হয়েছে। এই প্রতিবেদক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে প্রশ্ন করেন যৌন হয়রানির বিচার কি শুধু শাসানো? তখন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজেকে মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, যৌন হয়রানির শিকার ঐ ছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে নমনীয়তা দেখানো হয়েছে।

এবিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি । অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জেনেছি, ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েল ঐ ছাত্রীকে পা দিয়ে স্পর্শ করেন। এবিষয়ে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন ? প্রতিবেদক এমন প্রশ্ন করলে তিনি কথা শেষ না করেই ফোন কেটে দেন।

ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েল সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, জুয়েল ইতিমধ্যে বহু নারী কেলেংকারীর পাশাপাশি ৩টি বিয়ে করেছেন। জুয়েলের বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী’গন বিভিন্ন সময় মুক্তাগাছার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে বিচার প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জুয়েলকে নির্বিত্ত করতে না পারায় তার স্ত্রী বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিচার প্রার্থী হয়েছে।

নারী লোভী দুশ্চরিত্র মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ডেমোনেস্ট্রেটর আক্তারুজ্জামান জুয়েলের এমন তৎপরতা বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সামাজিক এবং শিক্ষা-অঙ্গনের ভাবমূর্তি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে জানাযায়, শুধু নারী কেলেংকারীতেই সীমাবদ্ধ নয় তিনি। মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত শেখ মুহাম্মাদ আক্তারুজ্জামান জুয়েল অসংখ্য মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নিকটাত্মীয়সহ এলাকার প্রায় অর্ধশত পরিবারকে হয়রানি করছে।

অভিযোগ রয়েছে, একজন কম্পিউটার ডেমোনেস্টেটর পদে চাকুরী করলেও মামলার এজাহারে নিজেকে প্রভাষক দাবী করেছেন।

আরো জানাযায়, স্বায়ত্তশাসিত মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ে বছরে ২০দিন ছুটির নিয়ম থাকলেও এতসব মামলার হাজিরা নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘ দিনের। ৫ আগস্টের আগে এসকল তথ্যের জন্য অধ্যক্ষ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র, মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিল্লাল হোসেন সরকারের কাছে গেলে সাংবাদিকদের কোন তথ্য প্রদান করেননি। বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপন করে তাদের লালিত কম্পিউটার ডিমোনেস্টটরকে রেখেছেন বহাল তবিয়তে।

এবিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তিন বলেন, আক্তারুজ্জামান জুয়েল প্রভাষক না, সে যদি এ পরিচয় কোথাও ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আমার কি করার আছে। তবে তাকে প্রভাষক পরিচয় দিতে মৌখিকভাবে না করে দিয়েছি। আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমার ক্ষমতা অর্ধেক, তাই আমি চাইলে সব কিছুর ব্যবস্থা নিতে পারিনা বলে অপারগতা প্রকাশ করেন।

হত্যা মামলার আসামির হাতেই গুণীজন সংবর্ধনা, মঞ্চে ইউএনও-ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
হত্যা মামলার আসামির হাতেই গুণীজন সংবর্ধনা, মঞ্চে ইউএনও-ওসি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে আয়োজিত এক গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং সম্মাননা পদক বিতরণে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে ওই আসামি নিজেই পদক বিতরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে গৌরীপুর পৌর শহরে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন মানব কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশন আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই রাতে গৌরীপুর শহরের সতিষা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয় মানিক মিয়া (৪০)-কে একদল দুর্বৃত্ত তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. আহম্মদ আলীর ছেলে আল ইমরান খান (৩২)-সহ আটজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। আল ইমরান ওই মামলার তিন নম্বর আসামি।

মামলা দায়েরের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তারা উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন লাভ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেই জামিনে থাকা অবস্থাতেই বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আল ইমরান বিভিন্ন গুণীজনের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১১ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা, গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম শহীদ।

অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, অতিথিদের উপস্থিতিতেই আল ইমরান খান মঞ্চে অবস্থান করে সম্মাননা প্রদান কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। পরে তিনি নিজ ফেসবুক আইডিতে পদক বিতরণের ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ বিষয়ে আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মন্ডল বলেন, “আল ইমরান খান যে অনুষ্ঠানে আসবেন, তা আমাদের জানা ছিল না। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি হঠাৎ মঞ্চে উঠে পড়েন। ওই পরিস্থিতিতে তাকে বের করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। একটি সুন্দর আয়োজন একজন হত্যা মামলার আসামির উপস্থিতির কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া হাবিবুল ইসলাম শহীদ বলেন, “আমি গুণীজনের তালিকায় ছিলাম। মাইকে আমার নাম ঘোষণা করার পর আল ইমরানসহ কয়েকজন আমার হাতে পদক তুলে দেন। তিনি হত্যা মামলার আসামি-এ তথ্য আগে জানলে কখনোই তার হাত থেকে পদক গ্রহণ করতাম না।”

