রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয়ে ডিআইজির অফিসে ‘বিশৃঙ্খলা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:৪৩ পিএম
ময়মনসিংহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয়ে ডিআইজির অফিসে ‘বিশৃঙ্খলা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয় দিয়ে ময়মনসিংহ পুলিশের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) অফিসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন একদল শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী সাগর হত্যা মামলার আসামি মহানগর জাসদের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা ইস্যুতে এই বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা ছিলেন উল্লেখ করলেও এ ঘটনার দায়ভার নেননি ছাত্র সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

 

গত ২৮ ডিসেম্বর বেলা ১২টার দিকে ডিআইজির অফিসে এই অপ্রীতিকর ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, ওই সময় চেয়ারে বসে থাকা পুলিশের উপমহাপরিদর্শক আশরাফুর রহমানের সামনে হইচই করছেন বেশ কয়েকজন। কেউ তাঁকে উচ্চ স্বরে ধমকান, কেউবা অভিযোগ করেন, কেউবা প্রশ্ন করে জবাব চান। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি।

 

৬ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও গত বুধবার নিজের ফেসবুক আইডিতে (ভেরিফায়েড নয়) শেয়ার করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাগর হত্যা মামলার আসামি তিনি।

 

ভিডিওটি আপলোড করে মোহিত উর রহমান শান্ত লেখেন, ‘আমাদের ময়মনসিংহের ডিআইজি সাহেবের সাথে মেধাবীদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময়’।

 

সেই ভিডিওতে শোনা যায়, শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘আপনি (ডিআইজি) প্রতি সপ্তাহে কেন বাড়িতে যান, তারাকান্দার ওসি আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন আর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ময়মনসিংহে নিহত রেদুয়ান আহমেদ সাগর হত্যা মামলার আসামিরা কেন ঘুরে বেড়াচ্ছেন?’

 

এ সময় ডিআইজি আশরাফুর রহমানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাদানুবাদ হয়। এর আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে শ্লোগান দিতে দিতে ডিআইজির কক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা যায় ওই ভিডিওতে।

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। এই ঘটনায় ফ্যাসিবাদী চক্রের ইন্ধন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।’

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী, জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী সাগর হত্যা মামলার আসামি মহানগর জাসদের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু। ওইদিন রাতেই তাঁকে ছাড়াতে থানায় যায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা ওই কাউন্সিলরকে ছাড়তে পুলিশকে চাপ দেয়।

 

কিন্তু গ্রেপ্তার কাউন্সিলর মিন্টু সাগর হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি হওয়ায় তাঁকে ছাড়তে পুলিশ অপারগতা প্রকাশ করায় তারা ক্ষুব্ধ হন। মূলত ওই ঘটনার জের ধরেই পরদিন ২৮ ডিসেম্বর ওই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ডিআইজি অফিসে গিয়ে তান্ডব সৃষ্টি করে বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি সূত্রের দাবি, ডিআইজি অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শিক্ষার্থীরা সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও সাবেক শিবির নেতা মেহেদী হাসান তারেকের সহযোগী। তাদের মধ্যে অনেকেই ছাত্রলীগের বর্তমান পদধারী ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তারা এর আগে বিআরটি অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, সদর উপজেলার অফিস কর্তার সঙ্গে বেয়াদবিসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর মধ্যে ডিআইজি অফিসের ঘটনায় ছিলেন ছাত্র সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সহযোগী সাইবে রাকাত, আল নূর আয়াশ, ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মাহাদী হাসান তারেক, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কর্মী মেহেদী হাসান সিয়াম, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের ওয়ার্ড শাখার সহসভাপতি সাকিব হাসান রিমন, ছাত্রলীগ কর্মী রোহান, অলি উল্লাহ, হৃদয় ও ছাত্রদল কর্মী রাকিবুল ইসলাম ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী নিহাল।

 

এ বিষয়ে ছাত্র সমন্বয়ক ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘যারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছিল, তারা সবাই আমাদের লোক। তাদের সঙ্গে একসাথে আন্দোলন করেছি, চলাফেরা উঠাবসা করি। তবে ডিআইজি অফিসে আমি যাইনি। সেখানকার ঘটনার দায়ভার আমার না, ওই ঘটনার ভালোমন্দের দায় তাদের। কাউন্সিলর মিন্টুর দুই ছেলে আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করেছে। তাই তার বাবা গ্রেপ্তার হওয়ার পর আমাকে জানালে আমরা কয়েকজন থানায় গিয়েছিলাম, কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে। আমি তাকে ছাড়াতে যাইনি। তবে আমার অনুরোধ ছিল, তার সাথে যেন অন্যায় না করা হয়।’

