রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৫ ১৪৩২
রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৫ ১৪৩২

ময়মনসিংহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয়ে ডিআইজির অফিসে ‘বিশৃঙ্খলা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:৪৩ পিএম
ময়মনসিংহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয়ে ডিআইজির অফিসে ‘বিশৃঙ্খলা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয় দিয়ে ময়মনসিংহ পুলিশের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) অফিসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন একদল শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী সাগর হত্যা মামলার আসামি মহানগর জাসদের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা ইস্যুতে এই বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা ছিলেন উল্লেখ করলেও এ ঘটনার দায়ভার নেননি ছাত্র সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

 

গত ২৮ ডিসেম্বর বেলা ১২টার দিকে ডিআইজির অফিসে এই অপ্রীতিকর ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, ওই সময় চেয়ারে বসে থাকা পুলিশের উপমহাপরিদর্শক আশরাফুর রহমানের সামনে হইচই করছেন বেশ কয়েকজন। কেউ তাঁকে উচ্চ স্বরে ধমকান, কেউবা অভিযোগ করেন, কেউবা প্রশ্ন করে জবাব চান। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি।

 

৬ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও গত বুধবার নিজের ফেসবুক আইডিতে (ভেরিফায়েড নয়) শেয়ার করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাগর হত্যা মামলার আসামি তিনি।

 

ভিডিওটি আপলোড করে মোহিত উর রহমান শান্ত লেখেন, ‘আমাদের ময়মনসিংহের ডিআইজি সাহেবের সাথে মেধাবীদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময়’।

 

সেই ভিডিওতে শোনা যায়, শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘আপনি (ডিআইজি) প্রতি সপ্তাহে কেন বাড়িতে যান, তারাকান্দার ওসি আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন আর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ময়মনসিংহে নিহত রেদুয়ান আহমেদ সাগর হত্যা মামলার আসামিরা কেন ঘুরে বেড়াচ্ছেন?’

 

এ সময় ডিআইজি আশরাফুর রহমানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাদানুবাদ হয়। এর আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে শ্লোগান দিতে দিতে ডিআইজির কক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা যায় ওই ভিডিওতে।

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। এই ঘটনায় ফ্যাসিবাদী চক্রের ইন্ধন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।’

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী, জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী সাগর হত্যা মামলার আসামি মহানগর জাসদের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু। ওইদিন রাতেই তাঁকে ছাড়াতে থানায় যায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা ওই কাউন্সিলরকে ছাড়তে পুলিশকে চাপ দেয়।

 

কিন্তু গ্রেপ্তার কাউন্সিলর মিন্টু সাগর হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি হওয়ায় তাঁকে ছাড়তে পুলিশ অপারগতা প্রকাশ করায় তারা ক্ষুব্ধ হন। মূলত ওই ঘটনার জের ধরেই পরদিন ২৮ ডিসেম্বর ওই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ডিআইজি অফিসে গিয়ে তান্ডব সৃষ্টি করে বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি সূত্রের দাবি, ডিআইজি অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শিক্ষার্থীরা সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও সাবেক শিবির নেতা মেহেদী হাসান তারেকের সহযোগী। তাদের মধ্যে অনেকেই ছাত্রলীগের বর্তমান পদধারী ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তারা এর আগে বিআরটি অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, সদর উপজেলার অফিস কর্তার সঙ্গে বেয়াদবিসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর মধ্যে ডিআইজি অফিসের ঘটনায় ছিলেন ছাত্র সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সহযোগী সাইবে রাকাত, আল নূর আয়াশ, ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মাহাদী হাসান তারেক, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কর্মী মেহেদী হাসান সিয়াম, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের ওয়ার্ড শাখার সহসভাপতি সাকিব হাসান রিমন, ছাত্রলীগ কর্মী রোহান, অলি উল্লাহ, হৃদয় ও ছাত্রদল কর্মী রাকিবুল ইসলাম ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী নিহাল।

 

এ বিষয়ে ছাত্র সমন্বয়ক ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘যারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছিল, তারা সবাই আমাদের লোক। তাদের সঙ্গে একসাথে আন্দোলন করেছি, চলাফেরা উঠাবসা করি। তবে ডিআইজি অফিসে আমি যাইনি। সেখানকার ঘটনার দায়ভার আমার না, ওই ঘটনার ভালোমন্দের দায় তাদের। কাউন্সিলর মিন্টুর দুই ছেলে আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করেছে। তাই তার বাবা গ্রেপ্তার হওয়ার পর আমাকে জানালে আমরা কয়েকজন থানায় গিয়েছিলাম, কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে। আমি তাকে ছাড়াতে যাইনি। তবে আমার অনুরোধ ছিল, তার সাথে যেন অন্যায় না করা হয়।’

 

ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মাহাদী হাসান তারেক বলেন, ‘আমি এই ঘটনার কিছু জানি না। তবে ছেলেরা ডিআইজি অফিসে গিয়েছে, এমন খবর পেয়ে আমি তাদের ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলাম।’ তবে জামায়াত ও শিবিরের একাধিক নেতা বলেন, মাহাদী হাসান তারেক আগে শিবিরের সাথী ছিল। এখন আর তাঁর সাথে শিবিরের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

 

ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে ছাত্র আন্দোলনের অন‍্যতম সমন্বয়ক গোকূল সূত্রধর মানিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম‍্য নয়। এটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনাবিরোধী কাজ। আমি চাই, ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হোক।’

 

এই বিষয়ে ডিআইজি আশরাফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। এটি আন্দোলনের চেতনাবিরোধী কাজ। মূলত আওয়ামী দোসরদের ইন্দনে একটি গ‍্যাং এর আগেও বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছে। এটা কাম‍্য নয়।’

 