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে চিনিও না। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”

অন্যদিকে, বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় নিহত মানিক মিয়ার পরিবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিহতের ভাই শুক মিয়া বলেন, “এখন কিছু বলতে গেলেই আরও বিপদ হতে পারে। তাই আর কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না।”

হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির প্রকাশ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মঞ্চে উঠে সম্মাননা পদক বিতরণ এবং অনুষ্ঠান শেষে সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কি না, সেদিকে এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ এম
গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

আইন ও বিচারব্যবস্থার মুখচ্ছবি যখন অপরাধীদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সত্যকে থমকে দেওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু তাকে চিরতরে রুখে দেওয়া যায় না। গাজীপুরে প্রভাবশালীদের চোখ রাঙানি, চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব এবং পুলিশের চরম পক্ষপাতমূলক আচরণের বলির পাঁঠা হতে বসেছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে আইনের শাসন বিজয়ী হয়েছে এবং মিথ্যা, সাজানো মামলার কলঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন এই সাংবাদিক।

জানা যায়, জয়দেবপুর রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে তোলা দোকানপাট, কলাপট্টি এলাকার রাস্তা আটকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে অবাধ চাঁদাবাজির মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধকে কেন্দ্র করে। প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় যখন এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল, তখন সরেজমিনে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন। কিন্তু অপরাধের অন্ধকার জগত উন্মোচনের মাসুল তাঁকে দিতে হয় নিজের রক্ত দিয়ে। গত বছরের ৬ আগস্টে তথ্য ও স্থিরচিত্র সংগ্রহের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিক আনোয়ারের ওপর চড়াও হয় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। প্রকাশ্যে তাঁকে মারধর, ইট দিয়ে পা থেঁতলে দেওয়া এবং তথ্য সংগৃহীত মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনা সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এরপরও পুলিশের টনক নড়েনি।

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে, এই হামলাকারীরা সাধারণ কোনো দুষ্কৃতকারী নয়, তারা ইতিপূর্বে প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল উঁচিয়ে গোলাগুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টার সদর থানার ১৩(১০)২০২৪ নং মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। তবে ঘটনার আসল মোড় ঘোরে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও প্রভাবশালী মহলের গোপন আঁতাতের চিত্র সামনে আসার পর। জিএমপি কমিশনারের মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজু সাহা শিরোনামে খোলামেলা সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রশাসন ও অপরাধী চক্র। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সত্যের তোয়াক্কা না করে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ না জানিয়ে, প্রতিশোধের এক হিংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের ৩ দিনই সাংবাদিক আনোয়ারকে দমাতে সাজানো হয় এক কাল্পনিক চাঁদাবাজির নাটক। ১৮ দিন আগের পুরোনো এক মিথ্যা ঘটনা বানিয়ে চিহ্নিত সেই সন্ত্রাসীকে দিয়ে পেনাল কোডের ৩৮৫/৩৮৬ ধারায় সাংবাদিক আনোয়ারের বিরুদ্ধেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জিএমপি সদর থানার ৪৪(৮)২৫ নং মামলা। সত্য প্রকাশ করায় সংবাদকর্মীকে আইনি জালে ফাঁসিয়ে মুখ বন্ধ করার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলে।

তবে জালিয়াতি ও ক্ষমতার ক্ষমতার দাপটে বোনা মিথ্যার জাল শেষ পর্যন্ত আদালতেই ছিঁড়ে গেছে। মামলার খুঁটিনাটি ও মিথ্যা প্রসিকিউশন পর্যালোচনা শেষে গাজীপুরের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওমর হায়দার সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে এই ভিত্তিহীন মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস প্রদান করেছেন।

আদালতের এই রায় কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জয় নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সন্ত্রাসী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী চক্রের করা কুৎসিত আক্রমণের বিরুদ্ধে এক মোক্ষম চড়াও। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, সংবাদপত্রের সত্য প্রকাশকে মিথ্যা মামলা বা প্রশাসনিক পেশিশক্তি দিয়ে দমানো যায় না, সত্যের জয় অনিবার্য।

ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীর নাটকঘর লেনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুক (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১নং পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বুধবার নগরীর নাটকঘর লেন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পিসিপিআর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ফারুকের পিতা মৃত আনোয়ার হোসেন এবং মাতা নাজমা বেগম। তার বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই ও চুরিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ আরও জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পলাতক ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।