বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

নির্বাচন কমিশনসহ ৩ কর্মকর্তার পদত্যাগ

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে চরম অচল অবস্থা সহিংস ঘটনার আশংকা

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৯:৫৮ পিএম
ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে চরম অচল অবস্থা সহিংস ঘটনার আশংকা

ময়মনসিংহ নগরীর গাঙ্গিনাপাড়ে অবস্থিত ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব। সম্প্রতি ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন ২০২৫ এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হতে একযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ৩ জন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

 

তিনজন কর্মকর্তা হলেন রিটার্নিং অফিসার এডভোকেট এ.এইচ.এম খালেকুজ্জামান,ডা.কে.আর. ইসলাম ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো.আ.সামাদ আজাদী। গত (২৩ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক বরাবর তাঁদের স্বাক্ষরিত এ পদত্যাগ পত্র পাঠান।

 

পদত্যাগপত্রে তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদ এর নির্বাচন পরিচালনা করিয়া আসিতেছি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের কোন নির্বাচন প্রার্থী কিংবা সদস্য নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে এবং আমাদের কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিয়ে কেহ কোন সময়ই প্রশ্ন তুলে নাই। কিন্তু এবার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন/২০২৫ এর একটি প্যানেলের প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী আমাদের কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলেছেন যে, আমরা নিরপেক্ষ নই। ইতিমধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তাকে ফোনে তিনি হুমকি দিচ্ছেন যে, প্রেসক্লাবে সে যেন আর না যায়। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্বাচন পরিচালনা কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারন ডাইরী (জিডি) করেছেন। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের প্রার্থীদের নমিনেশন পেপার দাখিলের দিন এক পক্ষের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তাদের নমিনেশন দাখিল করে সেই কক্ষেই তালা দিয়ে কিছু বহিরাগত লোক নিয়ে অন্য কেহ যেন কোন নমিনেশন পেপার দাখিল করতে না পারে তার বাধার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার স্বয়ং প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে প্রেসক্লাবের চলমান সাধারণ সম্পাদক অমিত রায়ের উপস্থিতিতে অপর পক্ষের নমিনেশন পেপারে স্বাক্ষর ও তারিখ দিয়ে তা গ্রহণ করেন। এসময় প্রেসক্লাবের হিসাব রক্ষকের কক্ষে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর মাধ্যমে বাধাগ্রস্থ হন। উল্লিখিত পরিস্থিতিতে আমরা নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রম করতে নিরাপদবোধ করছিনা। বিধায় আমরা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হইতে একযোগে ০৩ (তিন) জন কর্মকর্তা পদত্যাগ করিলাম।

 

এ ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনা সংঘর্ষে গড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তথ্য মতে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের লক্ষ্যে ২৭ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

 

এদিকে,৫ই আগষ্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সারাদেশের সকল প্রেসক্লাব ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্ত হলেও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে এখনো সেই ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদাধিকার বলে সভাপতি জেলা প্রশাসক। তবে স্থানীয় সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনে বর্তমান ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক এ প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে থাকবেন না বলে জানিয়েছেন। এবং ময়মনসিংহে যোগদানের পর নতুন জেলা প্রশাসক এখন পর্যন্ত প্রেসক্লাবের কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেননি বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

 

সূত্র জানায়, বিভাগীয় নগরী হওয়ায় ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের সংখ্যাও ব্যাপক হারে বাড়ছে। তবে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে অ-সাংবাদিক (আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবি) থাকায় গঠনতন্ত্র সংশোধনসহ পেশাদার সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবে অন্তর্ভূক্তসহ এ প্রেসক্লাবটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় বঞ্চিত সাংবাদিকরা বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কারে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক মোঃ শামসুল আলম খান ও সদস্য সচিব আজগর হোসেন রবিনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে অবস্থান করে ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে অন্তর্ভূক্ত করা এবং প্রেসক্লাব সংস্কার শেষে সকল সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আহ্বান জানান।

 

কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রেসক্লাবে নির্বাচনের ঘটনায় বিভিন্ন হুমকির অভিযোগ এনে সাংবাদিক বাবুল হোসেন একটি জিডি করেছেন। আমরা তদন্ত করছি। এসআই সোলাইমান এর দায়িত্বে আছেন।

গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ এম
গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

আইন ও বিচারব্যবস্থার মুখচ্ছবি যখন অপরাধীদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সত্যকে থমকে দেওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু তাকে চিরতরে রুখে দেওয়া যায় না। গাজীপুরে প্রভাবশালীদের চোখ রাঙানি, চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব এবং পুলিশের চরম পক্ষপাতমূলক আচরণের বলির পাঁঠা হতে বসেছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে আইনের শাসন বিজয়ী হয়েছে এবং মিথ্যা, সাজানো মামলার কলঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন এই সাংবাদিক।