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আখতার উল আলম জানান, ‘আমি এই জেলায় নতুন জয়েন করেছি। ডিআইজি অফিসের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এদের পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এটা ঘটিয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ময়মনসিংহে ৬ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

গৌরীপুর প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ১:০৭ এম
ময়মনসিংহে ৬ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নাসিমা আক্তার কনা (৩৬) নামে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গৌরীপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এসআই মো. মহসীন হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক নারী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সঙ্গীয় নারী কনস্টেবলের সহায়তায় তাকে একটি হলুদ রঙের শপিং ব্যাগসহ আটক করা হয়।

পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে ৩০টি সবুজ রঙের জিপার প্যাকেটে রাখা মোট ৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা। গ্রেফতারকৃত নাসিমা আক্তার কনা গৌরীপুর পৌরসভার নতুন বাজার এলাকার আব্দুল আজিজ সরদারের মেয়ে এবং ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার আকুয়া বাইপাস এলাকার জুলহাস মিয়ার স্ত্রী।

এ ঘটনায় এসআই মো. মহসীন হাসান বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মমেক হাসপাতালে রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন নিশ্চিত করার আহবান- ওয়াহাব আকন্দ এমপি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম
মমেক হাসপাতালে রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন নিশ্চিত করার আহবান- ওয়াহাব আকন্দ এমপি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) সকালে পরিদর্শন কালে স্বাস্থ্যসেবায় রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন ও সদাচরণ নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ সদর-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের রোগীসেবার মান, চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা-সেবা নিয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় রোগীদের স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলে হাসপাতালের সেবার মান সম্পর্কে মতামত শোনেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। প্রত্যেক রোগী যেন যথাযথ, সময়োপযোগী ও মানবিক চিকিৎসা সেবা পান, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানবিক সেবার মহান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করছে। এই উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ মানুষ সরাসরি পায়, সে বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ সময় হাসপাতালের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে এমপিকে অবহিত করেন। এমপি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীদের সঙ্গে সদাচরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি নির্দেশ দেন, জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে এবং কোনো রোগী যেন অবহেলার শিকার না হন। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের সময়মতো উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কঠোর মনোযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান সন্তোষজনক হলেও কিছু বিষয়ে উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে মত দেন তিনি। দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর যানবাহন শাখায় দুর্নীতির রাজত্ব: লাইসেন্সবিহীন চালকে চলছে সরকারি গাড়ি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৪ এম
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর যানবাহন শাখায় দুর্নীতির রাজত্ব: লাইসেন্সবিহীন চালকে চলছে সরকারি গাড়ি

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন শাখায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা ও ড্রাইভারের যোগসাজশে বরাদ্দকৃত গাড়ি একাধিক ব্যক্তি দিয়ে চালানো, বহিরাগত ও লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে সরকারি যানবাহন পরিচালনা এবং মাসিক ভাতার ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এতে সরকারি সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, যান্ত্রিক প্রকৌশলী নির্বাহী (শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) শফি কামালের নির্দেশে বহিরাগত চালকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে সরকারি গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে অফিসের নিয়মিত নিয়োগপ্রাপ্ত চালকেরা অনেক সময় বসে থাকলেও বাইরে থেকে আনা ব্যক্তিরা মৌখিক নির্দেশে গাড়ি পরিচালনা করেন।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন: যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে দায়ভার কে নেবে? মৌখিক নির্দেশে বহিরাগত ও অননুমোদিত চালকদের দিয়ে গাড়ি চালানো আইনগতভাবেও গুরুতর অপরাধ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ড্রাইভার সিদ্দিকের নামে দুটি গাড়ি বরাদ্দ থাকলেও তিনি দিনে ও রাতে পৃথকভাবে দুটি গাড়ি পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, একটি গাড়ি দিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া এবং অন্যটি দিয়ে রাস্তায় পানি ছিটানোর কাজ করা হয়। অভিযোগকারীদের মতে, একই ব্যক্তির নামে দুটি গাড়ি বরাদ্দ ও পরিচালনা প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী এবং এতে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ড্রাইভার রাজার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ। তার নামে দুটি গাড়ি বরাদ্দ এবং দুটি মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ড্রাইভারদের তুলনায় তার বেতন বেশি এবং তিনি মাস্টাররোলভুক্ত হিসেবেও অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ড্রাইভার খালেকের নামে বরাদ্দকৃত ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক বাস্তবে চালান ফারুক নামে আরেক ব্যক্তি, যার কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা চাকরির কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ভারী যানবাহন পরিচালনা জননিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোলার চালক বারেকের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শফি কামালের নির্দেশে বোম এক্সাভেটর (২) ও রোলার নিজে এবং তার ভাতিজা বিল্লালকে দিয়ে পরিচালনা করছেন। বিল্লালের সিটি কর্পোরেশনে কোনো চাকরি নেই এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

জানা যায়, ময়লাকান্দা এলাকায় বোম এক্সাভেটর (২) গত দুই বছর ধরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পরিচালিত হচ্ছে, অথচ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত চালকেরা বসে থাকেন। বর্তমানে আরও একটি ড্রোজারও বারেক নিজে পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বহিরাগত চালকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে তাদের দিয়ে সরকারি গাড়ি চালানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্বহীন হয়ে পড়ছেন, অন্যদিকে সরকারি অর্থ ও সম্পদের অপব্যবহার হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি যানবাহন পরিচালনায় সঠিক নথিপত্র, বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় দুর্ঘটনা ঘটলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে এবং ক্ষতিপূরণ বা দায়ভার নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং সরকারি যানবাহন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

এ বিষয়ে যান্ত্রিক প্রকৌশলী নির্বাহী শফি কামাল মঠো ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বৃত্তিহীন। তবে মাস্টার রোলে তারা কাজ করছে। তিনি দায় শিকার এরিয়ে যান।