রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মিঠামইনে শিক্ষার মানোন্নয়নে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫১ পিএম
মিঠামইনে শিক্ষার মানোন্নয়নে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভা

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাউছারুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান ভূঁইয়া রিটু, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান ভূঁইয়া, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা শেরজাহান মুমিনী, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত আকরাম হোসেন রাজ, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী রতন শিকদার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ চন্দ্র বিশ্বাস, এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য ধন মিয়া, বিএনপি নেতা এরশাদুল হক, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মিয়া, সাবেক অভিভাবক সদস্য সোহরাব হাসান ভূঁইয়া, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি সাবলু, সাবেক ছাত্র তোফাজ্জল হোসেন, চিকিৎসক আলাউদ্দিন এবং শিক্ষার্থী সিনথিয়া আক্তার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহাউদ্দিন।

সভায় বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, মানসম্মত পাঠদান এবং শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বিত দায়িত্ববোধ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পরিবার ও বিদ্যালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট কাউছারুল আলম ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আকরাম হোসেন রাজ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি পাঠদানে নিয়মিততা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

মাওলানা শেরজাহান মুমিনী বলেন, একটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন শুধু শিক্ষক বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একার দায়িত্ব নয়। প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বিদ্যালয়কে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং বিদ্যালয়কে আরও সুন্দর, আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

শেষে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

জাল আইডি-বিআরএসে দলিল তৈরির অভিযোগে দলিল লেখক সাবেক কৃষকলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিনের লাইসেন্স বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম
জাল আইডি-বিআরএসে দলিল তৈরির অভিযোগে দলিল লেখক সাবেক কৃষকলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিনের লাইসেন্স বাতিল

ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জাল বিএস/বিআরএস খতিয়ান ব্যবহার করে একাধিক জাল দলিল তৈরির অভিযোগে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক হেলাল উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার তার দলিল লেখার কার্যক্রম স্থগিত করে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হেলাল উদ্দিন সরকার ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি গোয়াতলা বরাটিয়া গ্রামের মৃত কাসম আলী মুন্সির ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়কে কেন্দ্র করে একটি জালিয়াত চক্র ও সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন হেলাল উদ্দিন। ভুয়া পরিচয়পত্র ও জাল খতিয়ান ব্যবহার করে জমির দলিল তৈরি, জমির মালিকানা পরিবর্তন এবং বিভিন্ন অনিয়মে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

২০১৯ সালের দলিল নিয়ে অভিযোগ

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর একটি দলিল তৈরিতে জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুভাষ চন্দ্র দত্ত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে হেলাল উদ্দিন সরকারের বক্তব্য, ঘটনাগুলো অনেক আগের হওয়ায় কীভাবে কী হয়েছে, তা এখন তার মনে নেই।

অষ্টম শ্রেণি পাসেই দলিল লেখকের লাইসেন্স!

হেলাল উদ্দিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস হলেও কীভাবে তিনি দলিল লেখকের লাইসেন্স পেয়েছেন এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ওই সময়ে সাব-রেজিস্ট্রার আমাকে সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

জমি ও দলিলসংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় গোয়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি থাকাকালে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১০ সালে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি প্রার্থী বসিয়ে অন্তত সাত থেকে আটজন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিটন, আকতাব উদ্দিন, মঞ্জু এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের নিয়োগ নিয়েও অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠে অনুমোদন ছাড়াই গরুর হাট বসানো এবং দোকানঘর নির্মাণ করে সেখান থেকে পাওয়া অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সম্পদ ও জমি দখলের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, দলিল লেখার কাজ, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন হেলাল উদ্দিন। প্রতিবেশীদের জমি দখল, জমির সীমানা বাড়িয়ে নেওয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা ও ভয়ভীতি দেখানো হতো।

ছেলের বিরুদ্ধেও মাদক মামলার অভিযোগ

হেলাল উদ্দিনের ছেলে মোকামেল মিয়ার বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোকামেলের দ্বিতীয় স্ত্রী নুরজাহানের বিরুদ্ধেও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তিনি মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

‘তখনকার সরকারের সময় অনেক কিছু করতে হয়েছে’

অভিযোগের বিষয়ে হেলাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘অনেক আগের বিষয়। কীভাবে কী হয়েছে, এখন আমার কিছুই মনে নেই।’

অষ্টম শ্রেণি পাস হয়ে কীভাবে দলিল লেখকের লাইসেন্স পেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে সাব-রেজিস্ট্রার আমাকে সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি থাকা অবস্থায় অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তখনকার সরকারের সময় অনেক কিছু করতে হয়েছে। এখন আমাকে দোষী বানানো হচ্ছে।’

‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা’

ধোবাউড়ার সাব-রেজিস্ট্রার আজমেরী নির্ঝর বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক হেলাল উদ্দিন সরকার ও জাহাঙ্গীর আলম খানের দলিল লেখার কার্যক্রম বুধবার প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. সালমান ওমর রুবেল বলেন, ‘আমার কাছে ভুক্তভোগী অভিযোগ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে দলিল লেখকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, পূর্বের তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার রেকর্ড পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ডেপুটেশনেই বছরের পর বছর, বাড়ি-ফ্ল্যাট-দোকানের মালিকানার অভিযোগ

মো: সাজ্জাত মিয়া, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম
ডেপুটেশনেই বছরের পর বছর, বাড়ি-ফ্ল্যাট-দোকানের মালিকানার অভিযোগ