জানা যায়, জয়দেবপুর রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে তোলা দোকানপাট, কলাপট্টি এলাকার রাস্তা আটকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে অবাধ চাঁদাবাজির মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধকে কেন্দ্র করে। প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় যখন এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল, তখন সরেজমিনে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন। কিন্তু অপরাধের অন্ধকার জগত উন্মোচনের মাসুল তাঁকে দিতে হয় নিজের রক্ত দিয়ে। গত বছরের ৬ আগস্টে তথ্য ও স্থিরচিত্র সংগ্রহের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিক আনোয়ারের ওপর চড়াও হয় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। প্রকাশ্যে তাঁকে মারধর, ইট দিয়ে পা থেঁতলে দেওয়া এবং তথ্য সংগৃহীত মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনা সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এরপরও পুলিশের টনক নড়েনি।

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে, এই হামলাকারীরা সাধারণ কোনো দুষ্কৃতকারী নয়, তারা ইতিপূর্বে প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল উঁচিয়ে গোলাগুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টার সদর থানার ১৩(১০)২০২৪ নং মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। তবে ঘটনার আসল মোড় ঘোরে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও প্রভাবশালী মহলের গোপন আঁতাতের চিত্র সামনে আসার পর। জিএমপি কমিশনারের মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজু সাহা শিরোনামে খোলামেলা সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রশাসন ও অপরাধী চক্র। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সত্যের তোয়াক্কা না করে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ না জানিয়ে, প্রতিশোধের এক হিংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের ৩ দিনই সাংবাদিক আনোয়ারকে দমাতে সাজানো হয় এক কাল্পনিক চাঁদাবাজির নাটক। ১৮ দিন আগের পুরোনো এক মিথ্যা ঘটনা বানিয়ে চিহ্নিত সেই সন্ত্রাসীকে দিয়ে পেনাল কোডের ৩৮৫/৩৮৬ ধারায় সাংবাদিক আনোয়ারের বিরুদ্ধেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জিএমপি সদর থানার ৪৪(৮)২৫ নং মামলা। সত্য প্রকাশ করায় সংবাদকর্মীকে আইনি জালে ফাঁসিয়ে মুখ বন্ধ করার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলে।

তবে জালিয়াতি ও ক্ষমতার ক্ষমতার দাপটে বোনা মিথ্যার জাল শেষ পর্যন্ত আদালতেই ছিঁড়ে গেছে। মামলার খুঁটিনাটি ও মিথ্যা প্রসিকিউশন পর্যালোচনা শেষে গাজীপুরের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওমর হায়দার সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে এই ভিত্তিহীন মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস প্রদান করেছেন।

আদালতের এই রায় কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জয় নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সন্ত্রাসী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী চক্রের করা কুৎসিত আক্রমণের বিরুদ্ধে এক মোক্ষম চড়াও। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, সংবাদপত্রের সত্য প্রকাশকে মিথ্যা মামলা বা প্রশাসনিক পেশিশক্তি দিয়ে দমানো যায় না, সত্যের জয় অনিবার্য।

ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীর নাটকঘর লেনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুক (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১নং পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বুধবার নগরীর নাটকঘর লেন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পিসিপিআর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ফারুকের পিতা মৃত আনোয়ার হোসেন এবং মাতা নাজমা বেগম। তার বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই ও চুরিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ আরও জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পলাতক ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে: এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম
সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে: এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতি। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক কর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তাঁদের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শিষ্টাচার এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা এবং জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল দুই মাসের কোনো কর্মসূচি ছিল না; এটি গত ১৬-১৭ বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে সারাদেশের মানুষের গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, নারী এবং সরকারি কর্মচারীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন সফল হয় এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে। অস্ত্র ছাড়াই এই আন্দোলনের বিজয় মানুষের অদম্য মনোবল ও ঐক্যের অনন্য উদাহরণ।

জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, আহতদের তালিকা চূড়ান্ত করা এবং শহীদদের স্মরণে নামফলক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সন্তান হারানোর বেদনা কেবল সেই পরিবারই উপলব্ধি করতে পারে, যারা এই শোকের মধ্য দিয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান রোকন বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একার নয়; এটি দেশের আপামর মানুষের আন্দোলন। এই চেতনাকে বিভাজনের হাতিয়ার না করে ধারণ ও লালনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত না করে প্রকৃত অবদানকে যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।

এ সময় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুমনা আল মজীদ, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।