 

ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মাহাদী হাসান তারেক বলেন, ‘আমি এই ঘটনার কিছু জানি না। তবে ছেলেরা ডিআইজি অফিসে গিয়েছে, এমন খবর পেয়ে আমি তাদের ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলাম।’ তবে জামায়াত ও শিবিরের একাধিক নেতা বলেন, মাহাদী হাসান তারেক আগে শিবিরের সাথী ছিল। এখন আর তাঁর সাথে শিবিরের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

 

ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে ছাত্র আন্দোলনের অন‍্যতম সমন্বয়ক গোকূল সূত্রধর মানিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম‍্য নয়। এটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনাবিরোধী কাজ। আমি চাই, ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হোক।’

 

এই বিষয়ে ডিআইজি আশরাফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। এটি আন্দোলনের চেতনাবিরোধী কাজ। মূলত আওয়ামী দোসরদের ইন্দনে একটি গ‍্যাং এর আগেও বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছে। এটা কাম‍্য নয়।’

 

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আখতার উল আলম জানান, ‘আমি এই জেলায় নতুন জয়েন করেছি। ডিআইজি অফিসের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এদের পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এটা ঘটিয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রানার্সআপ মেডেল নিল ফুলবাড়িয়ার খুদে ফুটবলার মিতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:১৯ এম
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রানার্সআপ মেডেল নিল ফুলবাড়িয়ার খুদে ফুটবলার মিতুল

রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। এ প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী খুদে ফুটবলার মিতুল হাসান।

মিতুল হাসান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ২ নম্বর পুটিজানা ইউনিয়নের মৌহাতলা এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হাসানের ১৩ বছর বয়সী ছেলে। বর্তমানে সে ত্রিশাল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তার অদম্য আগ্রহ। প্রতিবেশী রিফাত আহমেদ রিজভীর হাত ধরে শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবলের সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে নিজের দক্ষতা আরও বিকশিত করতে ফুলবাড়িয়ার কেশরগঞ্জ বাজারে অবস্থিত কেএনবিএস যুব স্পোর্টিং একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করে মিতুল।

পড়ালেখার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নিষ্ঠার কারণে দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর দ্রুতই সে স্কুল দলের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়। তার অসাধারণ নৈপুণ্যের সুবাদে দলটি বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত চূড়ান্ত পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মেডেল গ্রহণ করতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত মিতুল। সে জানায়, এই স্বীকৃতি তার ভবিষ্যৎ ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মিতুলের এই সাফল্যে ফুলবাড়িয়া, ত্রিশালসহ সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, মিতুলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম হবে।

বিএমইউজে ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার নির্বাচিত

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
বিএমইউজে ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার নির্বাচিত

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) ফেনী জেলা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকালে ফেনী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন – সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান ও মো. গাজিউল হক; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল আলম নিলু ও মো. আতিকুর রহমান রোজেন; সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর হৃদয়; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিমাই চন্দ্র মজুমদার; কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান পলাশ; সহ-কোষাধ্যক্ষ মহি উদ্দিন মিয়াজী সেজু; দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম তোতা; সহ-দপ্তর সম্পাদক ফখরুল ইসলাম জুয়েল।

এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচার সম্পাদক হিসেবে আরাফাত হোসেন এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন নির্বাচিত হন।

নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, মোহাম্মদ শেখ কামাল, মো. ওবায়দুল হক, জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, আফতাব হোসেন মমিন ভূঁইয়া ও আলাউদ্দিন সবুজ।

সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আমির হোসেন তানভীর, জিয়া উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, জাফর ইমাম রতন এবং জহিরুল ইসলাম খান।

নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। একই দিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ জেলা সার্কেলের যৌথ আয়োজনে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আজকের এই আয়োজন মানবিক হলেও এটি আনন্দের নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলেও তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এর হার উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও জনগণের সচেতনতার বিকল্প নেই। রাস্তা পারাপারে সতর্কতা অবলম্বন, ফুটপাত ও মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং সড়ক আইন মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সড়ক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। যানবাহন চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে হবে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে গাড়ি চালানো কিংবা রাস্তা পার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধি, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী সরকারের ঘোষিত “পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি”-এর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলা লেডিস ক্লাব প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।