ময়মনসিংহ খাদ্য বিভাগের পরিদর্শক শাহ মাজহারুল হক কামালকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ডেপুটেশন, মূল কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং বদলি-বাণিজ্য, ঠিকাদারি, জুয়ার আসর থেকে অর্থ আদায়সহ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তালিকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ি, দোকান, গাড়ি এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের তথ্য রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে তার আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি-ফ্ল্যাটের দলিল ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী, ময়মনসিংহ নগরীর ইনডেক্স প্লাজায় ৭সি নম্বর একটি ফ্ল্যাট, আমলাপাড়ার একটি মাদ্রাসার পাশে একটি ফ্ল্যাট এবং দুর্গাবাড়ী রোডে একটি দোকানের মালিকানার সঙ্গে শাহ কামালের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হচ্ছে। কাঁচিঝুলিতে দুই ভাইয়ের নামে ছয়তলা ভবনের ভিত্তির ওপর নির্মিত চারতলা একটি বাড়ি এবং নতুন বাজারের ফারহান কমপ্লেক্সে দুটি ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার কথাও অভিযোগে রয়েছে।

এ ছাড়া গফরগাঁওয়ের জামতলা মোড়ে একটি দোকান এবং ইমামবাড়ী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন বাজারে একাধিক দোকান থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঢাকার উত্তরা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ময়মনসিংহের ঢাকা বাইপাস মোড়ে এসএসসি-৯৩ ব্যাচের বন্ধুদের সম্মিলিত উদ্যোগে কেনা জমিতে তার তিনটি শেয়ার রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

গাড়ির মালিক অন্যজন, ব্যবহার শাহ কামালের

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়িও। ঢাকা মেট্রো-গ-৪৩-২৬৪৭ নম্বরের গাড়িটি ময়মনসিংহ খাদ্য বিভাগের পরিবহন ঠিকাদার ও সাবেক যুবলীগ নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে আজাদের নামে নিবন্ধিত হলেও শাহ কামাল এটি ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গাড়িটি মফিজ উদ্দিন ইনডেক্স প্লাজার গ্যারেজে রাখা হয় বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।

তবে গাড়িটির প্রকৃত মালিকানা, ব্যবহার এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিআরটিএর নিবন্ধন তথ্য, গাড়ির কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

স্বজনদের নামে বিনিয়োগের অভিযোগ

শাহ মাজহারুল ইসলাম কামালের স্ত্রী নূরজাহান বেগম, ছোট ভাই শাহ ইশতিয়াক রুবেল এবং শ্যালক ফাহিমের নামে বিভিন্ন জায়গা ও ব্যবসায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের প্রকৃত উৎস এবং শাহ কামালের সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এ জন্য তার আয়কর নথি, আয়-ব্যয়ের বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, কোম্পানি বা অন্যান্য বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। একই সঙ্গে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে তদন্তের দাবিও উঠেছে।

খাদ্য পরিদর্শক সমিতির কার্যালয়ে জুয়ার আসর?

অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজার কাঁচাবাজারে গেন্দু মিয়ার হোটেলের পাশে ময়মনসিংহ খাদ্য পরিদর্শক সমিতির কার্যালয়ে প্রতি রাতে জুয়ার আসর বসে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে শাহ কামাল ‘বিডার’ হিসেবে যুক্ত এবং ওই আসর থেকে প্রতিদিন আনুমানিক এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে জুয়ার আসর বসা, সেখানে শাহ কামালের সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক: ‘খোঁজ নেব’

অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাসানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছি। এগুলোর খোঁজ নেব।”

ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) আশরাফুল আলম বলেন, শাহ কামাল তার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তার সময়ে কামালের ডেপুটেশন-সংক্রান্ত কোনো আদেশ হয়নি বলেও জানান তিনি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, “অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগ অস্বীকার শাহ কামালের

এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহ মাজহারুল হক কামালের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে আসা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

অন্যদিকে, গফরগাঁও ও ময়মনসিংহের একাধিক সংবাদকর্মীর অনুসন্ধান এবং খাদ্য বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য-উপাত্তে শাহ কামালের সম্পদ, কর্মস্থল ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আরও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

তবে অভিযোগে উল্লেখ করা সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, বাজারমূল্য, অর্থের উৎস এবং শাহ কামালের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড ও আর্থিক নথি যাচাই করা জরুরি।

তদন্তের দাবি

দীর্ঘদিনের ডেপুটেশন, মূল কর্মস্থলে না ফেরার কারণ, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, কথিত জুয়ার আসর থেকে অর্থ আদায় এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সবকিছু একসঙ্গে খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তাদের দাবি, শুধু অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে শাহ কামালের চাকরির পুরো কর্মকাল, ডেপুটেশন ও বদলির নথি, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দলিল, গাড়ির মালিকানা ও ব্যবহার এবং স্বজনদের নামে থাকা সম্পদের অর্থের উৎস যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

ময়মনসিংহে NID করতে এসে রোহিঙ্গা নারী ও সহযোগী আটক

মো: সাজ্জাত মিয়া, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম
ময়মনসিংহে NID করতে এসে রোহিঙ্গা নারী ও সহযোগী আটক

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) তৈরির জন্য এসে এক রোহিঙ্গা নারী ও তাঁর এক সহযোগী আটক হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তারাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য গেলে পরিচয় যাচাইয়ের সময় ওই নারীর নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে যাচাই-বাছাই করে তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক বলে শনাক্ত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ সময় ওই নারী ও তাঁর এক সহযোগীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কীভাবে ওই নারী বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় এসেছিলেন, তাঁর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো চক্র কাজ করছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।